ইসরায়েলের অবৈধ বসতি বিরোধী প্রস্তাব পাস

জাতিসংঘে ‘অবস্থা বদলে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ২৫ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন ইসরায়েলের চেষ্টা-তদবির অগ্রাহ্য করে প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের নিন্দা করা একটি প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। এর ফলে শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলি অবস্থানের নিন্দা করা ওই প্রস্তাব পাস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থাকায় ১৪-০ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব পাস হওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর ফলে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন থেমে থাকবে না। অন্যদিকে হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক টুইটার মন্তব্যে বলেছেন, ২০ জানুয়ারির পর (ওই দিন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন) অবস্থা সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
বৃহস্পতিবার মিসর প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করলেও ট্রাম্পের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তারা সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং প্রস্তাবটির ওপর ভোট গ্রহণ পিছিয়ে দিতে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানায়। এরপর পরিষদের চার অস্থায়ী সদস্য নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও সেনেগাল প্রস্তাবটি যৌথভাবে উত্থাপন করে।
প্রস্তাবে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ফলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন, এই ‘দুই রাষ্ট্র গঠন পরিকল্পনা’ হুমকির সম্মুখীন। এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। প্রস্তাবে পশ্চিম তীরে অধিকৃত আরব এলাকায় বসতি স্থাপন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উত্থাপিত হলে যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকাতে ভেটো দেবে না, ওবামা প্রশাসন নানাভাবে সে কথা আগেই মিত্র ইসরায়েলের নেতাদের কাছে জানিয়েছিল। তবে এতে ট্রাম্প নাখোশ হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসন যে ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে তা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর মনোনয়ন। ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’-এর বিরোধী ও পশ্চিম তীরে নিরঙ্কুশ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সমর্থককে সে পদের জন্য বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প।
জাতিসংঘে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন মার্কিন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর অবস্থা বদলাবে। মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও কোনো কোনো ডেমোক্রেটিক সদস্য ওবামা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। একাধিক রিপাবলিকান নেতা এ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় জাতিসংঘে মার্কিন চাঁদা কমিয়ে দেওয়া ও যারা সে প্রস্তাব সমর্থন করেছে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য ( ৩ )

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইল: info@prothom-alo.info
 
topউপরে