এপারের রুবেল ওপারে

মেহেদী মাসুদ | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

আহমেদ রুবেল ছবি: খালেদ সরকারকলকাতার পরিচালক সঞ্জয় নাগ পারাপার ছবির মূল চরিত্রে ভেবে রেখেছিলেন আহমেদ রুবেলকে। তাই এপারের রুবেলকে যেতে হলো ওপারে। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?

প্রথম ছবি মেমোরিজ ইন মার্চ। সঞ্জয় নাগ তাঁর এই ছবিটি দিয়েই সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ঋতুপর্ণ ঘোষ, দীপ্তি নাভাল আর রাইমা সেন ছিলেন ছবির অভিনয়শিল্পী। সেটা ২০১০ সালের কথা।
এরপর আরেকটি ছবি তৈরির পালা। মেমোরিজ ইন মার্চ তৈরি হয়েছিল ইংরেজি আর হিন্দিতে। এবার তিনি ছবি তৈরি করবেন বাংলায়। কাহিনি আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন, মতি নন্দীর উপন্যাস পুবের জানালা। আর ছবির নাম পারাপার।
হত্যা আর ধর্ষণের অপরাধে ১৪ বছরের জেল! কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে এতগুলো বছর। এই দীর্ঘ সময়ে নিশ্চয়ই পাল্টে গেছে বাইরের জগৎ ও মানুষ। দীর্ঘ কারাবাস শেষে রুদ্রনাথ ফিরে আসে স্ত্রী দামিনী আর দুই সন্তানের কাছে। কিন্তু চেনা মানুষ, চেনা ঘরদোর, সংসার অচেনা ঠেকে রুদ্রর।
যখনই এই কাহিনি নিয়ে সঞ্জয়ের মধ্যে ভাবনা শুরু হয়, তখনই তাঁর সামনে আসে রুদ্রনাথ চরিত্রটি। এই চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া যায়? কারণ, ছবির প্রায় পুরো অংশটি যে তাঁকে ঘিরেই।
বাংলাদেশের সঙ্গে সঞ্জয় নাগের যোগাযোগটা বরাবরই ছিল। বছর দশেক আগে অনেক দিন তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন, কাজ করেছেন ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায়। ঢাকায় তিনি পরিচিত বান্টি নামে। তখন আহমেদ রুবেলকে দেখেছিলেন। কথাও হয়েছিল। সেই বছর দশেক আগেই আহমেদ রুবেলকে তিনি নিজের ভাবনায় রেখেছিলেন।

মুঠোফোন নম্বর জোগাড় করে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সঞ্জয়। রুদ্রনাথ চরিত্রের জন্য রুবেলকেই তাঁর কাছে খুব যথার্থ বলে মনে হয়েছে।
সঞ্জয় নাগের ই-বার্তা থেকেই রুবেল জানতে পারেন ছবির সবকিছু। তাঁর সঙ্গে এখানে অভিনয় করবেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পাওলি দাম আর ব্রাত্য বসু।
রুবেলকে সঞ্জয় বললেন, ‘তোমাকে আমি সেভাবে কিছু দিতে পারব না, কিন্তু তোমাকে একটা চরিত্র দেব। অভিনয়ের অনেক সুযোগ পাবে সেখানে।’
সেই কথাগুলো মনে করে হাসলেন আহমেদ রুবেল। হ্যাঁ, রুবেল পারাপার ছবির কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন। গত রোববার দুপুরে তাঁকে প্রথম আলো কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এলেন বিকেলে। দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানালেন, তিনি এখন গাজীপুরে থাকেন। যানজটের কারণে আসতে দেরি হয়েছে।
পারাপার ছবির কাজ হয়েছে কলকাতার বেলগাছিয়া আর বেহালাতে। শুটিং শুরু হয় গত বছর ১৬ ডিসেম্বর। প্রস্তুতির জন্য পাঁচ দিন আগেই সেখানে চলে যান রুবেল।
রুবেল বলেন, ‘বেলগাছিয়ায় আমরা যে বাড়িতে শুটিং করেছি, সেই বাড়িতেই সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালে চারুলতা আর ১৯৬৭ সালে চিড়িয়াখানা ছবি দুটির শুটিং করেছিলেন। এটা জানার পর আমার মধ্যে অন্য রকম এক অনুভূতি কাজ করে। শুটিংয়ের ফাঁকে বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখেছি।’
আহমেদ রুবেল, ঋতুপর্ণা, সঞ্জয় নাগ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও পাওলি দামঋতুপর্ণার সঙ্গে বেলগাছিয়ায় আর পাওলির সঙ্গে বেহালাতে কাজ করেন রুবেল। দুজনের সঙ্গে কাজ করেই তিনি দারুণ তৃপ্ত। বললেন, ‘কোনো দৃশ্যই খুব একটা সহজ ছিল না। কিন্তু একবার-দুবার মহড়া করেই আমরা শট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম। ছবির প্রায় বেশির ভাগ শটই আমাদের দ্বিতীয়বার দিতে হয়নি। এখন যখন ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবি, নিজেই অবাক হই। খুব ভালো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছি আর আমি বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি, তাই খুব সিরিয়াস ছিলাম বোধ হয়।’
রুবেল আলাদা করে বললেন ব্রাত্য বসুর কথা। কলকাতার থিয়েটারের নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মী। এখন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু তাতে থিয়েটার চর্চা কিংবা অভিনয়ে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় আহমেদ রুবেলকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ঋতুপর্ণা আর পাওলি।
কলকাতা থেকে রুবেল দেশে ফিরছেন, বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন সুচিত্রা সেন কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন। রুবেলের কথা থেমে যায়। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বললেন, ‘বেলগাছিয়ায় যাওয়া-আসার পথে বেল ভিউ হাসপাতাল। হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, এখানেই তিনি আছেন।’
আবারও কলকাতায় যাবেন রুবেল। কারণ, দু-একজন পরিচালক তাঁকে নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ জানিয়েছেন। রুবেলের ভাষায়, ‘সামনে কী হবে জানি না, হয়তো পারাপার দিয়েই কলকাতার ছবিতে আমার যাত্রা শুরু হলো।’

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনি কি পরিচয় গোপন রাখতে চান
আমি প্রথম আলোর নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
View Mobile Site
   
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
ফোনঃ ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্সঃ ৯১৩০৪৯৬, ই-মেইলঃ info@prothom-alo.info
 
topউপরে