সব

অভিযাত্রী

পাহাড় যখন ডাকে...

তাওহিদা জাহান
প্রিন্ট সংস্করণ

Untitled-21একপাশে চাঁদ, আর অন্য পাশে আড়মোড়া ভাঙার অপেক্ষায় সূর্য। আলো-আঁধারের লুকোচুরিতে সুউচ্চ এলব্রুস। মনে হলো, স্বর্গের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এলব্রুসের চূড়ায় তখন প্রচণ্ড বাতাস। নিজেদের মনে হয়েছিল এক একটি পালক। মেলে দিলাম পাখা। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বত এলব্রুসের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজেকে প্রকৃতির কোলে সঁপে দিয়েছিলেন সিফাত ফাহমিদা নওশিন। সবার কাছে পরিচিত ইতি নামে।
সম্প্রতি প্রথম বাংলাদেশ-রাশিয়া মৈত্রী অভিযানের অভিযাত্রী হিসেবে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বত এলব্রুসের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন বাংলাদেশের তিন অভিযাত্রী। বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়াজ মোরশেদ পাটোয়ারী ও সিফাত ফাহমিদা নওশিন। এর আগে চলতি বছরের ২৮ মার্চ বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন এলব্রুস জয় করেন।
পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়েটি বরাবরই বেশ ডানপিটে। পাড়ার দলের হয়ে এপাড়া-ওপাড়ায় ফুটবল, ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন। একবার তো একা একাই ভারতে চলে গিয়েছিলেন সাউথ ক্লাবের হয়ে টেনিস খেলবেন বলে। তবে যা-ই বলেন, আদরে আদরে বাঁদর বনে যাননি তিনি। নিজের স্বপ্নের পাশে সব সময় পেয়েছেন পরিবারকে। তাই এলব্রুসের চূড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন।
ইতির অভিযাত্রী হয়ে ওঠার গল্পটি বেশ মজার। ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার পিরহলী গ্রামের মেয়ে তিনি। সেই বয়সেই মনে মনে বেশ ভক্ত হয়ে যান ভারতের অভিযাত্রী বাচেন্দ্রী পালের। তিনি হলেন এভারেস্ট বিজয়ী ভারতের প্রথম নারী অভিযাত্রী। তখন থেকেই ইতি কান পেতে পাহাড়ের ডাক শোনার চেষ্টা করেন। সে ডাক ঠিকঠাক শোনার সুযোগটা পেয়ে যান মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে সাক্ষাতে। এর আগে বন্ধুরা মিলে কেওক্রাডং অভিযানে নেমেছিলেন একবার। বন্ধুদের প্রশংসা আর উৎসাহ ছিল সব সময়ই। ২০০৮ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে নারী দিবসে সাইকেল র‌্যালিতে যোগ দেন ইতি। এরপর যোগ দেন বাংলা ম্যারাথনে। এতে প্রথম হয়ে অভিযানের আগ্রহ আরও বেড়ে যায় তাঁর। ঢাকায় এসে যোগ দেন বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবে। পরিচিতি ঘটে মুসা ইব্রাহীম ও নর্থ আলপাইন ক্লাবের সঙ্গেও। এর মাঝেই ভারতের দার্জিলিংয়ে পর্বত আরোহণের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। ফিরে এসে যোগ্যতা বলেই সুযোগ পেয়ে যান এলব্রুস অভিযানের।
অজানা এলব্রুস সত্যি একদিন জয় করবেন, ভাবেননি কখনোই। সব বাধা পেরিয়ে ২৬ জুন জয় করেন এলব্রুস। তবে যাত্রাপথে তাঁদের বাতাসের বিপরীতে হাঁটতে হয়েছে। এলব্রুসের চূড়ায় নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয়েছিল তাঁর।

ইমো বোঝে ইমোশন বোঝে না!

ইমো বোঝে ইমোশন বোঝে না!

প্রিয় লেখক প্রিয় বই

প্রিয় লেখক প্রিয় বই

default image

পেটের খিদে নয় চোখের খিদে

দাওয়াতে যাওয়াও স্মার্টনেস

দাওয়াতে যাওয়াও স্মার্টনেস

মন্তব্য ( ৪ )

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

হাসপাতালে মুঠোফোন ব্যবহার

আদবকেতা হাসপাতালে মুঠোফোন ব্যবহার

একটু কল্পনায় ভাবুন, কোনো এক হাসপাতালের নিঃশব্দ করিডরে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি।...
মনের বাক্স

মনের বাক্স

আমি সত্যি এখন আর কিছু চাই না!আমি তোকে ছাড়া সত্যি কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারব...
কনক আদিত্যর পছন্দ দুধভাত, ছেলের ধনেপাতা ভর্তা ও পিৎজা

দুই প্রজন্ম কনক আদিত্যর পছন্দ দুধভাত, ছেলের ধনেপাতা ভর্তা ও পিৎজা

জলের গান ব্যান্ডের শিল্পী কনক আদিত্য। তাঁর ছেলে ধিয়ান গিরি ঢাকার নালন্দা...
টিকার পাদটীকা

কুশল সংবাদ টিকার পাদটীকা

যথাযথ সময়ে নবজাতকের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া নিয়ে মা-বাবা অনেক সময়...
এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাক: ক্যাথরিন মাসুদ

এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাক: ক্যাথরিন মাসুদ

মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায়...
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় আজ বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে...
দুই মাসেও ভুলে ভরা বইয়ের সংশোধনী নেই!

দুই মাসেও ভুলে ভরা বইয়ের সংশোধনী নেই!

শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় দুই মাস হতে চললেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ভুলে ভরা...
বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরের জন্য জায়গা খোঁজার কাজ শেষ: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরের জন্য জায়গা খোঁজার কাজ শেষ: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজার...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info