বিচিত্র

সম্মিলিত অনুতাপ

বিবিসি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

.জাপানিদের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা বেশি। মাঝে মাঝে সেটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। ২০১৬ সালে দেশটিতে প্রকাশ্যে সম্মিলিত অনুতাপ করার একাধিক ঘটনা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক হয়েছে। যেমন একবার কয়েকজন মা-বাবা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ফৌজদারি অপরাধের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমনকি জাপানের ব্যবসায়িক জগতেও এই সংস্কৃতি চালু আছে।
অভিনেত্রী আতসুকো তাকাহাতা নিজের অপরাধী ছেলের জন্য গত আগস্টে আবেগঘন ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। যৌন হয়রানির অভিযোগে ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে সে খালাস পেয়েছিল। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর আগেই তাকাহাতা ওই অপরাধের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
২০১৩ সালেও প্রায় একই ধরনের একটা ব্যাপার ঘটে। টেলিভিশন উপস্থাপক মিনো মোনতা পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ, চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর ৩১ বছর বয়সী ছেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে মোনতা বলেছিলেন, তিনি ছেলের এই আচরণের নৈতিক দায় মাথা পেতে নিয়েছেন।
কেবল তারকা ব্যক্তিরাই এমন আচরণ করেন, তা নয়। গত জুলাইয়ে ১৯ ব্যক্তিকে ছুরি মেরে হত্যার বেদনাদায়ক ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিটির বাবা ক্ষমা চেয়ে নিজের কর্মস্থলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আরও কয়েক বছর আগে ২০০৮ সালে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আকিহাবারা সড়কে সাতজনকে হত্যা করেন। তাঁর মা-বাবা নিজেদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের ছেলে সাংঘাতিক অপরাধ করেছে। এ জন্য আমরা হতাহত ব্যক্তিদের কাছে সবিনয় ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
ওই দম্পতির নতমস্তক ছবি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছিল। সন্তানের কৃতকর্মের দায় নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার মনোভাবের প্রচলন নাকি সেই সামুরাই যুগ থেকে। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকের জাপানেও এ রকম ঘটনার নজির মেলে। কেউ অপরাধ করলে শাস্তি গোটা দলকেই মেনে নিতে হতো।
সন্তানের অপরাধের দায় নিয়ে দুঃখপ্রকাশের এমন সংস্কৃতি সারা বিশ্বে বলতে গেলে বিরল। তবে একেবারে যে নেই, তা-ও নয়। ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র যখন বর্ণবাদী মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন, তাঁদের একজনের মা-বাবা জনসমক্ষে ক্ষমা চান।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে