• হোম
  •   অদম্য মেধাবী

অদম্যদের দীপ্তি

'ওরা হাত ধুবে কি, আমি নিজেই তিন-চার দিন হাত ধুব না। ওদের সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে সত্যিই আমি গর্বিত। ওদের সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, জীবনে কিছুই করতে পারিনি।' মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। তাঁর পেছনে একঝাঁক ঝলমলে মুখ। সামনে মিলনায়তনেও খুব বেশি চেয়ার খালি নেই। দেখা না গেলেও বোঝা গেল নন্দিত অভিনেতা জাহিদ হাসানের বুকও গর্বে প্রসারিত হলো অনেকখানি। তার আগে জাহিদ হাসানের সঙ্গে হাত মেলানোর একটা সুযোগ পেয়েছে মঞ্চে দাঁড়ানো প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। এই হাত মেলানোর সময়ই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সুমনা শারমীন রসিকতা করে শিক্ষার্থীদের হাত না ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মাইক্রোফোন হাতে পেয়ে হাসতে হাসতে সে কথার জবাব দিলেন জাহিদ হাসান।... বিস্তারিত


স্বপ্নপূরণে পাশে থাকার প্রত্যয়

 

জীবনের পথ কুসুম বিছানো থাকে না অনেকের। আজন্ম তাদের যেতে হয় কণ্টকময় পথ পাড়ি দিয়ে। অনেকে যেতে যেতে থেমে যায়। কেউ কেউ আবার দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়ায়, ভাগ্য নামের কুহেলিকার তোয়াক্কা না করে প্রবল প্রাণশক্তিতে এগিয়ে চলে আপন অভীষ্টের দিকে। তৈরি করে নেয় নিজের ভবিষ্যৎ। জীবনপথের সেই সব দুর্দম অভিযাত্রী এসেছিল গতকাল প্রথম আলোয়। শুনিয়েছে বিরুদ্ধ প্রতিবেশের সঙ্গে তাদের নিরুপায় সংগ্রামের কাহিনি। বলেছে সাহস ও স্বপ্নের কথা। বাষ্পরুদ্ধ হয়েছে কারও কণ্ঠ। নেমেছে অশ্রুধারা। তবে তা অসহায়ের অক্ষম কান্না নয়, বরং তা ছিল গৌরবের মহিমায় ভাস্বর। তারা হাল ছাড়ার কথা ভাবেনি। ব্যক্ত করেছে কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে কঠোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অটল সংকল্প। তাদের অনুপ্রেরণা দিতে এসে নিজেরাই অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা বলেছেন সমাজের প্রতিষ্ঠিত জনেরা। ... বিস্তারিত


অদম্য মেধাবীরা আসছে

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তারা আসছে। দুঃখে দীর্ণ, কষ্টে ক্লিষ্ট। কিন্তু জীবনকে অর্থময় করে তোলার স্বপ্নে দৃঢ়প্রত্যয়ী। সুযোগ-সুবিধার মুখাপেক্ষী না থেকে গভীর আত্মবিশ্বাস, নিষ্ঠা ও কঠোর শ্রমে সাফল্যকে করায়ত্ত করেছে তারা। তাদের সেই অদম্য প্রত্যয়ের প্রতি সম্মান জানাতেই আজ প্রথম আলোর কার্যালয়, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর সিএ ভবন মিলনায়তনে (দশম তলা) দেওয়া হবে সংবর্ধনা। দেওয়া হবে এই কঠিন জীবনসংগ্রামে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি। আজ শনিবার ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৯০ জন অদম্য মেধাবীকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চলতি বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৫ জন এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৫ জন। ২০১০ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া যে ৫০ জন অদম্য মেধাবীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে এই ৩৫ জন এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে তাঁদের কৃতিত্ব অক্ষুণ্ন রেখেছেন। ... বিস্তারিত



কথা রেখেছেন তাঁরা

 

'কাকা, আমি প্রথম আলোর কথা রেখেছি। পত্রিকার সবাইকে জানিয়ে দেবেন, আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি।' গত বুধবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনে এভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাতক্ষীরার পশ্চাৎপদ উপজেলা আশাশুনির উত্তম কুমার সরদার। ইচ্ছা থাকলে অভাব-অনটন যে কোনো বাধা নয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন উত্তমসহ আরও অনেকে। ২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিকূলতা পেরিয়ে জিপিএ-৫ পান তাঁরা। অদম্য ওই মেধাবীদের সাফল্যের কথা প্রকাশিত হয় প্রথম আলোয়। তাঁদের মধ্য থেকে ৫০ জনকে বাছাই করে শিক্ষাবৃত্তি দেয় ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল। ওই অদম্য মেধাবীদের অনেকে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের এগিয়ে যাওয়ার কথা শুনব আজ: ... বিস্তারিত


সুনাগরিক হয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়

 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজয়ের সংবাদ আসছিল চার দশক আগের এমন দিনে। সেই সংবাদে যুগপত্ মিশেছিল গৌরবময় আনন্দ আর বেদনা। চার দশক পর ওরাও এসেছে বিজয়ের গৌরব নিয়ে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। হতে পারে এই বিজয় তাদের নিজেদের যুদ্ধের, কিন্তু সেই জয়লাভও মানবিক মহিমায় কম মহিমান্বিত নয়। বিরুদ্ধ পরিবেশ, বৈরী পরিস্থিতি আর দারিদ্র্যের মতো প্রবল পরাক্রম প্রতিপক্ষকে পরাভূত করে লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে তারা। প্রথম আলো সে কারণেই তাদের বলেছে 'অদম্য মেধাবী'। গতকাল সোমবার সকালে ২০১১ সালের এসএসসিতে জিপিএ-পাঁচ পাওয়া ৫০ জন ও স্নাতক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ জন অদম্য মেধাবীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা পেয়ে ভবিষ্যতে সুনাগরিক হয়ে দেশগড়ার প্রত্যয় জানিয়েছে অদম্যরা। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ২০৩ জন অদম্য মেধাবীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ... বিস্তারিত


কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ

 

কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চর বিদ্যালয়ের ১৯৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে সরকারি বই বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে নতুন বই বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে প্রথম আলো ট্রাস্ট একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এভাবে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। তিনি আরও বলেন, 'আমি জেনে খুশি হয়েছি প্রথম আলো ট্রাস্ট বিদ্যালয় ভবন, আসবাবপত্র তৈরি, শিক্ষকের ও আয়ার বেতন, শিক্ষার্থীদের পোশাক. খেলাধুলার সামগ্রীসহ দুপুরে খাবার দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলেছে, রয়েছে শৌচাগার ও টিউবয়েল—যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় না। এ জন্য আমি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ, ট্রাস্ট ও সব সংবাদ কর্মীকে অভিনন্দন জানাই। ... বিস্তারিত

ব্র্যাক ব্যাংক -প্রথম আলো অদম্য মেধাবী তহবিল

এ বছর থেকে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে যারা দরিদ্র, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং যাদের শিক্ষার জন্য নিজেরা পরিশ্রম করে এ রকম দেশ ব্যাপী কিছু ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে‘ ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড’ । মাধ্যমিক পর্যায়ে এসএসসিতে যারা জিপিএ ৫ পেয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনার জন্য ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছেন । এককালীন দুই হাজার ৫শ টাকা। আর প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষার জন্য ও সহযোগিতার করবে‘ ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড’। এ বছর প্রথম আলোর শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে আসছেন তাদের মধ্যে থেকে উচ্চতর পর্যায়ে ১৬ জনকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি। প্রত্যেককে এককালীন ১৩ হাজার টাকা। আর প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে ৪ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে। এসব বৃত্তিপ্রাপ্তদের ব্যাংকের হিসাবে এ টাকা প্রতিমাসের নিদ্দিস্ট তারিখে পৌঁছে দেওয়া হয়। অদম্য মেধাবীদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

অদম্য মেধাবী

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাধ্যমিক পরিক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে যারা দরিদ্র, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং যাদের শিক্ষার জন্য নিজেরা পরিশ্রম করে এরকম দেশ ব্যাপী কিছু ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশাল বাংলার সাংবাদিকদল খবরের জন্য দেশব্যাপী ঘুড়ে বেড়ান এবং সংবাদ সংগ্রহ করেন। ফলে এই সুবাদে দেশের আনচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে আসেন। সামান্য অর্থের অভাবে যাদের উজ্জল ভবিষ্যত থাকা স্বত্বেও শিক্ষা জীবন গুরুতর ঝুঁকির মুখে তাদেরকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছে প্রথম আলো।

বিশাল বাংলার সাংবাদিকগণ প্রথমে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত দরিদ্র ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে যারা প্রচণ্ড সমস্যার মাঝেও কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করেন। সেই তালিকা প্রথম আলোর কর্মকর্তাগণ বাছাই করে অঞ্চল, নারী-পুরুষ এই প্রভৃতি বিষয়ের উপর একটি সামঞ্জস্যতা ও ভারসাম্য বজায় রেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। এরপর শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২ বছরের জন্য নির্বাচিত ছাত্র/ছাত্রীকে ১৫০০ টাকা মাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। এছাড়া ২৫০০ টাকা দেয়া হয় ভর্তিকালীন সময়ে। এই ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে অবশ্য দুই/এক জন আরও উচ্চতর পর্যায়ে যথা চিকিত্সা ও প্রকৌশল শাখায় লেখাপড়া করছে। তবে উচ্চতর পর্যায়ে সহযোগিতার হার খুব বেশী নয়। বর্তমানে বরিশাল মেডিকেল কলেজে নুপুর আকতার নামে একজন শিক্ষার্থীকে মাসে ৩০০০ টাকা হিসেবে মাসিকভাবে নিয়মিত সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বিগত ৩ বছর যাবত্ এই কর্মসূচী আরম্ভ হয়েছে আজ পর্যন্ত সর্বমোট ৭২ ছাত্রছাত্রীকে এই সহযোগিতা করা হয়েছে।

এই প্রকল্প দরিদ্র ছাত্রীদের একটু বেশী সুবিধা প্রদান করে থাকে যেন এই মেধাবী দরিদ্রছাত্রীরা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে পারে। প্রথম আলো তহবিল থেকে যারা সাহায্য পায়, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশেপাশের সকলেই তাদের প্রতি অনেক সহানুভূতিশীল হয় এবং সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে।