পুরোনো বইয়ের টানে

আল-জাজিরা | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

ধনঞ্জয় পান্ডের ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ বইয়ের স্টলধনঞ্জয় পান্ডের স্টলে ৩২ খণ্ডের সম্পূর্ণ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা রাখা আছে। তিনি মুম্বাইয়ের প্রতীক বুক সেন্টারের মালিক। এসেছেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিজয়ওয়াড়ার বই উৎসবে। বললেন, এই সুবিশাল বই ২০১০ সালের পর থেকে ছাপা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তো ডিজিটাল সংস্করণ পাওয়া যায়।
বিজয়ওয়াড়ার উৎসবে এ রকম আরও অনেক স্টলে পুরোনো বই বিক্রি হচ্ছে। এসবের অনেক আবার অন্যের হাত-ফেরতা বা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’। ১০০ বছর আগে প্রকাশিত চিলড্রেনস এনসাইক্লোপিডিয়াও আছে। সময়ে-সময়ে সেগুলোর প্রচ্ছদ বিবর্ণ হলেও পাতাগুলো ভালোই আছে। বিদেশি এমন অনেক বইয়ের চাহিদা ফুরায়নি। আরও আছে বড় বড় মানচিত্র, ইতিহাসের বই, পোকায় খাওয়া হলদে পাতার ক্ল্যাসিক উপন্যাস ইত্যাদি। এসব বইয়ের ক্রেতারা খুচরা দামের ৫০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন। সেই হিসেবে অনেক আকর্ষণীয় বইও মাত্র ১০০ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিজয়ওয়াড়া শহরে খুব সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অভাব আছে বলে স্থানীয় বইপ্রেমীরা বার্ষিক বই উৎসবের জন্য মুখিয়ে থাকেন। ১১ দিনের এই আয়োজন প্রতিবছর ১ জানুয়ারি শুরু হয়। এ বছর ৩২৮টি স্টল বসেছে। ধনঞ্জয় বললেন, ১৭ বছর ধরে সেকেন্ড-হ্যান্ড বই বিক্রি করছেন। আর বিজয়ওয়াড়ার মেলায় অংশ নিচ্ছেন সাত বছর ধরে। ব্যবসা প্রতিবছর ভালো হয়। কারণ, তাঁর কাছে বিরল সব বই থাকে। স্থানীয় বইপ্রেমীদের অনেকেই তাঁকে চেনেন। তবে অনলাইননির্ভর বই বিক্রি বেড়েছে বলে গত দু-তিন বছরে তাঁদের ব্যবসায় ভাটা পড়ছে।

১৮ বছর বয়সী মোনালিসা এসে জেন অস্টেনের প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস উপন্যাসের খোঁজ করেন। বললেন, তিনি বইটি পড়তে চান। পুরোনো হলেও চলবে। বেশি দাম দিয়ে নতুন বই না কিনলেও তাঁর চলে। তিনি ফার্মাসির ছাত্রী। সেকেন্ড-হ্যান্ড পাঠ্যবইও কেনেন।

মোনালিসার বন্ধু ঋদ্ধিমা বলেন, সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের বাজার তাঁদের কাছে গ্রন্থাগারের মতোই কাজে লাগে। তাঁরা বইগুলো পড়া শেষ হলে আবার এসব দোকানে বিক্রি করে কিছু টাকা ফেরত পান। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে পরিচয় থাকায় এতে তেমন অসুবিধা হয় না।

উৎসব আয়োজন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রবি কুমার বলেন, ২৫টি স্টলে এবার সেকেন্ড-হ্যান্ড বই বিক্রি হচ্ছে। হায়দারাবাদ, সেকান্দারাবাদ এবং মহারাষ্ট্র থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এসব স্টল দিয়েছেন।

হায়দারাবাদের এমএস বুক সেন্টারের মালিক মো. আসিফ আহমেদ কিছুটা চিন্তিত। কারণ, এ বছর নাকি বিক্রি তেমন ভালো নয়।

তবু সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের প্রতি অনেকে স্মৃতিকাতর আকর্ষণ বোধ করেন। বোধ হয় সেই কারণেই ব্যবসাটি টিকে আছে। প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকে এসে নিজেদের শৈশবের প্রিয় বইগুলোর খোঁজ করেন। নিজেদের নাতি-নাতনির হাতে একই বই তুলে দিতে পারলে অপার আনন্দ পান। অবশ্য তাঁদের চাহিদামতো সব বই তো আর পাওয়া যায় না।

৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার হাতে রুশ লোকগাথার বই। ২০ রুপি দিয়ে কিনেছেন। বললেন, পুরোনো বইয়ের দোকানে এলে মনে হয় গুপ্তধন খুঁজছেন।

 

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে