বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের কজন জানাচ্ছেন প্রবাসে ঈদের অভিজ্ঞতা

দূরের ঈদ, কাছের ঈদ-১

প্রথম আলো ডেস্ক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

মাতিনূর রহমান, যুক্তরাজ্যবিলেতের ঈদ
ইংল্যান্ডে আমি থাকি লন্ডন শহরে। এখানে বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই এখানে অনেকটা বাংলাদেশি ঢঙের ঈদই পালন করি আমরা। দল বেঁধে সবাই বাংলাদেশি কমিউনিটির মসজিদে নামাজ পড়তে চলে যাই। নামাজ শেষে বাসায় এসে দেশের স্বাদ দিয়ে পেট পুরি। পোলাও, মাংস ও খিচুড়ি খেয়ে দেশের খাবারের স্বাদ পাই। দেশে থাকলে যেমন সারা দিন ঘোরাঘুরি আর রাতে টেলিভিশন দেখেই ঈদ শেষ করি, বিলেতেও ঈদ আমরা এভাবেই পালন করি। রানির দেশে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলের বাংলা ভাষায় প্রচারিত নাটক, সিনেমা দেখে দেশ থেকে দূরে আসার কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করি।
মাতিনূর রহমান
বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস ইনস্টিটিউট, কার্ডিফ, যুক্তরাজ্য
mmr.noor@ymail.com

রেজা শাওন, নেদারল্যান্ডসআশার ঈদ
প্রবাসের মাটিতে ঈদ একটু অন্য রকম। যেসব অঞ্চলে বাংলাদেশির সংখ্যা হাতে গোনা যায়, সেসব এলাকায় ঈদের দিনটা ক্যালেন্ডারে না দাগিয়ে রাখলেও চলে। নেদারল্যান্ডস বলতে গেলে এমনই। ২০১০ থেকে প্রবাসবিভুঁইয়ে আমার ঈদযাপন শুরু হয়। অন্য দিনের মতোই সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাস ধরতে দৌড়াতে হয়েছে। একা রুমে থাকা মানে রাজ্যের মন খারাপ করা ব্যাপারস্যাপার। সে বিবেচনায় ক্লাসে গিয়ে সাদা মানুষের মধ্যে বসে থাকা ভালো। ঈদের দিনটা যদি সাপ্তাহিক ছুটির দিন না হয়ে থাকে, তাহলে আমার মতো সাহসীরা নিজেই ‘ছুটি’ নিয়ে ফেলে। ক্লাস, লাইব্রেরি ও পড়াশোনা—সব বাদ। আমাদের ঈদ কাটে একাকিত্বে, ঈদ কাটে আশায়—এর পরের ঈদটা হয়তো দেশে করা হবে। সামনের বার অবশ্যই যাব, সবার সঙ্গে ঈদ করতে হবে না? অনেকে দোটানা থেকে বের হয়ে এসে হুট করে ঈদের আগে বাড়ি ফিরে গিয়ে চমকে দেন সবাইকে। যাবতীয় হিসাব আর সমীকরণ এলোমেলো হতে থাকে, ঈদ যত কাছে আসে। গত বছর সাহস করেই ছুটে যাই বাংলাদেশে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে ঢাকা উড়ে চলেযাই। গায়ে যেন ক্লান্তিই ভর করেনি, ঈদে বাড়ি যাচ্ছি বলে কথা। যেন একটা ঘোর লাগা সফর। এ যাত্রায় ক্লান্তি আসে না, কখনো আসবেও না। অদ্ভুত মুগ্ধতা ছড়িয়ে থাকবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, সামনের বাঁকে।
রেজা শাওন
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিকতা, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ইউটরেক্ট, নেদারল্যান্ডস।
Siddique1237@gmail.com

