হ্যাকিংয়ের অভিযোগ শুনতে শুনতে ‘ক্লান্ত’ রাশিয়া

বিবিসি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

হ্যাকিংয়ের অভিযোগ শুনতে শুনতে ‘ক্লান্ত’ রাশিয়ামার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রুশ হ্যাকিং হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অভিযোগ করছে, তা শুনতে শুনতে রাশিয়া ‘ক্লান্ত’ হয়ে পড়েছে। এই অভিযোগ ‘উইচ-হান্ট’-এর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল সোমবার মস্কোয় এ মন্তব্য করেন।

‘উইচ-হান্ট’ কথাটির মাধ্যমে পেসকভ যুক্তরাষ্ট্রে রুশবিরোধী একধরনের চেতনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের ওই অভিযোগ নাকচ করার জন্য ‘উইচ-হান্ট’ কথাটি ট্রাম্পও গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন। 

‘উইচ-হান্ট’-এর আক্ষরিক অর্থ ‘ডাইনি শিকার’। তবে বিশেষ কোনো অভিযোগে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চড়াও হওয়া বোঝাতে সাধারণত কথাটি ব্যবহার করা হয়। একসময় কমিউনিস্টবিরোধী চেতনা জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে কথাটির বহুল ব্যবহার ছিল।

গতকাল পেসকভ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ শুনতে শুনতে রাশিয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়াকে জড়িয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেটা ভিত্তিহীন।

যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ওই প্রতিবেদন পেয়েছেন। এরপর রাশিয়া এই প্রথম কোনো প্রতিক্রিয়া জানাল। গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি বলছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির ই-মেইল হ্যাকিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে দেওয়াই ছিল ওই নির্দেশের লক্ষ্য।

পেসকভ গতকাল বলেন, মস্কো কোনো হ্যাকিং আক্রমণে জড়িত ছিল না। রাশিয়া বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। আনাড়ি ও অপেশাদারভাবে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তারা কিসের ভিত্তিতে এসব বলছে, মস্কো জানে না। এটা ‘উইচ-হান্টের’ কথা মনে করিয়ে দেয়। 

এদিকে, ট্রাম্পের হবু চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস গত রোববার ফক্সনিউজকে বলেছেন, হবু প্রেসিডেন্ট ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য মেনে নিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার ভূমিকা অস্বীকার করছেন না। 

এএফপি জানায়, প্রিবাস বলেন, ডোনাল্ট ট্রাম্প অস্বীকার করছেন না যে রাশিয়ার কেউ এই হ্যাকিংয়ে জড়িত ছিল।

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে এফবিআই, সিআইএ ও এনএসএর যৌথ প্রতিবেদনের উল্লেখ করে প্রিবাস বলেন, ‘আমি মনে করি, ট্রাম্প এই প্রতিবেদনটি মেনে নিয়েছেন।’  নির্বাচনের বৈধতার ভিত্তি দুর্বল করতে এবং রিপাবলিকান নির্বাচনী প্রচারণা সাহায়তার জন্য পুতিন ওই হ্যাকিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দারা উল্লেখ করেছেন। তবে পুতিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে