সব

বিচিত্র

চাকরি ছেড়ে সফল কৃষিজীবী দম্পতি

রয়টার্স
প্রিন্ট সংস্করণ

মনে হতে পারে হলিউডের কোনো চিত্রনাট্য। জুলিয়ানা আর্মেলিন ও তাঁর স্বামী পাওলো সিকুয়েইরা ২০১০ সালে নিজেদের জীবন আমূল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। দুজনেই ব্রাজিলের সাও পাওলোয় আর্থিক খাতে ভালো চাকরি করতেন। মনস্থির করলেন, সব ছেড়েছুড়ে কফি চাষ শুরু করবেন। আর চলেও গেলেন সাত ঘণ্টা দূরের পথ পেরিয়ে স্বপ্নের খামারে।
সাত বছর পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ওই দম্পতি ব্রাজিলের সবচেয়ে সম্মানজনক কফি পুরস্কার জিতলেন। প্রতিষ্ঠিত শত শত কফিচাষিকে তাঁরা হারিয়ে দিয়েছেন। দেশটি ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে কফি রপ্তানি করছে।
সিকুয়েইরা গত শুক্রবার ওই পুরস্কার নেওয়ার পর বললেন, ‘কখনোই ভাবিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে এ রকম সাফল্য অর্জন করতে পারব।’
কলেজে পড়ার সময় সিকুয়েইরা-আর্মেলিনের পরিচয়। তাঁরা ব্রাজিলের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক। পরে একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কয়েক বছর কাটান। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর হয়ে সাও পাওলোতে ফেরেন। কয়েক বছর চাকরি করার পর আর্মেলিনের বাবার কারণেই তাঁরা কফি চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তিনি কফি বিন উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ কাজে আর্মেলিন তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করেন। পরে সবাই মিলে একসঙ্গেই কিছু একটা করার কথা ভাবলেন। সম্ভাব্যতা যাচাই হলে মিনাস গেরাইস রাজ্যের আইবিয়া এলাকায় ৫১৮ একর জায়গা কিনলেন।
সিকুয়েইরা বলেন, ওটা ছিল গবাদিপশুর একটা পুরোনো খামার। তাঁরা ২০১১ সালে প্রথম ওখানে চাষাবাদ শুরু করেন। দুই বছর পর প্রথম কফি বিন সংগ্রহ করেন। পুরোদমে ফসল তুলতে শুরু করেন ২০১৫ সালে। এক বছর পরই তাঁরা প্রথম পুরস্কারটি জেতেন।
আর্মেলিন বলেন, শতভাগ সেচনির্ভর এই চাষাবাদের জন্য তাঁরা অনেক পড়াশোনা করেছেন। মানসম্মত কফি উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ বহু মানুষের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তাঁদের পরামর্শমতোই সবকিছু করেছেন। কেউ কেউ বলেছিলেন, ‘তোমরা তো কফি চাষে একেবারেই আনাড়ি।’ ব্রাজিলীয় দম্পতি সেটা স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
বিশাল এই কর্মযজ্ঞে সিকুয়েইরা ও আর্মেলিন সরকারি আর্থিক সহায়তা নিয়েছেন। যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ কিনতেই বেশি খরচ হয়েছে। বাকি বিনিয়োগটা নিজেদের। এখন তাঁদের খামার মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, যার পরিমাণ বছরে ৬০ কেজির ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার ব্যাগ। যুক্তরাষ্ট্রের কফি বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি অনেক চুক্তি হয়ে থাকে।
আর্মেলিন বলেন, প্রচুর বিনিয়োগ করলেই কফি চাষে সাফল্য আসে না। এর জন্য প্রচুর নিষ্ঠা দরকার। তিনি আর্থিক ব্যাপারগুলোর দেখভাল করেন আর তাঁর স্বামী মাঠের ব্যাপারগুলো তত্ত্বাবধান করেন। তাঁদের কোনো আফসোস নেই। কাজটা খুবই পছন্দ দুজনেরই। বাকি জীবন কফির আবাদ করেই কাটিয়ে দিতে চান।

 

১২ বছর বয়সে গাড়িতে ১৩০০ কিমি পাড়ি!

১২ বছর বয়সে গাড়িতে ১৩০০ কিমি পাড়ি!

৫ গাড়ির যন্ত্রাংশ দিয়ে লিমোজিন!

৫ গাড়ির যন্ত্রাংশ দিয়ে লিমোজিন!

বিজ্ঞানের জন্য ৫০০ শহরে মিছিল

বিজ্ঞানের জন্য ৫০০ শহরে মিছিল

জন্ম যদি বঙ্গে তব...

জন্ম যদি বঙ্গে তব...

মন্তব্য ( ২ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

বরিশালের আলপথ, অলিগলি, নদীর পাড়ে হাঁটতেন জীবনানন্দ দাশ। কর্মজীবনও কাটিয়েছেন...
ফারজানা আক্তার
তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে

তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে

সড়কে, বাড়ির দেয়ালে, প্রচ্ছদ চিত্রকর্ম দিয়ে সুসজ্জিত অবস্থায় দেখে আপনার মনে...
সুজীৎ কুমার দাস
বাংলার মাটি দুর্জয় খাঁটি

বাংলার মাটি দুর্জয় খাঁটি

সাম্যের কবি চিরতারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বাড়ি আমরা দেখে আসতে পারি...
দিগন্ত বৈদ্য
জাগো বাহে কোনঠে সবায়

জাগো বাহে কোনঠে সবায়

বছরে দুই-একবার জন্মভূমির মায়ার টানে বাড়িতে ফিরে আসতেন আর পুরো বাড়ি ও শহর ঘুরে...
আসিফ ওয়াহিদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info