জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’: ইসরায়েল

ইসরায়েলকে ‘শক্ত থাকতে’ বললেন ট্রাম্প

এএফপি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

ডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করা পর্যন্ত ইসরায়েলকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘শক্ত থাকতে’ বলেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অসম্মান’ করা হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান হবে।
পাশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয় ইসরায়েল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প নিজের টুইটারে এক বার্তায় এ ঘোষণা দেন।
এদিকে ইসরায়েলের পত্রিকা হারেৎস জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারে ম্যাককুলিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিফোনে বলেছিলেন, অধিকৃত এলাকায় তাঁর দেশের বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস হলে তা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে দেখা হবে। পত্রিকাটি বলেছে, শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগেই ম্যাককুলিকে ফোন করেছিলেন নেতানিয়াহু।
নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ওই প্রস্তাবের পক্ষে সহযোগী দেশগুলোর একটি নিউজিল্যান্ড। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। টেলিফোনে কথোপকথনে ম্যাককুলিকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা হবে কলঙ্কজনক। আমি আপনাকে এটাতে সমর্থন না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি প্রস্তাবে সমর্থন অব্যাহত রাখেন, আমাদের দৃষ্টিতে তা হবে যুদ্ধ ঘোষণা। এর কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটবে। আমরা নিউজিল্যান্ড থেকে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে জেরুজালেমে ডেকে পাঠাব।’ জবাবে নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করে ম্যাককুলি বলেছিলেন, ‘এই প্রস্তাব আমাদের নীতির অনুরূপ এবং আমরা তা সামনে এগিয়ে নিতে সমর্থন দেব।’
এদিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে প্রায় ৫০০ বসতি স্থাপনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য অনুষ্ঠেয় ভোট স্থগিত করে দিয়েছে ইসরায়েলের এই সংক্রান্ত কমিটি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধের বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গত শুক্রবার একটি প্রস্তাব পাস হয়। এতে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ক্ষুব্ধ হন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওবামা প্রশাসন পেছন থেকে ছড়ি ঘুরিয়ে প্রস্তাবটি পাস করিয়ে নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাবের ভাষা যে ওবামা প্রশাসন থেকে করা হয়, তার প্রমাণ ইসরায়েলের কাছে আছে। একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, একাধিক আরব দেশের কাছ থেকে তাঁরা এ বিষয়ে নিশ্চয়তা পেয়েছেন। তবে অভিযোগ ‘সত্য নয়’ বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই প্রস্তাব ইসরায়েলের জন্য ‘জেগে ওঠার ডাক’ হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অধিকৃত এলাকায় অব্যাহত ইসরায়েলি বসতির ফলে এই সীমানার ভেতর দুই রাষ্ট্রবিষয়ক জাতিসংঘ প্রস্তাব অকেজো হয়ে পড়ছে। সে কারণে ওবামা প্রশাসন অবৈধ বসতি স্থাপনা বন্ধের দাবি বারবার জানিয়ে এসেছে, কিন্তু ইসরায়েলি সরকার সে কথায় গুরুত্ব দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রশ্নে ওবামা প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তাঁর অবকাশ শেষ হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনে ফিরে আসছেন। ২৮ ডিসেম্বর এক ভাষণে তিনি ইসরায়েল প্রশ্নে ভেটো না দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে জানাবেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর পাশাপাশি মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পও বেজায় চটেছেন। ভোট গ্রহণের আগে ওবামা প্রশাসনের কাছে ‘ভেটো’ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার ঘটনায় টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, অবস্থা বদলাবে ২০ জানুয়ারির পর। সেদিন ওবামার শেষ দিন ও ট্রাম্পের প্রথম দিন।
গত মঙ্গলবারও এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘের অনেক সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এখন এই সংস্থা একটি ক্লাব ছাড়া আর কিছু নয়। কিছু লোক এখানে গল্পগুজব করে এবং ভালো সময় কাটায়, তার চেয়ে বেশি কিছু নয়।
নেতানিয়াহুও কতটা খেপেছেন, তা প্রমাণের জন্য তিনি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের চারটি অঙ্গ সংস্থা, যারা ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করে থাকে, তাদের কাছে দেয় চাঁদা বন্ধের কথা ঘোষণা করেছেন। জাতিসংঘের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক আদ্যোপান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে, সে কথাও তিনি জানিয়েছেন। এদিকে যে ১৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়, তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হয় বাতিল বা তা পুনর্বিবেচনার কথা তিনি ঘোষণা করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য ( ১ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে