তুরস্কে আবার হামলা গাড়িবোমা বিস্ফোরণ

এএফপি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

তুরস্কে আবার সন্ত্রাসী হামলা ও গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহরে ইজমির একটি আদালত চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য, একজন আদালতকর্মী ও বাকি দুজন হামলাকারী।
কর্মকর্তারা এ ঘটনার জন্য কুর্দি মিলিশিয়াদের দায়ী করেছেন। গত রোববার নববর্ষের রাতে ইস্তাম্বুলে নাইট ক্লাবে জঙ্গি হামলার ঘটনার সপ্তাহ না পেরোতেই তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমিরে এ হামলার ঘটনা ঘটল। ওই হামলায় ৩৯ জন নিহত হয়। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
গতকাল ইজমিরে হামলাকারীরা আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে একটি গাড়ি চালিয়ে দেয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের থামানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা গুলি করতে শুরু করেন। বেধে যায় বন্দুকযুদ্ধ। একপর্যায়ে হামলাকারীরা গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় চারজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
উপপ্রধানমন্ত্রী ভেসি কাইনাক বলেন, ইজমিরের এইজিয়ান উপকূলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিলিশিয়ারা হয়তো আরও বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে কালাশনিকভ রাইফেল, হাতবোমা এবং রকেটচালিত গ্রেনেড উৎক্ষেপক ছিল। উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বোঝা গিয়েছিল, তাঁরা বড় পরিকল্পনা নিয়ে অস্ত্রের মজুত গড়েছিল।
ইজমিরের গভর্নর বলেন, হামলার ঘটনার নেপথ্যে কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সদস্যরা আছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইস্তাম্বুলের নাইট ক্লাবে হামলা চালানো বন্দুকধারী উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর বলে ধারণা করছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। দেশটির জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা বেইসি কাইনাক একটি সম্প্রচার মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বেইসি কাইনাক বলেন, হামলাকারীর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে কর্তৃপক্ষের বদ্ধমূল ধারণা, তিনি উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর। তদন্তকারীরা হামলাকারীর সম্ভাব্য অবস্থান এবং যোগাযোগ সম্পর্কেও জানতে পেরেছে।
ইস্তাম্বুলের উপকণ্ঠের একটি শহরে পুলিশের অভিযান ও সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করার ঘণ্টা খানেক পর বেইসি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী ওই সন্ত্রাসীর পরিচয় শনাক্ত করেছে এবং তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।’ হামলার জন্য ওই বন্দুকধারী ‘বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত’ বলেও এ সময় জানান বেইসি।
তুর্কিভাষী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উইঘুর জাতিগোষ্ঠী তুরস্কের একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। চীনের প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল থেকে এই জাতিগোষ্ঠী তুরস্কে পাড়ি জমায়।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে