সব

ঘরের কাজের মূল্য কী?

তৌহিদা শিরোপা
প্রিন্ট সংস্করণ

নারীরা ঘরে যে কাজ করেন তা মূল্যায়ন করার সময় এসেছে l ছবি: সাহাদাত পারভেজতিন বন্ধুর আড্ডা। বউদের প্রসঙ্গ এল। দুই বন্ধুর বউ কর্মজীবী। তৃতীয় বন্ধু বেশ তাচ্ছিল্যের সঙ্গেই বলেন, ‘আমার বউ কিছু করে না। ঘরেই থাকে।’ মা, বউ যে গৃহিণী এটা বলতে কারও কারও যেন বাধে। ঘরে দিনরাত কাজ করেন, তার স্বীকৃতি, মূল্যায়ন বা মর্যাদা তো মেলেই না। বরং কাউকে কাউকে শুনতে হয় খোঁটাও। সংসার আর সন্তানের সুখ-শান্তির কথা ভেবে অনেক কর্মজীবী নারী চাকরি ছেড়ে ঘরের কাজ করেন। তাঁর এই ত্যাগের কথা কেউ মনে রাখে না। মেলে না কোনো মূল্য।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেও এ বছর গৃহস্থালির কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটা সূচক আছে। সম্প্রতি নানাভাবে বারবার আলোচনায় এসেছে এ বিষয়টি। এই ঘরের কাজের স্বীকৃতি থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আমরা আরও এগিয়ে যাব। বাংলাদেশে নারীদের ঘরের কাজের আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ কোটি টাকা। গবেষকেরা মনে করেন, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অবদান ২০ শতাংশ। সেই হিসাবে জিডিপিতে নারীর অবদান দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশ।
২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে দিতে নারীর এই স্বীকৃতি প্রয়োজন। এক তথ্যে দেখা গেছে, ভারতে নারীরা মজুরিহীন কাজ করেন ছয় ঘণ্টা। পুরুষেরা করেন এক ঘণ্টা। নারীর দুই ঘণ্টা মজুরিহীন শ্রম কমলে শ্রমবাজারে তাঁর ১০ শতাংশ অংশগ্রহণ বাড়বে।  মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্প্রতি ‘জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের অবদান নিরূপণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক একটি গবেষণা করেছে। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি জরিপ সম্পন্ন হয়। জরিপে অংশ নিয়েছেন ৮ হাজার ৩২০ জন নারী এবং ৫ হাজার ৩২০ জন পুরুষ। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ বছর বা বেশি বয়সের একজন নারী জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় না এমন কাজ গড়ে প্রতিদিন পুরুষের তুলনায় তিন গুণ করে। এ ধরনের কাজে নারীর সময় ব্যয় হয় ৭ দশমিক ৭ ঘণ্টা। অন্যদিকে পুরুষ সময় ব্যয় করে ২ দশমিক ৫ ঘণ্টা। গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই এই চিত্র দেখা গেছে।
১৯৯৫ সালে বেইজিং সম্মেলনে ইউএনডিপি মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। অর্থনীতিবিদ প্রতিমা পাল মজুমদার প্রথমআলোকে বলেন, ‘২০ বছর আগে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিশ্বের নারীদের মজুরিহীন শ্রমের মূল্য তিন ট্রিলিয়ন ডলার হবে। তবে আরেকটি বিষয় নিয়ে ভাবার আছে। ধরা যাক, পরিবারের মা তাঁর সন্তানের জন্য যা করেন, তা কিন্তু অমূল্য। আপনি টাকা দিয়ে এই গুণগত কাজের মূল্যায়ন করতে পারবেন না। তাহলে কীভাবে এই কাজের স্বীকৃতি বা মূল্যায়ন করব? সেটি ঠিক করতে হবে। জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত ৮২টি দেশে নানাভাবে নারীর মজুরিহীন শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করছে। তাঁদের কাছ থেকেও আমরা শিখতে পারি।’

২০১৩ সালের লেবার ফোর্স জরিপে দেখা যায়, পরিবারে মজুরিহীন যাঁরা শ্রম দেন, তাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। এ ক্ষেত্রে পুরুষের সংখ্যা মাত্রা ২০-২১ লাখ। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় চার গুণ বেশি নারী পরিবারে মজুরিহীন শ্রম দিচ্ছেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সমন্বয়কারী বনশ্রী মিত্র নিয়োগি প্রথমআলোকে বলেন, ‘সরকারের নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলব। নারীর সমান অধিকার পাওয়ার জন্য ঘরের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে।’ এতদিন নারীদের ঘরের কাজটাকে ‘এটা কোনো কাজই না’ বলা হতো। এই আলোচনা হয়​েতা ভবিষ্যতে এনে দিবে তাঁর কাজের স্বীকৃতি।

সাত সাহসী

সাত সাহসী

কালোই ছড়াচ্ছে আলো!

কালোই ছড়াচ্ছে আলো!

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

বগুড়ার পাঁপড় গ্রাম

বগুড়ার পাঁপড় গ্রাম

গ্রামের নাম চাঁদমুহা। তবে পাঁপড় গ্রাম বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। বগুড়া শহর থেকে...
১১ এপ্রিল ২০১৭
নবজাতক কোলে নিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছেন দুই মা

নবজাতক কোলে নিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছেন দুই মা

চলছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষাকেন্দ্রের একটি কক্ষে একেবারে সামনের বেঞ্চে...
১১ এপ্রিল ২০১৭ মন্ত্যব্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info