তুরস্কে নাইট ক্লাবে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৯

উৎসবের রাতে বিভীষিকা

এএফপি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরে নববর্ষ উদ্যাপনের আয়োজনে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে এক বন্দুকধারীর হামলা। গত শনিবার মধ্যরাতের পর একটি জনাকীর্ণ নাইট ক্লাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩৯ জনকে হত্যা করে ওই অস্ত্রধারী। আহত হয়েছে অন্তত ৬৯ জন। হতাহত ব্যক্তিদের অনেকেই বিদেশি।
এ হামলার দায় গতকাল রোববার পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এটাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সদ্য বিদায় নেওয়া ২০১৬ সালটি তুরস্কের জন্য রক্তক্ষয়ী ছিল। নতুন বছরের শুরুতে আবারও সেখানে রক্তপাত হলো।
সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থানীয় সময় রাত সোয়া একটায় হামলা শুরু হয়। হামলাকারী ব্যক্তি ইস্তাম্বুলের অভিজাত রেইনা ক্লাবের প্রবেশপথে প্রথমেই পুলিশের এক সদস্য ও একজন সাধারণ লোককে গুলি করে হত্যা করে। পরে ক্লাবের ভেতরে উদ্যাপনকারীদের ওপর চড়াও হয়। এ হামলায় বিদেশিসহ ৩৯ জন নিহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলার সময় ক্লাবটিতে অন্তত ৭০০ মানুষ উপস্থিত ছিল।
নিহত বিদেশিদের মধ্যে সৌদি আরবের পাঁচজন, জর্ডানের তিনজন, লেবাননের তিনজন, তিউনিশিয়ার দুজন, ভারতের দুজন, বেলজিয়ামের একজন, লিবিয়ার একজন ও ইসরায়েলের একজন আছে বলে জানিয়েছে ওই সব দেশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী ছিল একজন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেছেন, হামলাকারী একাধিক হতে পারে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ফুটবলার সেফা বয়দাস বলেন, ‘বন্দুকের গুলির আওয়াজ হলো। নাইট ক্লাবের ভেতরটা প্রচুর ধোঁয়া ও ধুলায় ছেয়ে গেল। মেয়েদের অনেকে চিৎকার করছিল। ৩৫ থেকে ৪০ জন মারা গেছে বলে শুনেছি। কিন্তু সংখ্যাটা হয়তো আরও বেশি। কারণ, ছোটাছুটির সময় মেঝেতে পড়ে থাকা অনেককে ডিঙিয়ে যেতে হয়েছিল আমাদের।’
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ইস্তাম্বুলে বেসামরিক মানুষের ওপর এ জঘন্য হামলা চালানো হয়েছে। তবু সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তুরস্ক অটল থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সয়লু বলেছেন, হামলাকারী ঘটনার পর পালিয়ে গেছে। তার খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি হচ্ছে। আশা করা যায়, অপরাধীকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, নিহত ২০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশি। আহত অবস্থায় ৬৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাকারীর সংখ্যা মাত্র একজন বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের গভর্নর ভাসিপ সাহিন বলেন, হামলাকারী নিরপরাধ লোকজনের ওপর অত্যন্ত নির্মমভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। নববর্ষ উদ্যাপনের আনন্দ করতে সাধারণ মানুষ ওই নাইট ক্লাবে যায়। টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, হামলার সময় আতঙ্কে অনেকে বসফরাস প্রণালির পানিতে ঝাঁপ দেয়।
ঘটনার কিছু সময় পরই দেওয়া বক্তব্যে গভর্নর একে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করেন।
হোয়াইট হাউস এই ‘বর্বর’ হামলার নিন্দা জানিয়ে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইস্তাম্বুলের এ হামলায় এক ইসরায়েলি নারী আহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির পর্যটকদের জন্য তুরস্ক একটি পছন্দের জায়গা।
ইস্তাম্বুলের হামলাটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসে জঙ্গি হামলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেখানে রাতের বেলা একাধিক স্থানে বন্দুকধারীর গুলি ও বোমা হামলা হয়েছিল। এতে ১৩০ জন নিহত হয়। কেবল বাতাক্লঁ কনসার্ট হলেই ৯০ জন নিহত হয়েছিল।
নববর্ষের প্রাক্কালে হামলার আশঙ্কায় সিডনি থেকে শুরু করে প্যারিস এবং রিও ডি জেনেরিও থেকে লন্ডন পর্যন্ত বিশ্বের বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। ইস্তাম্বুলে অন্তত ১৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন ছিল। তাদের কেউ কেউ বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী সান্তা ক্লজের লাল-সাদা পোশাকে ছিল।
তুরস্কে ২০১৬ সালের বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায় কুর্দি জঙ্গি ও ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) দায়ী করা হয়। বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদাগ টুইটারে লিখেছেন, কোনো সন্ত্রাসী হামলাই তুরস্কের ঐক্য নষ্ট করতে পারবে না বা দেশটির সংহতি ভাঙতে পারবে না। তা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে দুর্বল করতেও পারবে না।
.রেইনা ক্লাব
ইস্তাম্বুলের একটি অভিজাত বিনোদনকেন্দ্র রেইনা ক্লাব। বসফরাস প্রণালির তীরে অবস্থিত শহরটির ইউরোপীয় অংশে এটির অবস্থান। খুবই ব্যয়বহুল ক্লাবটিতে প্রবেশ স্থানীয় সবার জন্য সহজ নয়। বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। ভেতরে রেস্তোরাঁ এবং নাচের জায়গা আছে। পানির কাছাকাছি বারান্দা থেকে রাতের আলোকোজ্জ্বল ইস্তাম্বুল খুবই চমৎকার দেখা যায়। এ ক্লাবের সদস্য ও অতিথিদের মধ্যে আছেন ফুটবলার থেকে শুরু করে নামীদামি অভিনয়শিল্পীরা। প্রতি সপ্তাহে ছুটির সময়কার অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। রেইনা ক্লাবের মালিক মোহমেত কোকারস্লান বলেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দারা আগেও সতর্ক করেছিল।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে