সব

পাঠক হাজির

ষোলোশহর স্টেশন

প্রিন্ট সংস্করণ

অলংকরণ: তুলিসেদিন আমাদের নবীনবরণ ছিল। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে সন্ধ্যা। বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম আটটার শাটল ট্রেনে শহরে ফিরব। ষোলোশহর রেলস্টেশনের পাশেই আমার বাসা। ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে গিয়ে বন্ধুরা মিলে ট্রেনের শেষ বগিটায় উঠে বসলাম। রাত হয়েছে বলে হয়তো ট্রেনে একদমই ভিড় নেই। বগিজুড়ে শুধু আমরা পাঁচজন; আর আমাদের থেকে দূরের একটা সিটে বসা একজন বৃদ্ধ লোক। লোকটার দিকে তাকাতেই আমার গা শিউরে উঠল। মাঝারি গড়নের শরীর, কিন্তু মুখের বাঁ পাশটা সম্পূর্ণ পোড়া। আগুনে বীভৎসভাবে কারও শরীর পোড়ার পর যেমনটা হয় আরকি! এমনকি তার বাঁ চোখটাও নষ্ট। মাথার বাঁ দিকটায় কোনো চুল নেই। সম্ভবত আগুনে পুড়েই মাথার বাঁ পাশটার চামড়া পুড়ে গেছে। দেখলেই কেমন যেন গা ছমছম করে ওঠে! আমি চোখ সরিয়ে বন্ধুদের গল্পে যোগ দিলাম। মন থেকে লোকটার চেহারা শিগগিরই সরিয়ে ফেলা দরকার।
ট্রেন ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে থামলে বন্ধুরা সবাই নেমে গেল। আমি কিছুটা সংকোচ করে ট্রেনের দরজার একদম পাশের সিটে এসে বসলাম। লোকটা এখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর সে উঠে এসে আমার পাশে বসল। বেশ নরম স্বরেই বলে উঠল, ‘বাবাজি, আপনে মনে হয় আমারে দেইখা ভয় পাইতেছেন। আমি খারাপ মানুষ না, নিশ্চিন্তে থাকেন।’
বৃদ্ধের কণ্ঠে একধরনের সততা ছিল বলেই মনে হলো। এবার আমি স্বাভাবিক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কী করেন আপনি?’
—আমি জমি চাষ করি। আপনাদের ক্যাম্পাস ইস্টিশনের পাশের জমিটা আমার।’
—ওহ আচ্ছা। কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করি?’
—‘কী জিগাইবেন, মুখের অর্ধেকটা পুড়ল ক্যামনে? বাবাজি, আমি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে গেছিলাম। তহন আমার জুয়ান গায়ে দেশ স্বাধীনের উত্তেজনা। নয় মাস যুদ্ধ কইরা মুক্তিযুদ্ধারা দেশটা পাকিবাহিনীর হাত থাইকা উদ্ধার করল। আমরাও যুদ্ধু শেষ কইরা বাড়ি ফিরা আইছি। আহা, এক মায়েরে রক্ষা কইরা ঘরে রাইখা যাওয়া আরেক মায়ের বুকে ফিরব ভাবতে ভাবতে বাড়িতে ঢুকছি! কিন্তু আগে থাইকাই খবর পায়ে ওত পাইতা ছিল এলাকার রাজাকারের দল। বাড়িতে ঢুকার সঙ্গেই বাড়ির পিছন থাইকা একের পর এক মশাল ঢিল দিয়া বাড়ির উপর ফেলাইতে লাগল তারা। দাউদাউ কইরা জ্বইলা উঠল আমার ছনের ঘর। ঘরের সাথে জ্বইলা গেল আমার মাও। আগুন থাইকা মারে বাঁচাইতে গিয়াই বাম দিকের এই মুখ-চোখ পুইড়া গেছিল। কিন্তু মারে বাঁচাইতে পারি নাই। এক মারে রক্ষা কইরা সেই দিন আরেক মায়ের বুকে ফিরা হয় নাই।’
বৃদ্ধ চুপ করলেন। এরই মধ্যে ষোলশহর স্টেশনে এসে ট্রেন থামল। আমার গন্তব্যে চলে এসেছি। ঠিক আছে ভালো থাকবেন বলে নেমে এলাম আমি।
মুনতাসির সিয়াম
প্রথম বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অব্যক্ত অস্বস্তি

অব্যক্ত অস্বস্তি

শূন্যতা অনুভব করলাম

শূন্যতা অনুভব করলাম

প্রথম পদ্য

প্রথম পদ্য

চুইংগাম

চুইংগাম

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

৪৫০ ফুট উঁচুতে হাঁটা

অন্য খবর ৪৫০ ফুট উঁচুতে হাঁটা

ছবিটা দেখেই গা ছমছম করে। সরু দড়ির ওপর হাঁটছেন একজন মানুষ। আর সে দড়ি ভাসছে...
প্রশ্ন

পাঠক হাজির প্রশ্ন

ছেলেবেলায় বাবাকে প্রায়ই একটা প্রশ্ন করতাম, ‘বাবা, তোমাকে ছোটবেলায় কী...
বর্ষবরণ উৎসব

কীভাবে এল বর্ষবরণ উৎসব

নতুন বছরকে আনন্দ-উৎসবে বরণ করে নেওয়ার রেওয়াজ সেই প্রাচীনকালের। গবেষকেরা...
বার্গার খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড

অন্য খবর বার্গার খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড

মুহূর্তের মধ্যে পাঁচটি বার্গার পেটে চালান করে দিলেন রিকার্ডো ফ্রান্সিসকো।...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info