
ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্য রাজস্থানে এক মা ছয় লাখ ৫০ হাজার রুপিতে তাঁর ১১ বছরের মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন। পুলিশ মেয়েটির মা ও পাচারের উদ্দেশ্যে ওই মেয়েকে কিনে নেওয়া দম্পতিকে আটক করেছে। খবর বিবিসির। অভিযুক্ত ওই মা পুলিশকে জানিয়েছেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের চার লাখ ৫০ হাজার রুপি জরিমানা পরিশোধের জন্য এক দম্পতির কাছে তিনি মেয়েকে বিক্রি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত মেয়েটির মাকে একটি গ্রাম্য প্রথা লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি মেয়েকে একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। গ্রাম্য প্রথা অনুসারে, বিয়ের সময় বর মেয়ের মাকে যৌতুক দিয়েছিল। কিন্তু পরে ওই মা অঙ্গীকার ভেঙে মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, মেয়েটিকে মাসখানেক আগে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। যে দম্পতি মেয়েটিকে কিনে নেয় তাঁদের বাড়ি থেকে মেয়েটি পালিয়ে আসার পরে ঘটনাটি জানা যায়। ওই দম্পতি পালিয়ে আসার সময় মেয়েটিকে তাড়া করেছিল। কিন্তু মেয়েটি একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পরে সেখানে থাকা লোকজন পুলিশে খবর দেয়। মেয়েটি পুলিশকে জানিয়েছে, যে দম্পতি তাঁকে কিনে নিয়েছিল, তাঁরা তাকে মারধর করেছে ও মুম্বাইয়ে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
পুলিশের পাচার-বিরোধী ইউনিটের প্রধান রাকেশ ভার্মা বলেন, ‘ মেয়েটির মা এবং তারাচাঁদ যাত ও সান্ত্রা দেবি নামে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, মেয়েটিকে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ও এখন সে নিরাপদ আছে।
বিভিন্ন বিষয়ে হতাশা ও দারিদ্র্যের কারণে ভারতে সন্তান বিক্রি করে দেওয়া একটি সাধারণ ঘটনা এবং এভাবে অনেক মেয়ে পাচার হয়ে যায়।