বাফুফের চার বছরের পরিকল্পনা

চেনা পথেই সালাউদ্দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে চার বছরের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। গতকাল বাফুফে ভবনে l প্রথম আলোদুই মাস আগে ভুটানের কাছে জাতীয় দলের লজ্জাজনক হারের পর থেকেই দেশের ফুটবলে ‘গেল গেল’ রব। এই ফুটবল ফেডারেশন দিয়ে কিছু হবে না, এরা ফুটবল উন্নয়নে কোনো কাজ করছে না, মোটা দাগে বেশির ভাগ সাবেক ফুটবলারই এমন অভিযোগ করে আসছিলেন। অভিযোগ আর ক্ষোভের সবটাই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

সালাউদ্দিন তখনই বলেছিলেন—এত দিন যা হওয়ার হয়েছে, এখন থেকে সব চলবে পরিকল্পনা মেনে। বলেছিলেন, আগামী চার বছরের পূর্ণাঙ্গ একটা পরিকল্পনা দেবেন ১০ ডিসেম্বর। বেশ সাড়ম্বরে বাফুফের নির্বাহী কমিটির ১২-১৩ জন সদস্যকে সঙ্গী করে কাল চার বছরের পরিকল্পনা দিয়েছেন সালাউদ্দিন।

৭১ পৃষ্ঠার এই কর্মপরিকল্পনা ঘেঁটে বলার মতো নতুন কিছু অবশ্য পাওয়া যায়নি। সালাউদ্দিন নিজেই বলছেন, ‘নতুন কিছু করার সুযোগ নেই। গোটা পৃথিবীতে ফুটবলে একই জিনিস হয়। ফুটবল নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এখন আইনস্টাইন দরকার নেই নতুন কিছু করার জন্য।’

বাফুফে অবশ্য মোটা অঙ্কের বেতনে একজন ‘আইনস্টাইন’ পুষছে—ব্রিটিশ টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর পল স্মলি। স্মলির মাথা থেকে এ-যাত্রায় অন্তত বৈপ্লবিক কিছু বেরোয়নি। অনেক প্রতীক্ষার কর্মপরিকল্পনায় সেই আগের বিষয়গুলোই আছে—নিয়মিত মাঠে খেলা রাখা, তৃণমূলে নজর দেওয়া, জেলা লিগ হওয়া, শিক্ষিত কোচ তৈরি করা।

ব্যতিক্রম একটা অবশ্য আছে। সালাউদ্দিন আগে কখনো এক বছরের পরিকল্পনাও সংবাদ সম্মেলন করে জানাননি। কখনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাফুফে, কখনো কিছুই দেওয়া হয়নি। এবার সেই ছবিটা পাল্টে তৃতীয় মেয়াদে এক লাফে চার বছরের পরিকল্পনা দেওয়া হলো। ভুটানের কাছে হার এক দিক দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের উপকারই করল!

সালাউদ্দিনের তৃতীয় মেয়াদের বাকি আর তিন বছর ৪ মাস। সময় যা-ই থাকুক, এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজন বাফুফের ঐক্য। তবে কাল সালাউদ্দিন প্রথমে নিজেই ফেডারেশনের ভেতরের বিভেদটা স্পষ্ট করে দিলেন, ‘আমার ফেডারেশনের কেউ যদি টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু জানেন না, তাহলে সেটা হবে মিথ্যাচার।’ কথাটা বলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তার অনুপস্থিতি দেখে। তবে ভুল বলেননি সালাউদ্দিন, এই পরিকল্পনা ফেডারেশনের একাধিক সভায় পাস হয়েছে সর্বসম্মতভাবেই।

গোটা পরিকল্পনা দুটি পর্বে ভাগ করে এক দিকে রাখা হয়েছে নিয়মিত আয়োজন। অন্য দিকে তৃণমূলের উন্নয়ন। এটা বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথম এবং প্রজেক্টরের মাধ্যমে এটি উপস্থাপন করেছেন পল স্মলি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নই বড় প্রশ্ন। কারণ এখানে আর্থিক ব্যাপার আছে। সালাউদ্দিন অর্থের উৎসটা জানাতে চেয়েছেন ১৫-২০ দিন পর। তবে অতীত বলছে বাফুফে অনেক প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারে না। ক্লাবগুলোও অনেক কিছুতে বাগড়া দেয়। সালাউদ্দিন অবশ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারই করেছেন, ‘আমরা অনড় থাকব। কোনো ক্লাব খেললে খেলবে, না খেললে নাই। কর্মসূচি ঘোষিত সময়েই চলবে।’

ক্লাবকে বুঝিয়ে এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে নিশ্চয়ই কিছু সুফল আসবে। তা দেশের ফুটবলকে চার বছর পর কোথায় দেখতে চান সালাউদ্দিন? বাফুফে সভাপতির আশা, এখন ১৬ বছরের একটি ছেলে ৪ বছর পর ২০ হবে, ওরাই এই অঞ্চলে যুব চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দেবে বাংলাদেশকে। যুবাদের পূর্বসূরিরা ১৯৯৯ সালে সাফ গেমসে সোনা জিতেছিল। আর সালাউদ্দিন এতদিন পর বলছেন, ‘জাতীয় দলকে অন্তত সাফের ফাইনালে দেখতে চাই ভবিষ্যতে।’

সাফের ফাইনাল যখন লক্ষ্য, ২০২২ বিশ্বকাপ খেলার ভিশন নিয়ে কিছু না বলাই ভালো! সালাউদ্দিনের মুখে তাই এখন আর ওই প্রসঙ্গই নেই।

মাঠের খেলা

ঘরোয়া ফুটবল সূচি মেনে চলবে। চার বছরের পরিকল্পনায় যেমন বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে প্রতিবছর প্রিমিয়ার লিগের দলবদল হবে এপ্রিলে। দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপেও একই সঙ্গে চলবে দলবদল। এত দিন দুটির লিগের কোনটি কখন হবে ঠিক ছিল না। আগামী বছর থেকে দুটি লিগই হবে একসঙ্গে।

মে মাসে ফেডারেশন কাপ, জুনে লিগ। পাঁচ মাসের লিগ শেষে নভেম্বরে স্বাধীনতা কাপ। ক্লাবগুলোর অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট দিয়ে শেষ হবে মৌসুম। প্রিমিয়ার ও চ্যাম্পিয়নশিপের সব দলের জন্যই যুব টুর্নামেন্ট প্রযোজ্য।

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্ট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি। মার্চে বঙ্গবন্ধু কাপ। আগামী বছর ডিসেম্বরে ঢাকায় সাফ টুর্নামেন্ট। পরের বছর সাফ ক্লাব টুর্নামেন্ট।

তৃণমূলে উন্নয়ন

শেরেবাংলা কাপ জাতীয় ফুটবল ও অনূর্ধ্ব-১৯ সোহরাওয়ার্দী কাপ আগামী বছর মাঠে ফিরবে একসঙ্গে এবং প্রতিবছরই হবে।

শেরেবাংলা কাপ নাম পাল্টে হচ্ছে জাতীয় জেলা চ্যাম্পিয়নশিপ, সোহরাওয়ার্দী কাপের নাম অনূর্ধ্ব-১৮ জেলা যুব চ্যাম্পিয়নশিপ। যুব চ্যাম্পিয়নশিপ ফেব্রুয়ারিতে, জেলা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ বছরের শেষ দিকে। 

অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৮ ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হবে। হবে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৪ ও ১৬ আবাসিক ক্যাম্প। অনূর্ধ্ব-১২ ও ১৪ বিভাগীয় টুর্নামেন্টসহ তৃণমূল কোচেস ট্রেনিং, কোচেস এডুকেশন বেশি গুরুত্ব পাবে।

পাইওনিয়ার লিগ শুরু ফেব্রুয়ারিতে।একই সময়ে হবে স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর ঢাকার তৃতীয়, দ্বিতীয় ও প্রথম বিভাগ লিগ।

 

 

পাঠকের মন্তব্য ( ৭ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে