লড়াই এবার শেষ চারের

ক্রীড়া প্রতিবেদক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

চিটাগং ভাইকিংস-রাজশাহী কিংস দুই দলই অনুশীলন করতে একাডেমি মাঠে এল একই সময়ে। বেলা দুইটায় মাঠে ঢুকেই কাল রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি ছুটে গেলেন চিটাগংয়ের ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ডোয়াইন স্মিথের কাছে। আর রাজশাহীর মুমিনুলকে ডেকে নিলেন চিটাগং অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এমন সৌহার্দ্যের ছবিতে লড়াইয়ের ঝাঁজ পাওয়া যায় না। তবে মাঠে নিশ্চয়ই কেউ কাউকে ছাড় দেবেন না তাঁরা। বিপিএলের ফাইনালে উঠতে যে জিততেই হবে তাঁদের। আজ দুপুরে এলিমিনেটরে চিটাগং-রাজশাহীর যে হারবে, তারই হবে বিদায়। তবে জিতলেও ফাইনাল নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে সন্ধ্যায় ঢাকা ডায়নামাইটস-খুলনা টাইটানসের কোয়ালিফায়ারে যে জিতবে তাদের ফাইনাল নিশ্চিত। হারলেও টিকে থাকবে শিরোপার আশা।

তামিমের নতুন অভিজ্ঞতা

২০১২ বিপিএলে তামিম ম্যাচ খেলেছিলেন মাত্র দুটি। ২০১৩ বিপিএলে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে ১০ ম্যাচ খেললেও ছিলেন না এলিমিনেটর ম্যাচে। গতবার চিটাগং ভাইকিংসকে শেষ চারে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারই প্রথম প্লে-অফ খেলতে যাচ্ছেন বাঁহাতি ওপেনার। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে আছেন, ১২ ম্যাচে ৪২৫ রান করে আছেন সবার ওপরে। তামিম ছন্দটা টেনে আনতে চান শেষ চারেও, ‘সব সময়ই দলে অবদান রাখার চেষ্টা করি। টুর্নামেন্টটা আমার ভালো যাচ্ছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এসেছে। এটাই বেশি হিসাব করা হবে।’

গেইল ফ্যাক্টর

ক্রিস গেইল থাকা মানেই প্রতিপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ! যদিও বিপিএলে এখনো গেইলের স্বরূপ দেখা যায়নি। প্রথম ম্যাচে ৪০ রান করেই যেন ঘুমিয়ে পড়েছেন! চার ম্যাচে ১৬.২৫ গড়ে তাঁর রান ৬৫। জ্যামাইকান ওপেনার নিশ্চয়ই নকআউট পর্বে এটি পুষিয়ে দিতে মরিয়া থাকবেন। গেইলের এমন ছন্দহীন পারফরম্যান্সে তামিম তাই চিন্তিত নন, ‘জানি যেকোনো মুহূর্তে ও এমন একটা ইনিংস খেলবে যেটা ম্যাচ একপেশে করে দেবে। এদিক দিয়ে খুশি যে গত চার ম্যাচে সে খুব বেশি রান পায়নি। আশা করব, পরের ম্যাচগুলোয় দু-একটি বড় ইনিংস খেলবে, যেটির সামর্থ্য তার আছে। আমাদের কাজটা তখন সহজ হয়ে যাবে।’

তামিম চিন্তিত না হলেও প্রতিপক্ষ অধিনায়ক স্যামি ঠিকই ভাবছেন গেইলকে নিয়ে। ক্যারিবীয় সতীর্থকে নিয়ে তাঁর আছে বিশেষ পরিকল্পনা, ‘টি-টোয়েন্টিতে ১৮টা সেঞ্চুরি তো আর সে এমনি এমনি করেনি। ওর জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। এখন এটা কাজে লাগাতে হবে।’

ঢাকার ‘মানসিক চাপ’

দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়ের সমন্বয় আর টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের বিচারে খুলনার বিপক্ষে ঢাকা স্পষ্টতই এগিয়ে। তবে একটি জায়গায় ঢাকার চেয়ে খুলনাই এগিয়ে। দুবারের সাক্ষাতেই তারা হারিয়েছে ঢাকাকে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে যে সাকিবরা কিছুটা পিছিয়ে থাকবেন, সেটি মানছেন ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ, ‘আমরা খুলনার সঙ্গে দুবার হেরেছি। সেমিফাইনালে ওদের সঙ্গে খেলার সময় মানসিকভাবে একটু চাপে থাকব। জানি আমরা ভালো দল। তবে যতই ভালো দল হন, মাঠে সেটা প্রয়োগ করতে পারছেন কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

খুলনার শক্তি

বেশির ভাগ ম্যাচই খুলনা জিতেছে বোলারদের সৌজন্যে। তাঁদের ব্যাটিং সম্পূর্ণ মাহমুদউল্লাহ-নির্ভর। তামিমের মতো খুলনা অধিনায়কও আছেন দারুণ ছন্দে, ১২ ম্যাচে ৩৬৯ রান করে আছেন দুইয়ে। প্রতিপক্ষ দলগুলোর মতো হয়তো বড় তারকা নেই খুলনা দলে, তবে তাদের শক্তির জায়গাটা কোথায় সেটি জানালেন মাহমুদউল্লাহ, ‘আমাদের দলের বড় শক্তি হচ্ছে দলীয় ঐক্য, টিম স্পিরিট। আমাদের দলে বড় খেলোয়াড় নেই; তবে কুপার একটা কথা বলেছিল, আমাদের বড় হৃদয়ের খেলোয়াড় আছে। আশা করি, সামনের ম্যাচেও ভালো লড়তে পারব।’

 

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে