সব

নেদারল্যান্ডসে নির্বাচন: নতুন ট্রাম্পের পদধ্বনি?

রক্ত করবী, নেদারল্যান্ডস থেকে

নির্বাচনের প্রচারপত্রনেদারল্যান্ডসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ ১৫ মার্চ। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছিল। নেদারল্যান্ডসের সংসদ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। এর মধ্যে নিম্নকক্ষের (টয়েডে কামের) সদস্যরা চার বছর পরপর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র বলতে টয়েডে কামেরকেই বোঝায়। এখানে উল্লেখ্য, নেদারল্যান্ডসের জনগণ গত ২০০২ থেকে ২০১২ পর্যন্ত পাঁচ পাঁচটি সাধারণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতের দল ভিভিডি-এর নেতৃত্বাধীন সরকার (পিভিডিএ-এর সঙ্গে কোয়ালিশন) তাদের পূর্ণ চার বছর মেয়াদ শেষ করেছে।

নেদারল্যান্ডসে নির্বাচন ব্যবস্থা আসন ভিত্তিক নয়। এখানে সমানুপাতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। অর্থাৎ একটি দল নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট পেলে সংসদে ১০ শতাংশ আসন পাবে। যে দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে অর্থাৎ নিম্নকক্ষের ১৫০ আসনের মধ্যে ৭৬ বা ততোধিক আসন লাভ করবে সেই দলই সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। দেশটির বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একক কোনো দলের পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জোটভিত্তিক সরকার অবশ্যম্ভাবী। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রভাব নেদারল্যান্ডসের সাধারণ নির্বাচনেও পড়বে তা অনস্বীকার্য। নেদারল্যান্ডসের বর্তমান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো হলো নিরাপত্তা ও শরণার্থীবিষয়ক সমস্যা। যা জনমতের প্রধান নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শরণার্থী বিষয়ক ক্ষুব্ধ মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে জাতীয়তাবাদী দলগুলো তাদের নির্বাচনী কলাকৌশল বাস্তবায়নে যেখানে অগ্রসর সেখানে প্রগতিশীল দলগুলো মানবতার পক্ষে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
নির্বাচনের প্রচারপত্রকয়েক যুগ ধরে নেদারল্যান্ডসে তিন বড় রাজনৈতিক দল বলতে বামপন্থী পিভিডিএ (লেবার), ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রাট (মধ্যমপন্থী), ডানপন্থী ভিভিডি (রক্ষণশীল)। তবে সম্প্রতি উগ্র-জাতীয়তাবাদী নেতা ইউরোপের ট্রাম্প বলে খ্যাত খির্ট উইল্ডার্সের ফ্রিডম পার্টির জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে খির্ট উইল্ডার্স ও তার ফ্রিডম পার্টি ইসলাম বিরোধী ও অভিবাসন বিরোধী অবস্থানের কারণে সর্বাধিক আলোচিত ও সমালোচিত। ইউরোপে শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে পুঁজি করে দলটি সম্প্রতি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সরকার গঠনে সমর্থ হলে দলটি শুধু নতুন মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধের ব্যাপারেই উদ্যোগী হবে না বরং পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে নিষিদ্ধ করতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
দীর্ঘদিন জনমত জরিপে শীর্ষে থাকার পর সম্প্রতি শীর্ষস্থানচ্যুত হয়েছে উগ্র-জাতীয়তাবাদী দল ফ্রিডম পার্টি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কানতার নিপোর সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী নিম্নকক্ষের ১৫০ আসনের মধ্যে ২৭টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে শীর্ষ উঠে এসেছে বর্তমান কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্বদানকারী প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতের দল ভিভিডি। অন্যদিকে ফ্রিডম পার্টির সম্ভাব্য আসন গত এক বছরে ৩৬ থেকে কমে বর্তমানে ২৩-এ দাঁড়িয়েছে। নেদারল্যান্ডসের জনগণের একটি বড় অংশ যারা ফ্রিডম পার্টির মতো একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী দলকে সরকারে দেখতে চায় না তাদের জন্য এই সংবাদ অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।
জনমত জরিপে অবশ্য বর্তমান সরকারে শরিক দল লেবার পার্টির (পিভিভি) অবস্থা কিছুটা শোচনীয়। বর্তমানে সংসদে তাদের আসনসংখ্যা ৩৫ হলেও জরিপে দেখা যায় তারা ১১টি আসন লাভ করতে পারে। জনমত জরিপে দেখা যায় সংসদে বর্তমানে ১২-১৫টি আসনে প্রতিনিধিত্বকারী মাঝারি মাপের দল ডি ৬৬, সোশালিস্ট পার্টি আর ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিকের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
খির্ট উইল্ডার্সনেদারল্যান্ডসের রাজনীতিকে পোল্ডার রাজনীতিও বলা হয়। যার মানে হচ্ছে সাধারণ মতপার্থক্যের মধ্যেও কিছু মৌলিক বিষয়ে সব সময়ই দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছতে দেখা যায়। এ কারণে রাজনীতির মাঠ বেশির ভাগ সময়ই শীতল। জনগণের একটি বড় অংশ রাজনীতির নিয়ে নিরুদ্বেগ। রাজনৈতিক মিছিল মিটিং দেখা যায় কালেভদ্রে। তবে গত বছরের ব্রেক্সিট, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক পটপরিবর্তন এবং ইউরোপজুড়ে শরণার্থী সংকট আর ইসলামভীতি ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে অনেকেই কৌশলগত এবং অন্যান্য বারের চাইতে ভিন্ন হিসাবে অভিহিত করেছেন। পঞ্চাশ কিংবা ষাটোর্ধ্ব এবং কম শিক্ষিত জনগণের অনেকেই যেমন অভিবাসী বিরোধী তেমনি রক্ষণশীল। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বর্তমান বাস্তবতায় তারা হতাশও বটে। তাই উইল্ডার্সের ইসলাম বিরোধী, অভিবাসী বিরোধী প্রচারণা তাদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়। অপর দিকে বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ আর শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে উইল্ডার্সের মতো উগ্র-জাতীয়তাবাদী নেতার উত্থান করেছে উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশি অভিবাসী বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডাচ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে কোনো বিশেষ দলের প্রতি দুর্বলতা নেই। তবে যারা ব্যবসা করেন তাদের পছন্দ রক্ষণশীল ভিভিডি আর চাকরিজীবীদের মধ্যে লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন রয়েছ। তবে এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ বাংলাদেশি উইল্ডার ঠেকাও নীতিতে বিশ্বাসী।
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন কলাকৌশল গ্রহণ করে থাকে। নেদারল্যান্ডসও এর ব্যতিক্রম নয়। ইউরোপে সাম্প্রতিক শরণার্থী সংকটের কারণে নেদারল্যান্ডসের রাজনীতির মাঠে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিবাসন ও সংহতিকরণ নীতি। ইউরোপে বেশ কয়টি দেশে সন্ত্রাসী হামলায় শরণার্থী এবং অভিবাসীদের জড়িত থাকার প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুনভাবে জাতীয়তাবাদের যে উন্মেষ ঘটেছে তা উপলব্ধি করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত ছিল।
জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের নব-উন্মেষ উপলব্ধি করে ক্ষমতাসীন দল ভিভিডিও শক্ত অভিবাসন নীতির পক্ষে। তাদের প্রস্তাবনায় ডাচ পাসপোর্টের জন্য আবেদনের সময় ৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর করার কথা রয়েছে। দলটি ডাচ ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন, অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচনার কথা বলছে। অভিবাসীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতের সাম্প্রতিক উক্তি ‘এনি ওয়ান হু ক্যান নট রেসপেক্ট ডাচ কাস্টমস ক্যান লিভ’ সমালোচনার জন্ম দেয়। মাঝারি ও ছোট জনসমর্থনের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট পার্টি, 5০ plus ইত্যাদির অবস্থানও মোটামুটি অভিন্ন।
অন্যদিকে সরকারে শরিক দল লেবার পার্টির (পিভিডিএ) নেতৃত্বে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিবাসন বিরোধী নীতির বিপক্ষেও একটি মুভমেন্টও শুরু হয়েছে। ‘উই আর দ্য নেদারল্যান্ডস’ নামে এই মুভমেন্ট তাদের ওয়েবসাইট ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ব্রেক্সিট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহীত নীতিরও ঘোর বিরোধী। তবে এখন পর্যন্ত লেবার পার্টির জনসমর্থন আগের নির্বাচনের চাইতে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
এদিকে স্থানীয় মসজিদসমূহ থেকে মুসলমানদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কোনো বিশেষ দলের পক্ষে বা বিপক্ষে না বললেও, এভাবে বলা হচ্ছে যে, মুসলমানরা ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলে তা ইসলাম বিরোধীদের জন্য সুবিধার কারণ হতে পারে। এর অর্থ অবশ্য সকলে কাছে পরিষ্কার অর্থাৎ ‘উইল্ডার ঠেকাও’। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ঘটনাবলি শেষ পর্যন্ত ডাচ ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতে অবশ্য এর মধ্যে ব্রেক্সিট ও ট্রাম্পের পর নেদারল্যান্ডসকে যাতে ডমিনো ইফেক্টের তৃতীয় দেশ না হতে হয় তার প্রতি সকলকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, এটি স্পষ্ট যে একক কোনো দলের পক্ষে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা অসম্ভব। সরকার গঠন করার জন্য ৭৬টি আসনের সমর্থন পেতে হলে দলগুলোকে জোটবদ্ধ হতে হবে পূর্বের মতো। এ কারণে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে এবার রেকর্ড সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ এবং তা ১৯৭৭ সালের ২০৮ দিনের রেকর্ড ভঙ্গ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাদের যুক্তি হচ্ছে এবার জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সরকার গঠনে অন্তত চারটি বড় দলের কোয়ালিশন দরকার হবে। কিন্তু বর্তমানে পার্টিসমূহ ও নেতাদের মধ্যে বিশ্বাস আর বোঝাপড়ায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
মার্ক রুতপরবর্তী সরকার গঠনে প্রতীক্ষিত দীর্ঘসূত্রতা অবশ্য ডাচ অর্থনীতিতে খুব নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা Moody’s. দেশটির অর্থনীতির ভীত ও সরকারি অর্থায়ন যথেষ্টই মজবুত যা অন্তর্বর্তীকালীন সময় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে, তা ছাড়া দেশটিতে বেকারত্বের হার কম, সরকারি ঋণের হারও যথেষ্ট কম, বৈদেশিক বাণিজ্যের ভীতও শক্ত। অন্তর্বর্তীকালে নীতিনির্ধারণে সিদ্ধান্তহীনতা অবশ্যই নেতিবাচক কিন্তু যেহেতু ক্ষমতাসীন দলই অন্তর্বর্তীকালে দায়িত্ব পালন করে যাবে সেহেতু বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।
শীতের শেষ প্রান্তে এসে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহকে যথেষ্ট সক্রিয় মনে হলেও সামগ্রিক পরিবেশ যথেষ্টই নিরুত্তাপ ছিল। জনগণের চোখে-মুখেও অনিশ্চয়তার কোনো ছাপ নেই। সর্ব বৃহৎ শহর আমস্টারডামের রাস্তাঘাটে প্রচারণা বলতে কিছু অস্থায়ী বিলবোর্ডে একসঙ্গে সকল পার্টির পোস্টার।
নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনে একটি ব্যতিক্রমী বিষয় হলো এখানে প্রক্সির মাধ্যমে একজনের ভোটাধিকার আরেকজন প্রয়োগ করতে পারেন। ২০১২ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এই সুবিধা নিয়েছিলেন। আর প্রবাসী ডাচ নাগরিকেরা দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এখানে সাধারণ নির্বাচনের দিনও সরকারি ছুটি থাকে না, তথাপি এখানে ভোটাধিকার প্রয়োগের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। এবার অবশ্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি উঠেছিল।
সমানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত্তিতে যেহেতু ছোট দলগুলোর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ থাকে, সে ক্ষেত্রে এখানে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এদিকে নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন। এই সংখ্যাটি গত ২০১২ এর নির্বাচনের তুলনায় কম। মজার বিষয় হলো এখানে একটি নিরপেক্ষ ওয়েবসাইট সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের পছন্দের দল খুঁজে দিতে সাহায্য করছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ডাচ সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটেসটিকস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা অনুযায়ী সামষ্টিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব কী হবে তা প্রকাশ করে যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর এখানেও রাশিয়ান হ্যাকার গ্রুপসমূহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহের গোপনীয় নথিপত্রে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণের বিতর্ক এড়াতে নেদারল্যান্ডসের স্বদেশ মন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন যে, এবারের নির্বাচনে ভোট হাতে গণনা করা হবে।
নেদারল্যান্ডসের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে দৃশ্যমান কোনো প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা খুবই কম। তথাপি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভবিষ্যতে ডাচ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিমাণ লক্ষণীয় ভাবে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর কারণ হচ্ছে প্রায় সকল মূল রাজনৈতিক দলের নীতিতে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মাত্রাতিরিক্ত প্রাধিকার।
আগেই উল্লেখ করেছি চরম ইসলাম বিরোধী উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা উইল্ডার্সের ফ্রিডম পার্টি জনমত জরিপে মজবুত অবস্থানে রয়েছে। তবে আশার কথা হলো বড় রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই তারা ‘ইউরোপের ট্রাম্প’ উইল্ডার্সের সঙ্গে কোয়ালিশনে যাবে না। এই অবস্থায় নির্বাচনে সর্বাধিক আসন লাভ করলেও উইল্ডার্সের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।

রক্ত করবী: নেদারল্যান্ডসপ্রবাসী। fareefta. zahrah@gmail. com

 

সিডনিতে প্রতীতির বর্ষবরণ

সিডনিতে প্রতীতির বর্ষবরণ

সাংহাইয়ে বর্ণিল বর্ষবরণ

সাংহাইয়ে বর্ণিল বর্ষবরণ

এই বৈশাখে আসানো নদীর তীরে

এই বৈশাখে আসানো নদীর তীরে

প্রবাসীরা দেশে ফোন করেন সুখের আশায়

প্রবাসীরা দেশে ফোন করেন সুখের আশায়

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
1 2 3 4
 
আরও মন্তব্য

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

সবুজের দেশে বৈশাখের রঙে

সবুজের দেশে বৈশাখের রঙে

ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত তাঞ্জানিয়া। পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটি আয়তনে...
ইনতেখাব আদনান শাকিব, দারুস সালাম (তাঞ্জানিয়া) থেকে
জেনেভা বাংলা পাঠশালার বর্ষবরণ

জেনেভা বাংলা পাঠশালার বর্ষবরণ

ষোলো আনা বাঙালিয়ানা বলতে যা বোঝায় পরিপূর্ণভাবে তারই অবয়ব ফুটে উঠেছিল। জেনেভা...
রিয়াজুল হক, জেনেভা (সুইজারল্যান্ড) থেকে
জেদ্দায় বর্ষবরণ উৎসব

জেদ্দায় বর্ষবরণ উৎসব

আমরা বাংলা ভাষী, আমরা বাঙালি। নানা দিক থেকে গৌরব করার মতো আমাদের রয়েছে নানা...
বাহার উদ্দিন, জেদ্দা (সৌদি আরব) থেকে
পাতানো স্বপ্ন

পাতানো স্বপ্ন

‘সু’ বলেই ডাকতাম মেয়েটিকে। সুহাসিনী থেকেই সু। রাজ্যের আকণ্ঠ ভালো...
বশির আহমেদ রাকিব
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
© স্বত্ব প্রথম আলো ১৯৯৮ - ২০১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: মতিউর রহমান
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫
ফোন: ৮১৮০০৭৮-৮১, ফ্যাক্স: ৯১৩০৪৯৬, ইমেইল: info@prothom-alo.info