সাহিদাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন

পুলিশ ডেকে বাল্যবিবাহ বন্ধ

আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

কলেজছাত্রী সাহিদা আক্তারের প্রশংসা করতেই হয়। পুলিশ ডেকে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেওয়ার যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অপূর্ব। গত মঙ্গলবার প্রথম আলোয় সাহিদার এই সাহসিকতার খবরটি ছাপা হয়। খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক গ্রামে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের ছাত্রী সাহিদা আক্তার শ্রীপুর থানার দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে বিয়েবাড়িতে হাজির হয়ে দুই পরিবারকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। তাঁর চাপে পড়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরই তাঁদের ছেলেমেয়ের বিয়ে হবে। এভাবে বিয়ে বন্ধ করার জন্য আমাদের মতো দেশে অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়। সেই সাহস সাহিদা দেখিয়েছেন। আমরা এ জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাই।
এভাবে শারমিন নামের এক কিশোরী নিজের বাল্যবিবাহ নিজেই বন্ধ করেছে। গত বছর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সত্যনগর গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে শারমিনকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন তার মা। তখন শারমিনের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সহপাঠী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় রাজাপুর থানায় গিয়ে মা ও যে পাত্রের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল, এই দুজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে শারমিন। তাঁদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এখন শারমিন দাদির জিম্মায় থেকে লেখাপড়া করছে। এগিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্ন পূরণের পথে।
আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ এক বড় সমস্যা। বুধবারের প্রথম আলোর খবরে জানা যাচ্ছে, শরীয়তপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাবিনা আক্তারের আত্মহত্যার কারণ বিয়ের জন্য পরিবারের চাপ। বাল্যবিবাহের কারণে অনেক মেয়ের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে অল্প বয়সে মা হতে গিয়ে নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। কারও কারও মৃত্যুও ঘটছে। বাল্যবিবাহ হওয়ার ফলে অনেক মেয়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারে না। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এটা বিরূপ প্রভাব ফেলে।
বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তারপরও দেশে বাল্যবিবাহ হয়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাহিদা ও শারমিনের মতো মেয়েদের আমাদের খুব দরকার। তাদের দেখে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা ও না দেওয়ার ব্যাপারে অন্যরাও উৎসাহিত হবে। আমরা ঘরে ঘরে শারমিন ও সাহিদাদের চাই। সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনই সাবিনাদের আত্মঘাতী হওয়ার পথ থেকে ফেরাতে পারে।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে