সব

স্মার্টফোন আমাদের বোকা বানাচ্ছে?

প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মদিন ভুলে যাওয়া নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে লড়াই এখন কম হয়। সে জন্য ফেসবুক তো আছেই। সতেরো দুগুণে কত, তা বলতেও এখন পকেট থেকে ফোন বের করে ক্যালকুলেটর অ্যাপে হিসাব কষতে হয়। এমন অনেক কিছুই এখন আর কেউ নিজের মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করতে রাখতে চায় না। কারণ ওই একটাই। সকল কাজের কাজি স্মার্টফোন তো আছেই। চৌকস এই ফোন দিন দিন আরও চৌকস হয়ে উঠলেও তা যে আমাদের একই সঙ্গে বোকা বানাচ্ছে, তা নিয়েই এখন মাথা চুলকে মরছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটা গাড়িতে চড়ার মতো। বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য হাঁটার চেয়ে গাড়ির ব্যবহার নিঃসন্দেহে সহজ ও দ্রুততর উপায়। তবে তা যে ধীরে ধীরে নিজের দুই পায়ের ওপর থেকে আস্থা কমিয়ে দেয়, তা আমাদের মাথায় থাকে না। ঠিক একইভাবে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমালে এর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে চালকেরা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমসের (জিপিএস) দিকনির্দেশকের ওপর নির্ভর করে গাড়ি চালান, তাঁদের তুলনায় যাঁরা নিজের মস্তিষ্কের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে গাড়ি চালান তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি হয়। বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্য যেমন ভাই বা বোনের ফোন নম্বর বা স্থানীয় থানার ফোন নম্বর আমরা মনে রাখার চেয়ে আমাদের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটে রেখে দিই কিংবা ইন্টারনেট থেকে সহজে কীভাবে পাওয়া যাবে তা রপ্ত করে ফেলি। বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা অনেকটা নিজের ব্যায়াম অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেওয়ার মতো।
প্রযুক্তিবিষয়ক লেখক নিকোলাস কার বলেন, ‘গুগলের সাহায্য নিয়ে আমরা যদি প্রতিনিয়ত সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করি, তাতে হয়তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে। কিন্তু তাতে আমরা সূক্ষ্ম ও গভীর চিন্তা করতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারব না।’ আরেকটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সর্বদা ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারা বেশি মানুষের সঙ্গে থাকতে বিরক্ত অনুভব করে। তারা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়ার ফলে অন্য সবকিছুই তাদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দিন দিন স্মার্টফোন আমাদের মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতা কমিয়েও দিচ্ছে। পার্কে গিয়ে মুক্ত বাতাস আর পরিবেশ উপভোগ করার চেয়ে এখন ঘরের কোণে বসে ইউটিউবে মজার ভিডিও দেখাটাই আমাদের বিনোদন। আর এমন ডিজিটাল বিনোদনগুলোই আমাদের মস্তিষ্কের তথ্য ও অনুভূতি প্রক্রিয়াজাত করার অংশটুকু ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। এতে একসময় আমাদের মস্তিষ্ক গভীর চিন্তাশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাতে বসে।
শাওন খান, সূত্র: টাইম

default image

উপজেলা পর্যায়েও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

default image

একসঙ্গে কাজ করবে এটুআই এবং ব্র্যাক

default image

বাংলাদেশে আইইটিএফ আউটরিচ প্রোগ্রাম শুরু

চিন্তার শক্তি

চিন্তার শক্তি

মন্তব্য ( ৪ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আমরা আরও নারী চাই: হিলারি ক্লিনটন

আমরা আরও নারী চাই: হিলারি ক্লিনটন

আমরা আরও নারী চাই। সেটা যে টেবিলেই হোক, যে সম্মেলনে হোক কিংবা যেকোনো ই-মেইল...
বাজারে এল গ্যালাক্সি এস ৮ ও এস৮+

বাজারে এল গ্যালাক্সি এস ৮ ও এস৮+

নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন গ্যালাক্সি এস ৮ ও এস৮+ প্রকাশ করেছে স্যামসাং। আজ...
অনলাইন ডেস্ক
default image

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা হয়ে গেল সিলেট অঞ্চলের আয়োজন

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সিলেট আঞ্চলিক পর্ব গতকাল মঙ্গলবার...
অনিবার্য কারণে পেছাল কম্পিউটার সিটির মেলা

অনিবার্য কারণে পেছাল কম্পিউটার সিটির মেলা

মেলা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনেও বলা হলো মেলার...
এস এম নজিবুল্লাহ চৌধুরী
কুমিল্লায় বিএনপি প্রার্থী মনিরুল জয়ী

কুমিল্লায় বিএনপি প্রার্থী মনিরুল জয়ী

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন...
কুমিল্লায় ভোট শেষ, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা

কুমিল্লায় ভোট শেষ, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। বেশ কয়েকটি...
‘আল্লাহর কাছে বিচার’ চাইলেন দুই প্রার্থী

‘আল্লাহর কাছে বিচার’ চাইলেন দুই প্রার্থী

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট চলাকালে দুই কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট...
এক ঘণ্টা পর স্থগিত কেন্দ্রে ভোট শুরু

এক ঘণ্টা পর স্থগিত কেন্দ্রে ভোট শুরু

বিস্ফোরণ ও কেন্দ্রে ঢুকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীকে মারধরের পর কুমিল্লা...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info