ট্রাম্প প্রশাসনকে অবৈধদের তথ্য দেবে না নিউইয়র্ক সিটি

বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিলে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে না। এই নগর বৈধতার কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের সুবিধার্থে যে পরিচয়পত্র কর্মসূচি চালু করেছে, সে তথ্যও কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা ক্যাটস। নিউইয়র্ক নগরের পাঁচটি বরো বা বিভাগের মধ্যে কুইন্সেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অভিবাসীর বাস।

মেলিন্ডা ক্যাটস অত্যন্ত কর্মঠ ও উদ্যোগী হিসেবে বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে বলেন, যে বহুজাতিক ও বহুভাষিক সংস্কৃতির জন্য নিউইয়র্ক শহর গর্বিত, বাংলাদেশিরা তার অপরিহার্য উপাদান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগেই এই শহর কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে। কুইন্সের প্রেসিডেন্ট ক্যাটস বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে এ বরোর কোনো একটি স্থানে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণ ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেইট ক্রাইম) নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা কী করছেন—জানতে চাওয়া হলে প্রেসিডেন্ট ক্যাটস বলেন, নগরের কর্মকর্তারা কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছেন। নগরের নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নিল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমন্বিত কর্মসূচি প্রণয়ন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ক্যাটস প্রবাসী বাংলাদেশিদের সব ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করার আহ্বান জানান।

অবৈধ অভিবাসীদের সমস্যাটি জটিল, এ কথা উল্লেখ করে মেলিন্ডা ক্যাটস বলেন, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন অভিবাসী বহিষ্কারের কোনো উদ্যোগ তাঁরা সমর্থন করবেন না।

নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসীদের সাহায্যার্থে যে সিটি আইডি কার্যক্রম চালু করেছে, তাতে প্রায় এক লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই তথ্য হাতে পেলে অবৈধ ব্যক্তিদের বহিষ্কারের কাজে ব্যবহার করতে পারে—এমন উদ্বেগের কথা স্বীকার করে কুইন্স বরোর প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে নগরের মেয়রের আশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। এমনকি ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির অধীনে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষিতও হবে না। প্রেসিডেন্ট ক্যাটস আশ্বাস দেন, অভিবাসীদের স্বার্থে যে আইডি কর্মসূচি চালু হয়েছে, তা অভিবাসীদের স্বার্থে আঘাত করে এমন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। 

সিটি আইডি কর্মসূচির অধীনে সংগ্রহ করা তথ্য মুছে ফেলা হবে বলে নিউইয়র্কের মেয়র দুই সপ্তাহ আগে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অবশ্য দুজন স্থানীয় রিপাবলিকান কাউন্সিল সদস্য মামলা করেছেন। নিউইয়র্কের একটি আদালত আপাতত এই উপাত্ত নষ্ট না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আদালত তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে