সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিল সিরীয় বিদ্রোহীরা

এএফপি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

কাজাখস্তানের রাজধানী আসতানায় অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সিরিয়ার কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। দেশজুড়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে বৈঠক থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের কথা ভাবছে অন্য বিদ্রোহী দলগুলো। রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলতি মাসের শেষ দিকে সরকার ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বৈঠকটি হওয়ার কথা।
সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এক বিবৃতির মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকারি বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে অভিযান অব্যাহত রাখলে তারাও যুদ্ধবিরতির ইতি টানবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সিরিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে বিমান হামলা চলছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে এই ধরনের হামলায় গতকাল মঙ্গলবার এক গর্ভবতী নারী মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন।
রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সিরিয়ার সরকার ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীরা নতুন এক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে এ যুদ্ধবিরতি গোটা সিরিয়ায় কার্যকর হয়। প্রতিবেশী তুরস্কের উদ্যোগের ফলে সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও রাজধানী দামেস্কের উত্তরাঞ্চলে ওয়াদি বারাদা এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী। সরকারি বাহিনীর দাবি, ওই অঞ্চলে আল-কায়েদার সাবেক অংশ আল নুসরা ফ্রন্ট (বর্তমানে ফাতেহ আশ-শাম) এবং তাদের সহযোগীরা রয়েছে। তারা যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়েনি। অবশ্য বিদ্রোহীদের দাবি, সব গোষ্ঠীই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়বে।
গত সোমবার অধিকাংশ সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। তাই তারা মধ্য এশিয়ার আসতানায় বৈঠক নিয়ে সব ধরনের আলোচনা স্থগিত করে দিচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদ্রোহীরা যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করেছে। কিন্তু বাশার বাহিনী এবং তাদের মিত্ররা এর লঙ্ঘন করেই চলেছে। বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো বন্ধ হয়নি। যদি যুদ্ধবিরতি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা না হয়, তাহলে তা অকার্যকর ও বাতিল বলে ধরে নেওয়া হবে।
সিরীয় সরকার বলছে, রাজনৈতিকভাবে দেশের চলমান সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওয়াদি বারাদা এলাকার বিদ্রোহীরা বিনা উসকানিতে সেখানকার স্থাপনাগুলো নষ্ট করছে। পানি সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। অবশ্য বিদ্রোহীদের দাবি, সরকারি বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে হামলা করার কারণেই পানি সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে