সব

উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে আঞ্চলিক সেমিনার

কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে প্রয়োজন শক্তিশালী স্থানীয় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে না পারলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি টেকসই করতে হলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু অর্থ দিলেই হবে না, এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার কাঠামো ও দায়িত্ব বদলাতে হবে। কেন্দ্রে বসে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যে কাজ করেন, সেই দায়িত্ব দিতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের। এখানেই বেশি নজর দিতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত খুবই জরুরি বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘রিথিংকিং পলিটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট: সিকিউরিটি অ্যান্ড ফ্রিডম বেইজড অন জাস্টিস’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ সেমিনারে প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চালনায় সকালের অধিবেশনে দুটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ ও যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস জিল্লুর আর খান।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, ১৯৪৫ সালের পর ওই বছরের মতো ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন’ আর হয়নি। জাতীয় পার্টি এ নির্বাচনে না এলে নির্বাচনই হতো না।

অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় খালেদা জিয়া নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দেওয়া হলো। কে মন্ত্রী থাকবেন বা কে থাকবেন না, তার কোনো ঠিক ছিল না। সেই সময়ে তিনি (খালেদা জিয়া) যদি নির্বাচনে আসতেন; তাহলে হয়তো জিততে পারতেন। আর না জিতলেও সমস্যা হতো না। শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে সংসদে তো থাকতেন।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জনপ্রশাসনে ১৮ লাখ জনবল আছেন, তাঁরা কোনোভাবেই কেন্দ্র ছেড়ে জেলা-উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে চান না। কিছু অংশ কেন্দ্রে রেখে বাকিদের স্থানীয়ভাবে কাজে লাগাতে পারলে সেবার মান বাড়বে এবং জনগণ উপকৃত হবে।

‘পলিটিক্যাল ইকোনমি অব ইনকাম ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ইনইকুয়ালিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে সাদিক আহমেদ বলেন, বিগত বছরে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রশংসনীয়। তবে বেড়েছে আয়-বৈষম্যও। এটা দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। আয়-বৈষম্য কমানোর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সামাজিক সুরক্ষায় আরও বেশি সরকারি ব্যয়ের পরামর্শ দেন তিনি।

দিনব্যাপী সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে একাধিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। জিল্লুর আর খানের সঞ্চালনায় প্রথমেই ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর ঘিরে উচ্চপর্যায়ে সমুদ্র রাজনীতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আমিনুল করিম। তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর বিশেষত বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্ভাবনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশসহ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাজনীতি বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে।

ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতার সম্পর্ক নিয়ে দ্বিতীয় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক ফারহা। তিনি বলেন, কখনো কখনো উন্নয়নের চেয়ে নিরাপত্তা ইস্যুই প্রাধান্য পাচ্ছে। নিরাপত্তা সংকট যত বাড়বে, উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি তত বেশি গৌণ হয়ে পড়বে। এর ফলে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংসতা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সংঘাতে সরকারি দলের লোকজনই বেশি হতাহতের শিকার হচ্ছে। এ সহিংসতা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছে।

এ ছাড়া নারী বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের চিফ অব পার্টি সিলজা পাসিলিনা রাজনৈতিক উন্নয়নে বৈশ্বিককরণের প্রভাব নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ইমতিয়াজ এ হোসাইন এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দৈনিক সমকাল-এর সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

default image

ডেনমার্কের ব্যবসায়ীরা টেকসই উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে চান

এফবিসিসিআই নির্বাচনে প্রার্থী শমী কায়সার

এফবিসিসিআই নির্বাচনে প্রার্থী শমী কায়সার

কোনো ব্যাংকেই যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নিয়োগ হয়নি: ইব্রাহিম খালেদ

কোনো ব্যাংকেই যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নিয়োগ হয়নি: ইব্রাহিম খালেদ

৪ হাজার টাকায় কক্সবাজার ভ্রমণ

৪ হাজার টাকায় কক্সবাজার ভ্রমণ

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন মার্কিনরা!

কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন মার্কিনরা!

প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মার্কিনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়ে...
ইলিশ ব্যবসায়ীদের মন খারাপ

বিক্রি গত বছরের চেয়ে অনেক কম ইলিশ ব্যবসায়ীদের মন খারাপ

বর্ষবরণের বাজার ধরতে হিমাগারে হাজার হাজার ইলিশ মজুত করা ব্যবসায়ীদের মন খারাপ।...
default image

শ্রমিকদের জন্য ভবিষ্য তহবিল করছে সরকার

কোনো শ্রমিক মাসে ১০০ বা ২০০ টাকার ভবিষ্য তহবিল হিসাব পরিচালনা করলে শ্রমিক...
১০ কোটি মিনিট ক্ষতিপূরণ পেলেন গ্রাহকেরা

ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না টেলিটক ১০ কোটি মিনিট ক্ষতিপূরণ পেলেন গ্রাহকেরা

কল ড্রপের জন্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করেছে তিন বেসরকারি মুঠোফোন...
তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে ভবনটি

তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে ভবনটি

ভবনে আগের দিনই ফাটল দেখা যায়। এ কারণে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়।...
‘আইপি লগ’ কমপক্ষে এক বছর সংরক্ষণে বিটিআরসির নির্দেশ

সাইবার অপরাধ ‘আইপি লগ’ কমপক্ষে এক বছর সংরক্ষণে বিটিআরসির নির্দেশ

দেশের সব ইন্টারনেট সেবাদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানকে ‘আইপি লগ’ কমপক্ষে এক বছর...
বার্নাব্যুর মঞ্চ দখল করে নিলেন মেসি

বার্নাব্যুর মঞ্চ দখল করে নিলেন মেসি

লিগ টেবিলের সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড়িয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে...
দুই মামলারই সাক্ষ্য থেমে আছে

রানা প্লাজা ধসের ৪বছর দুই মামলারই সাক্ষ্য থেমে আছে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্পভবন দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর বিচার...
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info