তৃতীয় ওয়ানডে

আজও আশায় ঘুম ভাঙবে বাংলাদেশের

তারেক মাহমুদ, নেলসন থেকে | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

.বাংলাদেশ দলের কাছে টার্কিশ খাবার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে। সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতা, এই খাবার ‘মজাও, সস্তাও।’ মাইতাই নদীর পাড়ে টিম হোটেল ট্রেইলওয়েজ। তার খুব কাছে নেলসন সিটি সেন্টার। সেখানেই টার্কিশ খাবারের কয়েকটা দোকান।
নেলসনের মিষ্টি আবহাওয়ার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সঙ্গে টার্কিশ আর ভারতীয় খাবার। ক্রিকেটাররা ছিমছাম শহরটা ভালোই উপভোগ করছেন। শুধু মাঠের তিক্ত অভিজ্ঞতাটুকু ছাড়া।
স্যাক্সটন ওভালে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়টা কেবলই সুবাস ছড়িয়ে মিলিয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর এ রকম সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশ আবার কবে পাবে, কে জানে। হতাশার ঘুণপোকা কুরে কুরে খাচ্ছে খেলোয়াড়দের। ওই হার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না কারও কাছে।
তবে ম্যাচ না জিতলেও নিউজিল্যান্ডকে যে তাদের উঠোনে এসে ঝাঁকুনি দেওয়া গেছে, সেটাকেও উন্নতির পথে এক সিঁড়ি এগোনো মনে করছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘এখানে জেতার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে কয়টা দল? উপমহাদেশের কয়টা দল পেরেছে! ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা না পারলেও আমরা পেরেছি। জিততে পারিনি সেটা আমাদের দায়। ১ উইকেটে এক শ রান করে ফেলার পর এটা হওয়ার কথা ছিল না।’
আগের ম্যাচ থেকে জয় না পান, বিদেশের মাটিতে খেলোয়াড়দের মানসিকতার পরিবর্তন দেখে খুশি মাশরাফি। আজ শেষ ওয়ানডেসহ সফরের বাকি ম্যাচগুলোয় অধিনায়ক এগোতে চান সেটা নিয়েই।
কন্ডিশনের সুবিধা স্বাগতিক দলের পাওয়াই স্বাভাবিক। নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশও সেই সুবিধা পেয়ে থাকে। মাশরাফির চোখে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের সূক্ষ্ম পার্থক্যটা তৈরি হয়ে গেছে সেখানেই, ‘ওরা জানে এখানে কোন লেংথে বল করতে হবে, কোথায় বল ফেলতে হবে বা বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কীভাবে বাউন্সার দিতে হবে, কোন প্রান্ত থেকে কার বোলিং ভালো হবে। এসব জায়গাতেই ওরা জিতে যায়।’ তারপরও মাশরাফির বিশ্বাস, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মুশফিক ছিটকে না গেলে আগের ম্যাচে একটা শেষ মরণকামড় দেওয়া যেত।
শিল্পীর তুলিতে আঁকা নেলসন থেকে এই একটাই ব্যথা নিয়ে ফিরবে বাংলাদেশ দল। একই মাঠে আজ বছরের শেষ দিনে সিরিজের শেষ ওয়ানডে সেই জ্বালা জুড়ানোর উপলক্ষ হতে পারে। তবে সে জন্য যা করতে হবে, সেটা অনেকটাই কঠিন। আগের ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসটা ভুলে গিয়ে মনে রাখতে হবে শুধু বোলিং সাফল্যের কথা। কারণ নিউজিল্যান্ডও ২৫১ রানে অলআউটের কথা ভুলে এবার স্যাক্সটন ওভালের ব্যাটিং স্বর্গের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে চাইবে। সেটা থেকে তাদের ঠেকানো না গেলে শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়ের সম্ভাবনাও দিগন্তে উঁকি দেবে না।
স্যাক্সটনে জয় হাতছাড়া হওয়ার আফসোস মাশরাফি-তামিমদের কত দিন বয়ে বেড়াতে হয় সেটা হয়তো তাঁরাও জানেন না। অবশ্য এটাই প্রথম নয়, ২০১৬ সালে জেতার সম্ভাবনা জাগিয়েও হারার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আরও হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে, দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এবং সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জয়ের দুয়ার থেকে ফিরে আসার বেদনায় পুড়েতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় দিয়ে সেই হতাশা ঢাকার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী মাশরাফি? মনের মধ্যে যা-ই থাকুক, অধিনায়ককে জয়ের কথা শোনাতে হয়। দর্শক-সমর্থকদের আবেগ নয়তো আঘাত পায়। মাশরাফির মুখেও তাই সম্ভাবনার কথা, ‘শেষ ম্যাচে জয়টা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। একটি ম্যাচ জিততে পারলেও বড় কিছু হবে।’
আজ সেই বড় কিছু দেখার আশাতেই ঘুম ভাঙবে বাংলাদেশের।

 

পাঠকের মন্তব্য ( ৮ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে