Prothom Alo

জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বেড়েই চলেছে

নিম্নমুখী মূল্যস্ফীতি

| তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ গত কয়েক মাসে অনেকটাই প্রশমিত। ভোক্তা মূল্যসূচকের মাধ্যমে নির্ণীত মূল্যস্ফীতির বার্ষিক গড় হার এ বছর জানুয়ারি মাসে নেমে এসেছে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। গত বছর জানুয়ারি মাসে এই হার ছিল ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। সরকার যেহেতু চলতি অর্থবছরের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে বেঁধে রাখতে চায়, সেহেতু এই পরিসংখ্যান তার জন্য স্বস্তিদায়কই বটে। বিশেষ করে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার যথেষ্ট নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। আর খাদ্যের সীমিত মূল্যস্ফীতিই সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
সমস্যাটি হলো, সাধারণ মানুষের কাছে পরিসংখ্যানের এই জটিল হিসাব-নিকাশ বোধগম্য নয়। নিত্যদিনের বাজারদরের ওঠানামার সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি মিলিয়ে দেখতে চান। শীতের সবজির দাম চড়া থাকলেও কেন খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার মাত্র ৫ শতাংশ—এমন প্রশ্ন দেখা দেয় বৈকি। তবে ৫ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতিই যে সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের জন্য কম, এমনটা বলা যায় না। আর জানুয়ারিতে চাল, আটা, ডিম ও মাছের দাম যে বেড়েছে, তা সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার এখনো উচ্চপর্যায়েই রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ১০ শতাংশে ওঠার পর জানুয়ারি মাসে তা ৯ শতাংশে নেমে এসেছে বটে, তাতে মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ যথেষ্ট প্রশমিত হয়নি। যাতায়াত ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান মতে, পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়িভাড়া, জ্বালানি তেল, আসবাব গৃহস্থালি সামগ্রী, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে। যখন নিয়মিত ব্যবহার্য পণ্য ও সেবার দাম বাড়ে, তখন জীবনযাত্রাও যে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, তাতে সন্দেহ নেই।
মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক বিষয়টি নীতিনির্ধারক তথা সরকারের জন্য গুরুত্বসহকারে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। চাল-তেলের দাম বাড়তে থাকলে সরকারি মহলে যেভাবে নড়াচড়া পড়ে যায়, পরিবহন, বাড়িভাড়া বা শিক্ষা উপকরণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সে রকম কোনো প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয় না। তাহলে কি খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে নীতিনির্ধারকেরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হন না? অথবা এটি তাঁদের কাছে অনেকটাই গুরুত্বহীন? বরং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আয়-উপার্জন বৃদ্ধির বিষয়টি সমন্বয়ে সহায়ক নীতি-পদক্ষেপের দিকে সরকারের সক্রিয় মনোযোগ প্রয়োজন।
অর্থনীতির বাস্তবতা হলো, মূল্যস্ফীতি কখনো ঊর্ধ্বমুখী, কখনো নিম্নমুখী হবে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তত্ত্বীয়ভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ কমানোর মধ্য দিয়ে মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে পারে। আর মূল্যস্ফীতি কমে এলে মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিয়োগ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে পারে। সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে সে রকম চেষ্টাই লক্ষ করা গেছে। কিন্তু শুধু মুদ্রানীতি এককভাবে মূল্যস্ফীতি প্রশমন করতে পারে না। এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় জড়িত। বাংলাদেশের বাস্তবতায় তাই পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন : ৮১১০০৮১,৮১১৫৩০৭-১০, ফ্যাক্স : ৯১৩০৪৯৬
ই-মেইল :info@prothom-alo.com