সরকারের ৩ বছর

নিজেদের ভুলে বিএনপির এই অবস্থা

আবদুল মতিন খসরু | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
আজ ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের তিন বছর পূর্তি হলো। এই সময়ে সরকারের সাফল্য–ব্যর্থতা ও আগামী দিনের রাজনীতি নিয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন–এর মূল্যায়ন।

আবদুল মতিন খসরুবঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত তিন বছরে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জাগরণ সৃষ্টি করেছে। সরকার জনগণকে খাদ্যনিরাপত্তা দিতে পেরেছে। দেশ এখন খাদ্যে স্বনির্ভরই নয়, কিছু খাদ্য রপ্তানি করাও সম্ভব হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন এসেছে। চিকিৎসকদের গ্রামে থাকা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেছে। গ্রাম ও শহরের রাস্তাঘাট পাকা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি, সরকার সব গ্রামে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ অনেক আন্তর্জাতিক নেতা তঁাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন।

জনগণের জীবনমানের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সেটা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ সচেষ্ট রয়েছে। আমাদের দারিদ্র্যের হার ৩৪ ভাগ থেকে আজ ২০ ভাগে নেমে এসেছে। সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের নীতিতে কাজ করছে সরকার। দেশটা আমাদের সবার। আজ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ—এভাবে ভাগ করে না দেখে একতার ভিত্তিতে সবাই মিলে দেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে হবে। আমাদের দেশের তরুণেরা খুবই মেধাবী। যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে আমাদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন ঘটেছে, সেটা বিশ্বের বহু দেশের কাছে একটি মডেল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশে উঠতে হবে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আজ একটি গৌরবজনক নাম। যেখানেই যাই, ক্রিকেটের কারণে বাংলাদেশের নাম সমীহভরে উচ্চারিত হতে শুনি। যদিও ইদানীং নিউজিল্যান্ডে আমাদের দল খুবই খারাপ করেছে, এটা প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু খেলায় হার-জিত থাকবে। কিন্তু সার্বিকভাবে ক্রিকেটে আজ আমরা সমগ্র বিশ্বের শ্রদ্ধা ও আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ স্বপ্ন শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন সাধন করা। ইতিমধ্যে অবশ্য স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস শুরু হয়েছে। ডিজিটাল দেশ গঠন করা আজ আর নিছক স্বপ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ এর অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। জনগণ এখন যেকোনো স্থানে অনলাইনে যোগাযোগ করতে পারে। এখন অনেক ভর্তি অনলাইনে হচ্ছে। একসময় টেন্ডার বাক্স খোলা নিয়ে অনেক সন্ত্রাস হয়েছে। এখন ই-টেন্ডারিং চলছে। ই-শাসন ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে। গ্রামের মানুষও ডিজিটালের সুবিধা লাভ করতে পারছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ আর কোনো স্বপ্ন নয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর জাতিতে পরিণত করতে চাইছেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সরকার সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়—এই নীতি প্রতিষ্ঠা করেছে। ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন দিল্লিতে যাবেন, তখন তিস্তা চুক্তির বিষয়ে একটা ফয়সালা আশা করি। ভারত একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। নরেন্দ্র মোদি একজন ডায়নামিক প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করি, যেভাবে আমরা সীমান্ত চুক্তি করেছি, ছিটমহল ও অপদখলীয় এলাকা বিনিময় করেছি, সেভাবে আমরা বাকি দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সুরাহা করতে পারব।
বাংলাদেশের স্থল ভূখণ্ডের মতো সম–আয়তনের একটি পানি অঞ্চল আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জন করতে পেরেছি। আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সমুদ্র জয় এক অসামান্য কূটনৈতিক সাফল্যের গল্প। সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল, তখন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সে মন্দা আমাদের আঘাত করতে পারেনি। এ জন্য প্রবাসী শ্রমিক ও পোশাকশিল্পের লাখ লাখ শ্রমিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়। নারীশিক্ষা, তার মর্যাদা ও ÿক্ষমতায়নে সরকার অব্যাহতভাবে ভূমিকা রাখছে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক আমাদের অলীক সন্দেহ করেছিল। নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। এটা আমাদের একটা মাইলফলক অর্জন।
বিরোধী দলের ক্ষেত্রে আমি বলব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী ও গণতন্ত্রমনস্ক বিরোধী দলের সঙ্গে সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। আমাদের মতো দেশে বিরোধী দলের সঙ্গে একটা সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক চলমান রাখার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা আশা করি এটা ধীরে ধীরে অর্জন করা সম্ভব হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি বিগত নির্বাচন বয়কট করে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুঠারাঘাত করেছে। কারণ, একটি সরকার নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য। সাংবিধানিকভাবে একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তারাই সরকার গঠন করে।
বিএনপি যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত তাহলে তারা হয় প্রধান বিরোধী দল হতো, অথবা জিতলে তারাই সরকার গঠন করতে পারত। কাজেই বিএনপির অপরিপক্ব রাজনীতি ও অপরিণামদর্শী নেতৃত্বের কারণে বিরোধী দলের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। সবশেষে বলব, আজকের যুগে সামাজিক মিডিয়া ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না করার কোনো উপায় নেই।
আবদুল মতিন খসরু: সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক।

পাঠকের মন্তব্য ( ৫ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে