সব

এক ইনিংসে ৮৪৭ বল খেলেছিলেন হাটন!

কামরুল হাসান
প্রিন্ট সংস্করণ

লেন হাটন৫২৫ বলে ২০২ রান। রাঁচিতে ‘ম্যারাথন’ এই ইনিংস দিয়ে চেতেশ্বর পূজারা গড়েছেন নতুন একটা রেকর্ড। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্টে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার কীর্তি এখন গুজরাটের এই ২৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের। পূজারা ছাড়িয়ে গেছেন রাহুল দ্রাবিড়কে। ২০০৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্রাবিড় ২৭০ রান করতে খেলেছিলেন ৪৯৫ বল।
ভারতীয় রেকর্ড গড়েছেন পূজারা, তবে বিশ্ব রেকর্ডটা কোনো দিন ভাঙবে কি না সন্দেহ। সেটি লেন হাটনের। ১৯৩৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভাল টেস্টে তিনি খেলেছিলেন ৮৪৭ বলের এক ইনিংস, রান করেছিলেন ৩৬৪। রেকর্ডের বন্যা বয়ে গিয়েছিল ওই ম্যাচে। ওয়ালি হ্যামন্ডের ৩৩৬ রানের ইনিংসটাকে ছাড়িয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটাও ওই ম্যাচে নতুন করে গড়েছিলেন সেই সময় ২২ বছর বয়সী ইয়র্কশায়ার ওপেনার। হাটনের যে রেকর্ড টিকে ছিল পরের ২০ বছর, তারপর ১৯৫৮ সালে কিংস্টনে গ্যারি সোবার্সের সেই বিখ্যাত অপরাজিত ৩৬৫ রানের ইনিংস!
শুধু ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নয়, হাটনের ব্যাটে চড়েই টেস্ট ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছিল ইংল্যান্ড। ওভালে প্রথম ইনিংসেই করেছিল ৭ উইকেটে ৯০৩। ৫৯ বছর পর কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৯৫২ রান করে ওই রেকর্ড থেকে ইংল্যান্ডের নাম সরিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কা।
যা-ই হোক, কথা হচ্ছিল টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বলের ইনিংস নিয়ে। টেস্ট ইতিহাসে হাটন ছাড়া আর কেউ ইনিংসে ৮০০-এর বেশি বল খেলতে পারেননি। বলে রাখা ভালো, এই রেকর্ডটা শুধু বলের হিসাব আছে, এমন টেস্টগুলো বিবেচনায় নিয়ে। এক ইনিংসে ছয় শর বেশি বল খেলার কীর্তি এখন পর্যন্ত ৯টি, গড়েছেন আটজন ব্যাটসম্যান। ১৯২৮-২৯ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়া সফরেই সিডনি ও অ্যাডিলেডে দুবার তা করেছেন ইংল্যান্ডের ওয়ালি হ্যামন্ড। সিডনিতে ২৫১ রান করতে খেলেছিলেন ৬০৫ বল। যেটি হ্যামন্ডের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও। মেলবোর্নে পরের টেস্টেই আবারও ডাবল সেঞ্চুরি। অ্যাডিলেডে পরের টেস্টে ৬০৩ বলে ১৭৭ রানের আরও একটা ইনিংস, স্ট্রাইক রেট মাত্র ২৯.৩৫! ইনিংসে কমপক্ষে ছয় শ বল খেলেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তাঁর স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে কম। মানদণ্ডটা নামিয়ে যদি ৫০০ বলে নিয়ে আসা হয়, তাহলে অবশ্য হ্যামন্ডকে পেছনে ফেলে দেবেন শিবনারায়ণ চন্দরপল। ২০০২ সালে সেন্ট জনসে ভারতের বিপক্ষে ৫১০ বলে ১৩৬ করেছিলেন ২৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে।
কম স্ট্রাইক রেটের কথা যখন হচ্ছে, বেশি স্ট্রাইক রেটের কথাও বলে দেওয়া যাক। কমপক্ষে পাঁচ শ বল খেলেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটের দুটি ইনিংসই ব্রায়ান লারার। একটা ১৯৯৪ সালে সেন্ট জনসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ৫৩৮ বলে ৩৭৫ (স্ট্রাইক রেট ৬৯.৭০)। ১০ বছর পর একই মাঠে একই দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৪০০ করতে খেলেছিলেন ৫৮২ বল (স্ট্রাইক রেট ৬৮.৭২)। দুটি ইনিংস কী কারণে বিখ্যাত, সেই কথা বোধ হয় ক্রিকেটপ্রেমী কারও অজানা নয়।
ওয়ালি হ্যামন্ডের প্রথম সেঞ্চুরিটাই ছিল ডাবল, তবে এ ক্ষেত্রে তাঁকেও ছাড়িয়ে গেছেন বব সিম্পসন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরিটাই ছিল ট্রিপল। ১৯৬৪ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১১ রানের ইনিংসটা খেলতে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের লেগেছিল ৭৪৩ বল। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডে যেটি তিনে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের ওই টেস্টে ইংল্যান্ডের একজনও ছয় শর বেশি বল খেলেছিলেন—কেন ব্যারিংটন। ২৫৬ করেছিলেন ৬২৪ বলে। দুই ব্যাটসম্যানের শম্বুকগতির ইনিংসই ড্র করে দিয়েছিল টেস্টটা।
হাটন ও সিম্পসনের মাঝে আছেন নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার। ১৯৭২ সালে জর্জটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যিনি করেছিলেন ৭৫৯ বলে ২৫৯ রান। টার্নারের পরে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বশেষ ৪৪ বছরে একজন ব্যাটসম্যানই ছয় শর বেশি বলের ইনিংস খেলেছেন। ১৯৯৯ সালে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৫ রান করতে গ্যারি কারস্টেন খেলেছিলেন ৬৪২ বল।
টেস্টে বলের হিসাবে দীর্ঘতম ব্যক্তিগত ইনিংস

  রান  বল  স্ট্রাইক রেট  প্রতিপক্ষ  ভেন্যু  সাল  
লেন হাটন (ইংল্যান্ড)  ৩৬৪  ৮৪৭  ৪২.৯৭  অস্ট্রেলিয়া  ওভাল  ১৯৩৮  
গ্লেন টার্নার (নিউজিল্যান্ড)  ২৫৯  ৭৫৯  ৩৪.১২  ওয়েস্ট ইন্ডিজ  জর্জটাউন  ১৯৭২  
বব সিম্পসন (অস্ট্রেলিয়া)  ৩১১  ৭৪৩  ৪১.৮৫  ইংল্যান্ড  ওল্ড ট্রাফোর্ড  ১৯৬৪  
সিড বার্নস (অস্ট্রেলিয়া)  ২৩৪  ৬৬৭  ৩৫.০৮  ইংল্যান্ড  সিডনি  ১৯৪৬  
গ্যারি কারস্টেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)  ২৭৫  ৬৪২  ৪২.৮৩  ইংল্যান্ড  ডারবান  ১৯৯৯  
অ্যান্ডি স্যান্ডহাম (ইংল্যান্ড)  ৩২৫  ৬৪০  ৫০.৭৮  ওয়েস্ট ইন্ডিজ  কিংস্টন  ১৯৩০  
কেন ব্যারিংটন (ইংল্যান্ড)  ২৫৬  ৬২৪  ৪১.০২  অস্ট্রেলিয়া  ওল্ড ট্রাফোর্ড  ১৯৬৪  
ওয়ালি হ্যামন্ড (ইংল্যান্ড)  ২৫১  ৬০৫  ৪১.৪৮  অস্ট্রেলিয়া  সিডনি  ১৯২৮  
ওয়ালি হ্যামন্ড (ইংল্যান্ড)  ১৭৭  ৬০৩  ২৯.৩৫  অস্ট্রেলিয়া  অ্যাডিলেড  ১৯২৯  

* কমপক্ষে ৬০০ বল

বিনোদ খান্নার মৃত্যুতে বিনোদ কাম্বলিকে শ্রদ্ধা!

বিনোদ খান্নার মৃত্যুতে বিনোদ কাম্বলিকে শ্রদ্ধা!

কোহলিদের দেখা যাবে না চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে?

কোহলিদের দেখা যাবে না চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে?

আইসিসিতে ভারতের আয় আর দাপট দুটিই কমছে

আইসিসিতে ভারতের আয় আর দাপট দুটিই কমছে

পিসিবির সিদ্ধান্তে বিস্মিত বিসিবি

পিসিবির সিদ্ধান্তে বিস্মিত বিসিবি

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

কেন আসছে না পাকিস্তান?

কেন আসছে না পাকিস্তান?

পাকিস্তানের মাটিতে একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলার আমন্ত্রণ ছিল...
ভারতের পক্ষে কেউ নেই

আইসিসির সংস্কার প্রস্তাব পাস ভারতের পক্ষে কেউ নেই

বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। প্রস্তাবিত নতুন আর্থিক ও...
আসছে না পাকিস্তান

আসছে না পাকিস্তান

এ বছর বাংলাদেশ সফরে আসছে না পাকিস্তান ক্রিকেট দল। কাল রাতে পাকিস্তান ক্রিকেট...
default image

আনসারির হঠাৎ অবসর

ছয় মাস হয়নি, ঢাকায় গত অক্টোবরে টেস্ট অভিষেক হয়েছে জাফর আনসারির। তিন টেস্টের...
১১ মে পবিত্র শবে বরাত

১১ মে পবিত্র শবে বরাত

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ৯ মে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু ৯ মে

তিস্তার জল দিতে পারব না বাংলাদেশকে

তিস্তার জল দিতে পারব না বাংলাদেশকে

এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ব্যক্তির!

এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ব্যক্তির!

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info