সব

‘দেখলেন, বুড়ি কেমন রেসিস্ট?’

আনোয়ার ইকবাল

১. সিডনি পয়টিয়ারের অস্কার পাওয়া ছবি ‘ইন দ্য হিট অব দ্য নাইট’ ইউএসআইএস এর সৌজন্যে ঢাকায় বসে দেখা হয়েছিল সত্তর দশকের শেষ ভাগে। তারও কিছুদিন পরে বিটিভি দেখাল ‘রুটস’। কৃষ্ণবর্ণের মানুষেরা পশ্চিমা দেশগুলোতে যে নির্মম বর্ণবৈষম্য আর সাম্প্রদায়িকতার শিকার; সাহিত্য, পত্রপত্রিকা আর চলচ্চিত্রের কল্যাণে সে ব্যাপারে আমাদের একটা সচেতন ধারণা দেশে বসেই ছিল। আর গোটা আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে কালোদের ওপর সাদা ঔপনিবেশিক পশ্চিমাদের নির্মম নিষ্পেশনের বহু গল্প তো সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করার পর যখন আমেরিকা আসার ব্যাপারটা গুছিয়ে আনছিলাম, বর্ণবৈষম্য আর সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তেমন একটা মাথাব্যথা আমার হলো না। কী কপাল, দেশ ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা পেরুতে না পেরুতেই সেই সাম্প্রদায়িকতা আর বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হতে হলো আমাকে।

ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় ৩৪ বছর আগে; বিলেতের মাটিতে। আশপাশের দেশগুলোতে কিছু যাওয়া আসা করলেও, পশ্চিমা দেশে সেই আমার প্রথম পদার্পণ। হিথ্রো এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আমার লন্ডনবাসী খালা যেমন যেমন বলে দিয়েছিলেন, ঠিক তেমন করেই আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন খুঁজে পিকাডেলি লাইনের ট্রেন ধরেছি। গাট্টি বোঁচকা সামলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। একটি খালি সিটের সন্ধানে এদিকওদিক তাকাচ্ছি। একপাশে দেখলাম দুজনের একটা গদি মোড়া বেঞ্চের অর্ধেকটা খালি। বাকি অর্ধেকটা দখল করে যে ভদ্রমহিলা বসে আছেন তার বয়স হবে সত্তরের কাছাকাছি। গাত্রবর্ণ ফ্যাকাসে লালের কাছাকাছি, বুঝলাম তিনি একজন বিলিতি মেমসাহেব। পরনে খুব পুরোনো হয়ে যাওয়া ফুলেল নকশার একটি ফ্রক, মোজাহীন পায়ে বহু ব্যবহৃত এক জোড়া জুতো আর হাতে জীর্ণ কুঁচকানো চামড়ার একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। পাশে গিয়ে বসতেই মনে হলো আমার দিকে তাকিয়ে ভুরু জোড়া কুচকে গেল তার। কিছুক্ষণ উসখুস করে একসময় সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি, তারপর আমার পা মাড়িয়ে একটু দূরে দুই সারি সিটের মাঝামাঝি একটি পোস্ট আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেন। কামরা ভর্তি প্যাসেঞ্জার, একটা আসনও খালি নেই। ছেড়ে যাওয়া সিটটাতে প্রায় ছুটতে ছুটতে এসে যিনি ঝুপ করে বসে পড়লেন, আন্দাজ করলাম তিনি আমার স্বদেশি। মুখ খুলতেই নিশ্চিত হলাম, পরিষ্কার সিলেটী ভাষায় তিনি আমাকে বললেন, ‘দেখলেন, বুড়ি কেমন রেসিস্ট?’
‘মানে?’
‘দেখলেন না আপনি পাশে বসেছেন বলে সে উঠে চলে গেল?’
‘তাই?’
মহিলার উঠে যাওয়াটা আমার কাছে কিছুই অস্বাভাবিক মনে হয়নি। ভেবেছিলাম হয়তো সামনের স্টেশনই তার গন্তব্যস্থল, তাই দরজার কাছাকাছি দাঁড়াতে সিট ছেড়ে উঠে গিয়েছেন। দেশি ভাইয়ের দেওয়া ঘটনাটির এমন একটি সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা পেতে মনটা কেমন দমে গেল। বিলেত তো কেবল আমার ট্রানজিট, আরও পশ্চিমে, আমার আসল গন্তব্যে না জানি কি দুর্ভোগ অপেক্ষা করে রয়েছে?

২. কুন্তা কিন্তে’র দেশে প্লেন চাকা ছোঁয়াতেই লন্ডনের ঘটনাটা আচমকা মনের পর্দায় ভেসে উঠল। আমেরিকা আসার রোমাঞ্চ ছাপিয়ে সাম্প্রদায়িকতা আর বর্ণবৈষম্যের দুশ্চিন্তা প্রথমবারের মতো আমাকে জাপটে ধরল। পা মাড়াবার মতো গাত্রবর্ণের মানুষেরা জেএফকে বিমানবন্দরের টার্মিনালজুড়ে গিজগিজ করছে। ইমিগ্রেশন-কাস্টমস পেরিয়ে বাইরে এসে খালাতো ভাইয়ের দেখা পেয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক বাবা, আমার দায়িত্ব এখন ওনার। আমার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে উনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি রে, খিদা পেয়েছে, নাকি জার্নির ধকলে ক্লান্ত?’ প্রথমে মিনমিন করে কয়েকবার না, না করে শেষমেশ ভেতর থেকে উগরে দিলাম, ‘আচ্ছা ভাইয়া, সাদারা কি সত্যি খুব রেসিস্ট?’ প্রশ্নটা শুনে ভাইয়া খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, ‘কিছুটা, তবে টেনশন করার মতো কিছু নয়।’
গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ধরে কুইন্সের দিকে গাড়ি ছুটছে, নানা কথাবার্তার ভেতর একসময় এই প্রসঙ্গে নিজেই ফিরে এলেন ভাইয়া। বললেন, ‘দেখ, সাদারা হয়তো সাম্প্রদায়িক, কিন্তু ওরা চতুর জাত, সহজে তোকে ভেতরটা বুঝতে দেবে না। ওরা কোনো সমস্যা নয়। বরং আমাদের সমস্যা অনেক জটিল কালোদের নিয়ে। এ দেশে ওরাই দেখবি বেশি জ্বালাচ্ছে। গালাগালি করবে, মারবে, টাকা পয়সায় কেড়ে নেবে; গা বাঁচিয়ে চলতে হলে ওদেরকেই সমঝে চলিস। আর হচ্ছে পুয়ের্তোরিকান, এরা আরও বিপজ্জনক; মাগিং, চুরি, ডাকাতি আর অহেতুক হেনস্তা করাতে ওরা কালোদের থেকে আরেক কাঠি বাড়িয়া!’
তাই নাকি? এ আবার কি ঝামেলা? লন্ডনের অভিজ্ঞতায় সাদাদের নিয়ে উৎকণ্ঠা এখনো মাথা থেকে গেল না, এর সঙ্গে উনি আবার জুড়ে দিলেন কালো আর পুয়ের্তোরিকানদের? মনটা খারাপ করে গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই আঁতকে উঠলাম। রাস্তায় যা মানুষ দেখছি দু-একজন বাদ দিলে সবই তো হয় সাদা, নয় কালো, নয় পুয়ের্তোরিকান। এদের সবার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করব কীভাবে? একবার ভাবলাম, আমার দরকার নাই এ দেশে থাকার, ভাইয়া গাড়ি ঘোরাও, জেএফকেতে ফের নামিয়ে দাও, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাই!


না! ফিরে যাওয়া হয়নি। গেলে হয়তো আমার বাকি জীবনটা এ দেশের মানুষ আর সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা নিয়ে কাটত।
ছাত্রজীবনের আমেরিকায় আমার প্রথম চাকরি একটা ইতালিয়ান রেস্টুরেন্টে। আশির দশকের শুরুতে নিউইয়র্ক শহরে মাফিয়াদের তখনো প্রকাশ্য অবস্থান। এই রেস্টুরেন্টটা যে তাদের প্রিয় একটা আড্ডাখানা কাজে যোগ দিয়ে সেটা বুঝতে অল্প ক’দিন লাগল। রেস্টুরেন্টের মালিক নিজেও যে একটা ছোটখাটো সিন্ডিকেট চালান সেটাও দু’দিনেই টের পেয়ে গেলাম। ব্যাপারটা নিয়ে সাময়িক অস্বস্তি হলেও তেমন পরোয়া করলাম না। মালিকের ছেলে আমার সমবয়সী, সেই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার। সপ্তাহ না ঘুরতেই ওর সঙ্গেও ভালো অন্তরঙ্গতা হয়ে গেল। শুধু সে নয়, বার টেন্ডার, শেফ, পিয়ানোবাদক আর ওয়েটার, যাদের সবার চাইতে ছোট একটা কাজ আমি করতাম, দেখলাম তারা কেউই আমার সঙ্গে বসগিরি করে না। রেস্টুরেন্টের মালিক বা ভয়ংকর সব খদ্দররাও না। উপমহাদেশীয় সামাজিক শ্রেণি বিভাজনে আমি অভ্যস্ত, প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বিপরীত এই পরিবেশটা খুবই বিভ্রান্তিকর মনে হলো।
সেই রেস্টুরেন্টের সহকর্মী আর ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের নির্মল বন্ধুসুলভ ব্যবহারে সাম্প্রদায়িক শুভ্রবর্ণ ভীতিটা তাড়াতাড়িই কেটে গেল। তবে কালো আর পুয়ের্তোরিকান সম্পর্কিত যে ভয়টা ভাইয়া আমার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন সেটা কিন্তু অত সহজে গেল না। সেসময় ভরদুপুরেও রাস্তার এপাশে দুটো কালো মানুষের উপস্থিতি দেখলে ওপাশের ফুটপাত থেকে সরে যেতাম। পুয়ের্তোরিকানদের জটলা যেসব পাড়ায়, পারলে তার ধারেকাছেও ঘেঁষতাম না। পুয়ের্তোরিকানের ভয় কি করে কাটল সেটা পরে আসছে, তার আগে কালোদের নিয়ে কিছু কথা।
পেশাদারি জীবনে আমার প্রথম চাকরি যে ফার্মে, সেটা একটা সংখ্যালঘু মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যাকে এ দেশে বলে ‘মাইনরিটি ওউন্ড কোম্পানি’। আমার কোম্পানির মাইনরিটি মালিকেরা সবাই কালো। শুরুতে গা ছমছম করলেও, খুব তাড়াতাড়িই বুঝতে পারলাম শিক্ষা, ভদ্রতা আর সফিস্টিকেশনের দিক দিয়ে এই কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থান যেকোনো গড়পড়তা মানুষের ওপরে। তবে কালো সম্প্রদায় নিয়ে ভুলটা ভেঙেছিল এই চাকরি শুরু করারও বেশ আগে। আমার এক বন্ধু প্রেমে পড়ে বিয়ে করল কৃষ্ণাঙ্গ এক মেয়েকে। একবার সে আমাকে নিয়ে বেড়াতে গেল তার শ্বশুরালয়ে। শহর থেকে দূরে এক গ্রামে বিশাল একান্নবর্তী পরিবার। জামাই তার বন্ধুকে নিয়ে এসেছে, দেখলাম বাড়িতে ভালোই হইচই শুরু হলো। না, মৌলভীবাজার বা সুনামগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে জামাই আর তার বন্ধুদের সম্মানে যেমন গোটা খাসি পড়ে যায়, জ্যাকিদের বাড়িতে ঠিক তেমনটি হয়নি; তবে খাসি জবাইয়ের কালচার এ দেশে থাকলে সেটা যে ঘটত তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কৃষ্ণাঙ্গ একটা পরিবারকে সেই প্রথম খুব কাছে থেকে দেখা। ওর থেকেই পরিচিত হলাম তাদের আচার, ব্যবহার, আন্তরিকতা আর পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে। জানাশোনা হলো প্রতিবেশী আরও কিছু কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের সঙ্গে। মনে হলো যেন আমাদের দেশের কয়েকটা সহজ সরল মফস্বলি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি।
ভিন্ন জাতের মানুষ সম্পর্কে আমাদের প্রবাসীরা অনেকেই নানান ধরনের অস্বস্তিতে ভোগেন। কিন্তু কেন? যে দেশে সম্পূর্ণ অপরিচিত ভিন্ন বর্ণ, ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষেরা দরজা খুলে ধরে আপনাকে আগে ঢুকতে দেয়, রাস্তা পেরুচ্ছেন তাই গাড়ি থামিয়ে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, চলতি পথের অচেনা মানুষগুলো আপনাকে শুভ সম্ভাষণ না জানিয়ে কখনো পাশ কাটিয়ে যায় না; তাদের নিয়ে কেন আমাদের এই অস্বাচ্ছন্দতা? কারণ, এই মানুষদেরই কেউ একজন হঠাৎ এমন একটা কিছু করে বসে, যা প্রচলিত ভ্রান্তিগুলোকে অহেতুক প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে।


সাম্প্রতিক ঘটনা; ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিটিং করে ফেরার পথে সাবওয়ের অপেক্ষায় ডিসি’র জুডিশিয়ারি স্কয়ার স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ওয়াশিংটন পোস্টের পাতা ওল্টাচ্ছি। সেই লন্ডনের মেমের বয়সী এক বৃদ্ধা পাশে বসা। লক্ষ করলাম মহিলা আমার দিকে বারবার ফিরে ফিরে তাকাচ্ছেন। তিনি যেভাবে সেটা করছেন সেভাবে এ দেশে সাধারণত কেউ করে না। জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমাকে কি কিছু বলতে চাইছ?’ ভদ্রমহিলা একটু ইতস্তত করে শেষে বললেন, ‘কিছু মনে করো না, তুমি যে কাগজটা ধরে আছ, সেটা কি তুমি পড়তে পার?’ আমি তো শুনে অবাক, ডিসি’র মেট্রো এলাকাতে আমার মতো দেখতে মানুষকে আজকাল এ ধরনের প্রশ্ন কেউ করে না। তা ছাড়া ক্লায়েন্ট মিটিং বলে সেদিন পুরোপুরি ধোপদুরস্ত হয়েই বেরিয়েছি। শুধু পোশাক বিবেচনায়ও সেদিন আমার শিক্ষিত হিসেবে উতরে যাওয়া উচিত ছিল। রাগটা চেপে রেখে শান্ত স্বরেই বললাম, ‘আমি পারি, তুমি কি পার?’ মহিলা বলল, ‘নিশ্চয়!’ মেজাজটা খারাপ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কথা বাড়ালাম না; প্ল্যাটফর্ম কাঁপিয়ে ট্রেনটাও তক্ষুনি এসে গেল। ট্রেনের কামরায় মাত্র গোটা কয়েক যাত্রী। অসংখ্য সিট খালি তবু কেউ একজন এসে আমার পাশেই বসল। তাকিয়ে দেখলাম সেই মহিলা। মহিলা আবার নতুন করে আলাপ শুরু করলেন, ‘তুমি কি আমার কথায় অফেন্ডেড হয়েছ?’
ভদ্রতা করে বললাম, ‘না!’
‘শোন, আমার প্রশ্নটা তোমার কাছে হয়তো অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। আসলে জান, আমি যে অজপাড়াগাঁয়ে জীবন কাটিয়েছি, সেখানে তোমার মতো মানুষ এ পর্যন্ত দেখিনি। মেয়ের কাছে বেড়াতে এসে প্রতিদিন এখানে এত রকমের মানুষ দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। তোমরা কারা, পৃথিবীর কোন প্রান্তে তোমাদের বাড়ি, এসব প্রশ্ন সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে। মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলেও ধমক খেতে হয়। কৌতূহল না মেটাতে পেরে অমন অভব্য প্রশ্ন করেছি।’
কথাটা শুনে যতটা অবাক হওয়া উচিত ছিল ততটা কিন্তু হইনি। কারণ, এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা তো এমনই। তা ছাড়া, বহুদিন আগেই আমার পুয়ের্তোরিকান বন্ধু হেসুস গেরুলাইটিসও আমাকে আমার সেই ব্রিটিশ সহযাত্রীর সাম্প্রদায়িক আচরণের গ্রহণযোগ্য একটা সদুত্তর দিয়ে দিয়েছে।
হ্যাঁ, পুয়ের্তোরিকানের সঙ্গেও আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল। একদিন এক অবেলায় ওর সামনে পড়তেই ভেবেছিলাম আজ হয়তো জান, মাল সবই গেল। যখন পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব হলো, জানলাম ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ডক্টর অব জুরিস্প্রুডেন্সের ক্যান্ডিডেট। ভাবুন, প্রেজুডিস জিনিসটা কি আমাদের কারওর চাইতে কম? আমরা দূর থেকে মানুষকে দেখে ঝটপট মাপতে শুরু করি। হেসুসকে যেদিন বললাম প্রথম দেখায় ওর সম্পর্কে আমি কি ভেবেছিলাম সেদিন আলোচনা আর তর্কবিতর্ক বেশ দীর্ঘ হয়েছিল, সবটুকু এখন আর মনে নেই; শুধু মনে আছে ও বলেছিল, ‘আমাদের এই সমাজে রেসিজম বা ডিসক্রিমিনেশন যে একেবারে নাই সেটা বলা খুবই ভুল হবে। তবে সাম্প্রদায়িকতা বনের বাঘ নয় বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মনের বাঘ। অচেনাকে নিয়ে মানুষের যে সহজাত ভীতি তা আমাদের মাঝে পারস্পরিক অবিশ্বাসের বীজ বপন করে আর তার কারণেই আমরা একে অপরকে এড়িয়ে চলি। সেটাকে অনেক সময় সাম্প্রদায়িক বা বর্ণবৈষম্যিক আচরণ মনে করে বিষণ্নতায় ভুগি।’

