আত্মবিশ্বাস হারাইনি, বলছেন তামিম

তারেক মাহমুদ, মাউন্ট মঙ্গানুই থেকে | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

রান চাই রান! সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের কাছে এটাই তো চাইবেন বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে l ফাইল ছবিনিউজিল্যান্ড সফরের লক্ষ্য তাহলে পূরণ হলো না!

ঘরের মাঠে টানা সাফল্যের পর প্রথম বিদেশ সফর। লক্ষ্য ছিল, এই সফরেই প্রমাণ করার চেষ্টা হবে বাংলাদেশ এখন দেশের বাইরেও ভালো দল হয়ে উঠছে। কিন্তু সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টির পর একটা বিষয় মোটামুটি পরিষ্কার। ঘরের মাঠের ধারাবাহিক সাফল্যের হাত ধরে নতুন কিছু আসেনি বিদেশের মাটিতে। দেশে যতই বড় দলগুলোকে কাঁপন ধরিয়ে দিক, দেশের বাইরে বাংলাদেশ এখনো আগের জায়গাতেই।

কাল তামিম ইকবালের কথা শুনেও তাই মনে হলো। জয়ের কাছাকাছি যাওয়াও নয়, কিছু সময়ের জন্য জয়ের আশা জাগানোটাই এখনো বিদেশের মাটিতে সাফল্যের প্রতীক। ‘প্রায় সব ম্যাচেই আমরা সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি। মনে হচ্ছিল আমরা জিততেও পারি। সবকিছু নেতিবাচকভাবে না দেখে আমরা এভাবেও দেখতে পারি যে, ২০১০ সালে আমরা যখন এসেছিলাম, বা তার আগে, তখন আমরা জয়ের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারিনি। দেশের বাইরে এসে যে সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি, আমার কাছে মনে হয় এটাও ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত’—বে ওভালের অনুশীলন শেষে বলছিলেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার।

সিরিজে এখনো বাকি একটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট ম্যাচ। আজ বে ওভালে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভালো কিছু হলে একটা সান্ত্বনা পাওয়া যায়। তবে তামিম আগেই বলে রাখলেন, ‘এই সফরের পর অনেকেই হয়তো আমাদের ওপর নাখোশ থাকবেন, বিশেষ করে সমর্থকেরা। কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এটিই চাওয়া থাকবে যে, ২০১০ সালের কথা চিন্তা করুন আর এই সফরের কথা ভাবুন। আমরা এবার সুযোগ সৃষ্টি করেছি।’

এবার যে দলের কারও পারফরম্যান্সই সন্তোষজনক নয়, সেটা মেনে নিচ্ছেন তামিম। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, ‘সবচেয়ে বাজে ব্যাপার, সবাই ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেনি। নিজের কথাই যদি বলি, পাঁচ ইনিংসের প্রায় প্রতিটিতে ভালো শুরু করেও সেটা কাজে লাগাতে পারিনি।’

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে যেকোনো সংস্করণেই একটা জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। সেই জয়টা ধরা না দেওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরা ছাড়া উপায় কী! টেস্ট সহ-অধিনায়কেরও একই আহ্বান, ‘সবকিছুরই একটা সময় থাকে। সবার ধৈর্য ধরা উচিত। ক্রিকেটারদের দিক থেকে নিবেদনের কমতি নেই। অধিনায়ক থেকে শুরু করে ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট—সবাই মিলেই চেষ্টা করছি বাংলাদেশ যেন জেতে। দেশের মাটিতে যে সাফল্য আমরা এখন পাচ্ছি, সেটির জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করেছি। বাইরের কন্ডিশনেও ভালো করতে হলে নিয়মিত সফরে আসতে হবে এবং খেলতে হবে।’

ফলাফল যা-ই হোক, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসটা যে এখনো মরে যায়নি, তামিমের দৃষ্টিতে সেটাই বড় ব্যাপার। আর আত্মবিশ্বাস থাকা মানে যেকোনো সময় কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পাওয়া, ‘সবচেয়ে ভালো ব্যাপার যেটা মনে হয়, ক্রিকেটারদের মধ্যে কোথাও না কোথাও বিশ্বাসটা আছে যে বাইরেও আমরা জিততে পারি। আমাদের ফল হয়তো কথার সঙ্গে মিলছে না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা কখনো দেশের বাইরে জয়ের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করি না। এটাও মনে করি না যে এখানে এসেছি হারার জন্য।’

তামিম-মাশরাফিরাই বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের এবারের কন্ডিশন নাকি দেশের কন্ডিশনের চেয়েও ভালো। এত ভালো উইকেট নিজেদের মাঠেও পান না তাঁরা! তবে শেষ পর্যন্ত বিদেশ তো বিদেশই! নিউজিল্যান্ড সফরের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার গোড়ার কারণ যেন সেটাই। তামিমের কালকের কথার সুর সে রকমই, ‘আমরা যখন দেশে থাকি, তখন সবকিছু আমাদের নিজেদের মতো থাকে। আমরা স্বস্তিতে থাকি। তবে যেকোনো দলই বিদেশে গেলে সংগ্রাম করে। ইংল্যান্ড টেস্টের অন্যতম সেরা দল হয়েও ভারতে ৪-০-তে হারল। পাকিস্তানেরও একই অবস্থা। সব দলের ক্ষেত্রেই এটা সত্যি।’

বাংলাদেশ দলের সামনে শেষটা ভালো করার সুযোগ এখনো আছে। আজ শেষ টি-টোয়েন্টিতে বটেই, হতে পারে টেস্ট সিরিজেই ঘটে গেল অলৌকিক কিছু! বিদেশের মাটিতে ভালো দল হওয়ার লক্ষ্যটা যেহেতু এখনো স্বপ্নেই সীমাবদ্ধ, স্বপ্নটা বড় করেই দেখা ভালো!

 

 

পাঠকের মন্তব্য ( ৩ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে