সব

পাঠক হাজির

প্রতিচ্ছবি

প্রিন্ট সংস্করণ

.সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। অথচ আজ সকালেও বৃষ্টি ছিল। এখনো সামনের কংক্রিটের রাস্তাটা ভেজা, ল্যাম্পপোস্টের আলো সেখানে প্রতিফলিত হচ্ছে।
আজ সকালে ঠিক এখানেই আমার ব্যাগ থেকে ১০০ টাকার একটি নোট পড়েছিল। তখন টের পাইনি। কিছুদূর গিয়ে ব্যাপারটা খেয়াল করলাম। সঙ্গে সঙ্গেই এখানে পৌঁছে দেখি ছোট একটা ছেলে পরম যত্নে টাকাটি কুড়িয়ে নিচ্ছে।
গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে, ঠান্ডা বাতাস, ছেলেটার গায়ে বোতাম ছেঁড়া হাফ হাতা শার্ট। নোটটি তুলে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই দোকানেই গেল, যেখানে আমি একটু আগে খাবার কেনার জন্য গিয়েছিলাম। ছেলেটার পড়াশোনার দৌড় খুব বেশি না হলেও একেবারে কম নয়। একেকটা খাবারের সঙ্গে ট্যাগ করা দাম দেখছে আর মুখে চকচকে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠছে। আমি বেশি বিস্মিত হলাম না, বরং এটাই স্বাভাবিক মনে হলো। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটা পাশের দোকানের দিকে এগিয়ে গেল, বিক্রয়কর্মী বাধা দিতে গেলে সে তার হাতের নোটটি টিকিটের মতো ব্যবহার করে ভেতরে ঢুকে গেল।
কিন্তু এবারও সে কিছু না কিনেই বেরিয়ে এল। তারপর গেল মুদির দোকানে। আমিও পিছু নিলাম, সেখানে গিয়ে কিছু বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তারা আমাদেরই আরেকজন বন্ধুর ক্যানসার চিকিৎসার জন্য টাকা তুলছে। আমাকে একরকম বাধ্য হয়েই ওদের সঙ্গে দাঁড়াতে হলো। ছেলেটি ততক্ষণে দোকানের ভেতরে ঢুকে গেছে।
আমরা যখন এক দোকানির কাছ থেকে ১০ টাকা বের করার জন্য ঘাম ঝরাচ্ছি, ঠিক তখনই সেই ছেলেটা এসে আমাদের দিকে ৫০ টাকার নোট এগিয়ে দিল। ওর পোশাকের ছিরি দেখে সবাই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল, কিন্তু ছেলেটা ফান্ডে টাকাটি ফেলে দিয়ে একটি প্যাকেট হাতে বীরদর্পে হেঁটে চলে যেতে লাগল। আমি এগিয়ে গিয়ে থামালাম তাকে। কথা বলে যা জানতে পারলাম, তা হলো, ওর ছোট বোনের জ্বর, কিছু খেতে পারছে না, ওদের মা কাজে যেতে পারছে না। তাই আজ সকালে সে কিছু টাকা দিয়ে চাল-ডাল কেনার জন্য বের হয়েছিল, কিন্তু তার কাছে যে পরিমাণ টাকা ছিল, সেটা পর্যাপ্ত নয়। সৌভাগ্যবশত সে ১০০ টাকা কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেটা দিয়ে চাল-ডাল কিনে বাকি টাকা ভালো কাজে ব্যয় করল। এতে যার টাকা হারিয়েছে তার পুণ্য হবে। তবে তার ধারণা, এসব ফান্ডে টাকা দিলে পুরোপুরি সওয়াব হয় না। কারণ, কিছু টাকা দিয়ে সংগ্রহকারীরা তাদের নিজেদের প্রয়োজন মেটায়। তাই আর ৫০ টাকা সে মসজিদে দেবে। তবে সেটা আজ নয়, অন্য দিন। যেদিন তার টাকা হবে।
ছেলেটা তার বাড়ির পথে হেঁটে চলেছে আর আমি অবাক হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। কল্পনা করছি একমুঠো খিচুড়ি আর একটি পরিবার, ওর বোনটি আজ কত্ত খুশি হবে, রান্নার সময় তৃপ্তি নিয়ে বাচ্চাদের খুশি দেখবে ওদের মা, প্রথমে খেতে চাইবে না, যদি ছেলেমেয়েদের কম পড়ে যায়। ছেলেমেয়েদের খাওয়া শেষ হলেও মা কম খাবে, ওদের আরেক বেলা খাওয়াতে পারবে এই আশায়।
নওরীন নাহার
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

 

অব্যক্ত অস্বস্তি

অব্যক্ত অস্বস্তি

শূন্যতা অনুভব করলাম

শূন্যতা অনুভব করলাম

প্রথম পদ্য

প্রথম পদ্য

চুইংগাম

চুইংগাম

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

৪৫০ ফুট উঁচুতে হাঁটা

অন্য খবর ৪৫০ ফুট উঁচুতে হাঁটা

ছবিটা দেখেই গা ছমছম করে। সরু দড়ির ওপর হাঁটছেন একজন মানুষ। আর সে দড়ি ভাসছে...
প্রশ্ন

পাঠক হাজির প্রশ্ন

ছেলেবেলায় বাবাকে প্রায়ই একটা প্রশ্ন করতাম, ‘বাবা, তোমাকে ছোটবেলায় কী...
বর্ষবরণ উৎসব

কীভাবে এল বর্ষবরণ উৎসব

নতুন বছরকে আনন্দ-উৎসবে বরণ করে নেওয়ার রেওয়াজ সেই প্রাচীনকালের। গবেষকেরা...
বার্গার খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড

অন্য খবর বার্গার খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড

মুহূর্তের মধ্যে পাঁচটি বার্গার পেটে চালান করে দিলেন রিকার্ডো ফ্রান্সিসকো।...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info