শিকাগো বৈশাখী মেলায় প্রথম আলো

শিকাগো বৈশাখী মেলায় প্রথম আলো

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

হোয়াইট হাউস দর্শনার্থীদের তালিকা গোপন থাকবে

হোয়াইট হাউস দর্শনার্থীদের তালিকা গোপন থাকবে

মার্কিন বিমান থেকে হিঁচড়ে নামানো হলো এশীয়কে

মার্কিন বিমান থেকে হিঁচড়ে নামানো হলো এশীয়কে

মন্তব্য ( ১ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

ট্রাম্প এখন ‘আবু ইভানকা’!

ট্রাম্প এখন ‘আবু ইভানকা’!

সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন...
ওয়াশিংটনে আজ ট্রাম্প-সিসি সাক্ষাৎ

ওয়াশিংটনে আজ ট্রাম্প-সিসি সাক্ষাৎ

যুক্তরাষ্ট্র সফররত মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে আজ সোমবার...
উত্তর কোরিয়াকে একাই সোজা করবে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়াকে একাই সোজা করবে যুক্তরাষ্ট্র

চীন সহায়তা করুক আর না-ই করুক, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক...
কোটিপতিতে ভরা হোয়াইট হাউস

কর্মকর্তাদের আর্থিক তথ্য প্রকাশ  ট্রাম্প ও পেন্সের তথ্য নেই কোটিপতিতে ভরা হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ও বাসভবনে কর্মরত অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা...
অন্যান্য
১১ মে পবিত্র শবে বরাত

১১ মে পবিত্র শবে বরাত

আগামী ১১ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত...
তিস্তার জল দিতে পারব না বাংলাদেশকে

তিস্তার জল দিতে পারব না বাংলাদেশকে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে...
এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ব্যক্তির!

এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ব্যক্তির!

পটুয়াখালীর বাউফলে এক নারীকে (২২) দুই ব্যক্তি স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। এ নিয়ে...
লবণ কম খেলেই রক্তচাপ কমে না

লবণ কম খেলেই রক্তচাপ কমে না

সবার মধ্যে সাধারণ একটি ধারণা হলো, লবণ কম খেলে রক্তচাপ কমে। সাম্প্রতিক এক...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info