
সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ‘৮০৮ পিওরভিউ’ স্মার্টফোন দিয়েই সিমবিয়ান যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে নকিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রান্তিক আয় ঘোষণা দেওয়ার সময় সিমবিয়ান যুগেরও ইতি ঘোষণা দিয়েছে ফিনল্যান্ডের মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।
নকিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ৪১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার ‘৮০৮ পিওরভিউ’ ছিল এ প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ মুঠোফোন। এরপর সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর আর কোনো স্মার্টফোন বাজারে আনবে না প্রতিষ্ঠানটি।
নকিয়া কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নকিয়া এখন স্মার্টফোন তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজকে বেছে নিয়েছে। ২০১২ সালে উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার পরও সিমবিয়ান নির্ভর স্মার্টফোন তৈরি থেকে পুরোপুরি সরেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে নকিয়া ৮০৮ পিওরভিউয়ের পর সিমবিয়ান প্ল্যাটফর্মে আর কোনো স্মার্টফোন তৈরি করছে না প্রতিষ্ঠানটি।
বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, নকিয়ার প্রান্তিক আয় ঘোষণায় দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন পর লাভের ধারায় ফিরেছে। তবে কমে গেছে নকিয়ার তৈরি মুঠোফোন বিক্রি। অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাস অর্থাত্ চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত সিমবিয়ান নির্ভর স্মার্টফোন ব্যবসা চালিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় ২২ লাখ সিমবিয়ান নির্ভর স্মার্টফোন বিক্রি করেছে নকিয়া। চতুর্থ প্রান্তিকে মোট এক কোটি ৪৯ লাখ মুঠোফোন বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে লুমিয়া বিক্রি হয়েছে ৪৪ লাখ।
নকিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিমবিয়াননির্ভর ৪১ মিগাপিক্সেল ক্যামেরাযুক্ত পিওরভিউ প্রযুক্তিটি উইন্ডোজনির্ভর লুমিয়া সিরিজে যুক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, নকিয়া, এটিঅ্যান্ডটি, এলজি, মটরোলা, স্যামসাং, সনি এরিকসন ও ভোডাফোনসহ বেশ কিছু মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ১৯৯৮ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সিমবিয়ান লিমিটেড। পরে ১৯৯৮ সালে এটি সিমবিয়ান ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই আসে বৃহত্তম অপারেটিং সিস্টেম প্ল্যাটফর্মটি। তবে অ্যাপলের আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তার কারণে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসে সিমবিয়ান। সিমবিয়াননির্ভর স্মার্টফোন প্ল্যাটফর্ম থেকে পিছু হটে যায় মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। শেষ নাগাদ নকিয়াও সিমবিয়ান যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর নকিয়ার জনপ্রিয় স্মার্টফোনগুলো হচ্ছে- নকিয়া এন৮, নকিয়া ই৭, নকিয়া ই৬, নকিয়া এঙ্৭, নকিয়া সি৬-০১, নকিয়া সি৭।