নাসরিন জাহান, যুক্তরাষ্ট্রদেশ পেরিয়ে বিদেশেও
ঈদ মানেই সবকিছু নতুন। ঘরে নতুন পর্দা, নতুন চাদরের গন্ধ, ঘরে ফুলের বাহার আর আনাচকানাচ সব ঝকঝকে পরিষ্কার। দেশে থাকলে ঈদের আগেই ঈদের আমেজ ঘরে চলেআসে। মনে পড়ে সেই দিনগুলোকে। এখনো বাংলাদেশে একইভাবে ঈদ আসে আমাদের ঘরে। আর প্রবাসে ঈদ হচ্ছে বছরের অন্য দিনের মতোই। নেই আম্মার হাতের রান্না খাওয়ার ধুম, নেই ভাইবোনদের উত্সবের আয়োজন। শুধু আছে নতুন কাপড় পরা। বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি বলে নিউইয়র্কে উত্সবের আমেজটা একটু বেশি। দেশ ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করার তুলনা হয় না কিছুরই, তার পরও একই রকমভাবে ঘরছাড়া কিছু মানুষ কীভাবে যেন এক হয়ে যায়। সব রকম দূরত্ব পার হয়ে অন্য রকম একটা বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায় মানুষগুলো। তাই তো বন্ধুর বুবু হয়ে যান আমাদের বুবু, যিনি ঈদে আমাদের জন্য রান্না করেন, কোথাও বেড়াতে গেলে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যান। পরিবার ছাড়া মানুষগুলো মিলে আমরা হয়ে গেছি অন্য রকম একটি পরিবার। কেউ কাউকে চিনি না, হয়তোবা জীবনে প্রথমবারের মতো দেখছি; কিন্তু কী আন্তরিকতার সঙ্গে সবাই সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। ঈদের আমেজ ধরে রাখার জন্য ঈদের দিন রান্নাবান্না করি। এখানকার বন্ধুবান্ধব এলে খাওয়া হয়। বছরে মাত্র একটা দিন। কেন আপনজন থেকে দূরে থাকা নিয়ে মন খারাপ করে থাকা! ফোনে দেশের সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, হাসিমুখে মেনে নেওয়া বাস্তবতাকে। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক দেশ পেরিয়ে এই বিদেশেও।
নাসরিন জাহান
ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
nasrin.bobby@facebook.com

তুনাজ্জীনা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রঈদের জামার গন্ধ
উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র চলে আসি ২০১১ সালে। ওকলাহোমার স্টিলওয়াটার শহরে। এর মধ্যে চারটি ঈদ চলে গেছে। এখানে আসার পর প্রথম ঈদের দিন সকালে উঠে ভাবছিলাম ঈদের দিন আম্মুর হাতের চটপটি আর সেমাই ছাড়া ঈদ হবে কীভাবে? বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের দিন পাড়া-মহল্লা বেড়ানো হবে না তো ঈদ কাটবে কীভাবে?
এখানে সব মিলিয়ে বাংলাদেশির সংখ্যা ৪০ জনের মতো। সকালে ঈদের নামাজে গেলে মোটামুটি সবার সঙ্গেই একবার দেখা হয়ে যায়। এরপর যথারীতি ক্লাস আর ল্যাব। সন্ধ্যার পরই এখানে শুরু হয় ‘আসল ঈদ’। কোনো কমিউনিটি হলে বা কারও বাসায় চলে ঈদভোজন। সবাই কিছু না কিছু রান্না করে নিয়ে আসে। কী না থাকে সেখানে। চটপটি, সেমাই, পায়েস, কাবাব, পোলাও, রোস্ট, রেজালা আর সেই সঙ্গে চলে রাতভর আড্ডা।
ঈদের জামাকাপড়ের কথা তো বলাই হয়নি। ঈদের কয়েক দিন আগেই ঢাকা থেকে প্যাকেট চলে আসে একটা। বাসা থেকে পাঠানো ঈদের কাপড়। সেই কাপড় পেয়ে যতটা না ভালো লাগে, তার চেয়ে বেশি ভালো লাগে প্যাকেটটা খুলে গন্ধ নিতে। নতুন কাপড়ের গন্ধ নয়, দেশ থেকে পাঠানো ভালোবাসার গন্ধটুকু!
তুনাজ্জীনা চৌধুরী
অর্থনীতি বিভাগ, ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
mithun_17@econdu.ac.bd

আশরাফ হোসেন, দক্ষিণ কোরিয়াদৌড়াদৌড়ির ঈদ
আবারও আসছে ঈদ। এই প্রবাসে আরও একটি ঈদ করতে যাচ্ছি পরিবার ছাড়া। একা একা। কিছু জিনিস খুব মিস করি, বিশেষ করে আব্বার চিল্লাচিল্লিতে ঘুম থেকে ওঠা, ঈদের নামাজ নয়টায় হলেও আব্বার জন্য ছয়টার পর বিছানায় থাকা অসম্ভব ছিল।
প্রবাসের প্রথম ঈদের দিন সকালে হাউসমেটের ডাকে যখন ঘুম ভাঙল, পাঞ্জাবি পরে দ্রুত রওনা দিলাম বাস ধরার জন্য। বাসে উঠতে যাব, ড্রাইভার কোরিয়ান ভাষায় কী যেন বলল, বুঝলাম ব্যাটা পাঞ্জাবি আর টুপির কারণে বুঝছে না আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কি না। যখন আইডি বের করে দেখালাম, তখন পাকসা (পিএইচডি ছাত্রদের কোরিয়ায় পাকসা বলে) দেখে বলল ঠিক আছে। বাস থেকে মেইন ক্যাম্পাসে নেমে বাংলাদেশি ছাত্রদের সঙ্গে নামাজ পড়তে গেলাম। নামাজ শেষে দেখি, মসজিদ থেকে ফ্রি ড্রিংকস আর পানি দিচ্ছে। হাত পেতে নিলাম। নিচে দেখলাম লোকজন প্যাকেটে করে ভাত, শর্মা, ভেজিটেবল রোল খাচ্ছে। ভাবলাম, কোনো গ্রুপ বোধ হয় বাসা থেকে রান্না করে এনেছে। আমরাও খেলাম ভেজিটেবল রোল। আম্মার কথা মনে হলো, আম্মার রান্না করা সেমাইয়ের কথা। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশনের পার্টি, তার জন্য অপেক্ষা। দুপুরে নিজে রান্না করে ভাত খেলাম, গল্পগুজব করে সন্ধ্যায় পার্টিতে ল্যাম্ব তেহারিসহ আরও অনেক ধরনের খাবার খেয়ে রুমে ফিরতে ফিরতে রাত ১১টা।
আশরাফ হোসেন
পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ কোরিয়া
ashraf3521@gmail.com

হক মোহাম্মদ ইশফাক, যুক্তরাষ্ট্রভিনদেশে ঈদ আনন্দ
স্ট্যানফোর্ডে আসার পর প্রথম ঈদের দিন বুঝেছিলাম ছোটবেলা থেকে বইতে পড়ে আসা ঈদ মানে আনন্দ—কথাটা এখানকার ছাত্রজীবনের জন্য জুতসই নয়। বরং আমার মতো সবার জন্যই আসলে কথাটা হবে—ঈদ মানে ক্লাস ও আনন্দ। শুরুর দিকে ঈদের সময় ফেসবুকে দেশের বন্ধুদের ঈদ উদ্যাপন আর মজার মজার খাবারের ছবি দেখে মনটা একটু খারাপই হতো। এখানে দেশের মতো মজা করা যাবে না, তাই বলে তো একদম উদ্যাপনহীনভাবে ঈদের দিন কাটানো যায় না। ব্যস্ততার মধ্যেই এক ফাঁকে স্থানীয় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে গেলাম অন্যান্য দেশের বন্ধুদের নিয়ে। ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দটা লুকিয়ে ছিল সেখানেই। মসজিদে কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়ে যায় শ্রদ্ধেয় লুত্ফুজ্জামান স্যারের সঙ্গে। গণিত অলিম্পিয়াডের সুবাদে স্যারের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতো বাংলাদেশে থাকতে। তাই স্যারের দেখা পাওয়া ঈদের দিনটা আমার জন্য সত্যিকারের ‘ঈদ’ হয়ে উঠেছিল। ওই দিন বারবার মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিল দেশের ঈদের পুরোনো স্মৃতি। ব্যস্ততার মধ্যেই দিনটা শেষ হয়ে যায়। ক্লাস থাকায় এদিনটিতে তেমন কিছু করা না হলেও ঈদের পর সাপ্তাহিক ছুটিতে ইউনিভার্সিটির মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজন থাকে সব সময়। বিভিন্ন দেশের ছাত্ররা নানা রকম খাবার রান্না করে নিয়ে আসে সবাই মিলে খাওয়ার জন্য। সেই সঙ্গে চলে আড্ডা ও বিনোদনমূলক নানা আয়োজন। বাংলাদেশি বড় ভাই আর আপুদের বাসায় দাওয়াত তো রয়েছেই। সবাই মিলে দেশের ঈদে মজা করার আনন্দ পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সবাই। ছাত্রজীবনের ব্যস্ততায় আবার হারিয়ে ফেলতে হয় নিজেকে, আর মনের ছোট্ট কোণে রয়ে যায় নিজ দেশে আবার ঈদ উদ্যাপনের রঙিন স্বপ্ন।
হক মোহাম্মদ ইশফাক
তৃতীয় বর্ষ, কম্পিউটার সায়েন্স ও গণিত, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
hmishfaq@stanford.edu

এস জে শাম্মি, যুক্তরাষ্ট্রদল বেঁধে ঈদ
গত বছর ঠিক ঈদের আগের দিন নিউইয়র্কে বন্ধুদের রেখে চলে এসেছিলাম আক্রনে। আমার মন খারাপ। ওদেরও। এবারও ঈদের আগেই আবার কলম্বাস ছেড়ে যাচ্ছি আক্রন। সময়সূচি মেলে না মনের ইচ্ছার সঙ্গে। গত বছরের ঈদের দিন ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিন ঈদ পড়ায় অন্য বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে অসুবিধা ছিল না। দল বেঁধে নামাজে যাওয়া ও ফিরতি পথে সবাইকে নিয়ে গাড়ি করে দাওয়াত খেতে যাওয়া—এই দিয়েই শুরু হয় আমাদের ঈদের দিন। আক্রনে বাংলাদেশি কমিউনিটি বেশ ছোট। তার পরও এবাড়ি-ওবাড়ি করে অনেক বাসায় যাওয়া ও খাওয়া হয়। বাড়িতে রান্না করা খাবার যে কী অমৃত তা দেশের বাইরে পড়তে আসা গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টমাত্রই জানেন। যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ বাংলাদেশের আগে হয়। ঈদের দিন সকালে বাংলাদেশে পরিবার আর বন্ধুদের স্কাইপে বা ফোনের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। ঈদের আগে দেশ থেকে ঈদের পোশাক কিনে পাঠানো হয়। সেই পোশাকেই যেন আমাদের বাংলাদেশের ঈদের সুবাস লেগে থাকে। ছুটির দিনে ঈদ পড়লে বন্ধুদের সঙ্গে তাও মুখ দেখাদেখি হয়। কিন্তু সব সময় তো ঈদ আমাদের মনের মতো সপ্তাহ শেষে পড়ে না। ব্যস্ত কর্মদিবসে ঈদের আনন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে এ-রুম ও-রুম করতে করতে চলে যায়। তখন আমাদের আনন্দের জন্য অপেক্ষা করতে হয় সপ্তাহের শেষ ছুটির দিন পর্যন্ত। যদিও বাংলাদেশি বন্ধুরা একত্র হয়ে আসল ঈদের দিন রাতে এক দফা ঈদ উদ্যাপন হয়। এটাকে বলা হয় ‘পটলাক ঈদ’, যেখানে সবাই কিছু না কিছু রান্না করে নিয়ে আসে সবার জন্য। ঈদ উদ্যাপন করার জায়গাটাকে ছোট্ট এক টুকরা বাংলাদেশ বানিয়ে সবাই মিলে পরবাসে ঈদ উদ্যাপন করি।
এস জে শাম্মি
গ্র্যাড স্টুডেন্ট, আরবান অ্যাফেয়ার্স, দি ইউনিভার্সিটি অব আক্রন, যুক্তরাষ্ট্র
Shammee.sj@facebook.com

সোহেল রানা, জার্মানিদেশের ঈদ মনে পড়ে
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। নতুন জামাকাপড় কেনা, চাঁদরাতে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা মারা, পরের দিন সবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করা, নামাজ পড়ে এসে আম্মুর রান্না করা খাবার গপাগপ গলাধঃকরণ করা। এই প্রচলিত ধারণায় কিছুটা ধাক্কাই খেয়েছিলাম, যখন প্রথম ঈদ এই বিদেশবিভুঁইয়ে এসে করি। একটা বৃত্তি পেয়ে জার্মানিতে মাস্টার্স করতে এসেছিলাম ২০১১ সালের শেষের দিকে। আশপাশের সবই ছিল অপরিচিত। আমি যেই শহরে (এরফুর্ট) থাকি, এখানে কোনো বাংলাদেশি কমিউনিটি ছিল না। আমার এই শহরে একমাত্র বাঙালি ছিলেন ইফতেখার ভাই। তাঁর বাসায় রাতের খাবারের আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম আর সেই সুবাদে কিছুটা সময় ভালোই কেটেছিল। এরপর তো এক এক করে তিনটা ঈদ দেশের বাইরে কেটে গেল। এবারের ঈদেও প্রতি মুহূর্তে খুঁজে বেড়াব দেশের ঈদের সেই দিনগুলো। দেশের সবার সঙ্গে ফোন আর ফেসবুকে কুশল বিনিময়ই তো আসলে প্রবাসজীবনের ঈদ। প্রায় সাত হাজার ২৯১ কিলোমিটার দূরে থাকলেও দেশেই পড়ে থাকে মনটা। তাই দেশের সবার প্রতি রইল ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা, সবাইকে ঈদ মোবারক।
সোহেল রানা
উইলি ব্র্যান্ডথ স্কুল অব পাবলিক পলিসি, এরফুর্ট ইউনিভার্সিটি, জার্মানি
Sohel.irdu@yahoo.com

 

পাঠকের মন্তব্য ( ৫ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোনঃ ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্সঃ ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইলঃ info@prothom-alo.info
 
topউপরে