আবাহনী ১: ১ ব্রাদার্স বিজেএমসি ২: ১ ফেনী সকার
ড্র ম্যাচেও রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা
‘লিগের সেরা ম্যাচ’, ‘এমন ম্যাচ দেখেও আনন্দ’—ম্যাচের পর এমন উচ্ছ্বাস দেখালেন অনেক দর্শক।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা তো ছিলই, অতিরিক্ত সময়েরও শেষ মুহূর্তে যেটি ঘটল তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ১-১ স্কোরলাইনকে ২-১ করতে মরিয়া আবাহনী নেহাতই দুর্ভাগ্যক্রমে পেল না জয়সূচক গোলটা। ব্রাদার্সের গোলরক্ষক পিরু পোস্টের নিচে নেই, বল যাচ্ছে জালে। ঠিক তখনই অলৌকিকভাবে গোললাইন থেকে বল বাঁচালেন ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার খান শরিফ।
সাহসীদেরই পাশে থাকে ভাগ্য, এই আপ্তবাক্যটা মনে করিয়ে দিল ব্রাদার্স। আবাহনীর বিপক্ষে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জিতেও যেতে পারত দলটি। অথচ প্রথম ছয় ম্যাচে টানা হেরে খাদের কিনারায় চলে যায় ব্রাদার্স। এরপরই যেন দলটি জেগে উঠেছে। টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত। দুটি জয়। তিনটি ড্র। অবনমনশঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে এখন উল্টো শিরোপাপ্রত্যাশীদের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিচ্ছে ব্রাদার্স।
এই কাঁটার আঘাতে কাল ছটফট করল আবাহনী। ম্যাচের পর খেলোয়াড়েরা নুয়ে পড়লেন হতাশায়। কোচ আরদেশির পোরনেমাত সংবাদ সম্মেলনেই এলেন না। ব্রাদার্স এমনই বদলে যাওয়া এক দল এখন, কোচ লাডি বাবালোলা বলে গেলেন ‘আমাদের জেতা উচিত ছিল’।
দুই দলই কাল গতিময় ফুটবল খেলেছে। আক্রমণ প্রতি-আক্রমণের পসরা ম্যাচ থেকে চোখ সরাতে দিচ্ছিল না। অনেক সুযোগও পেয়েছে দুই দল। কিন্তু একটির বেশি গোল পায়নি। ব্রাদার্সের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যান্ডারসন ও নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কিংসলে আবাহনীর রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল আবাহনীর। আগের ম্যাচে আরামবাগের বিপক্ষে দুই গোল করা পল কাল ছয় মিনিটে আবাহনীকে এগিয়ে নেন। তাঁর দারুণ শটে পরাস্ত ব্রাদার্স গোলরক্ষক পিরু। এরপর তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠে ব্রাদার্স। ২৩ মিনিটে ১-১ করে ফেলেন জানকাসা। এরপর জয়সূচক গোল পেতে দুই দলই ঝাঁপিয়েছে। দুই গোলরক্ষকই দাঁড়ান বাধা হয়ে। বিশেষ করে ব্রাদার্স গোলরক্ষক পিরু যেন ছিলেন চীনের প্রাচীর।
এই প্রাচীর ভাঙতে না পেরে আবাহনী একটু পিছিয়েই পড়ল লিগ লড়াইয়ে। ১১ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট ২৪। ৯ ম্যাচে শেখ রাসেলের ২২, ১০ ম্যাচে শেখ জামালেরও ২২। রাসেল পরের দুটি ম্যাচ জিতলে আবাহনীর চেয়ে এগিয়ে যাবে ৪ পয়েন্ট। এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের পয়েন্ট হারানোর দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে ইব্রাহিম-প্রাণতোষদের।
বিজেএমসিকে জেতালেন রশিদ: সময়টা ভালো যাচ্ছিল না বিজেএমসির। গত ম্যাচে শেখ রাসেলের বিপক্ষে ২ গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে হারতে হয়েছে। সেই বৃত্ত থেকে কাল বিজেএমসিকে বের করে আনলেন নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার রশিদ। ৬ ও ১৪ মিনিটে ২ গোল করে ফেনী সকারের বিপক্ষে জয়টা তখনই হাতের মুঠোয় অনেকটা ভরে ফেলেন। এরপর ৭৫ মিনিটে সজীব ২-১ করলেও সকারের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।
১০ ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচেই থাকল ফেনী সকার। অবনমনশঙ্কা আরও জোরালো হলো দলটির। অন্যদিকে ১১ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে বিজেএমসি থাকল পঞ্চম স্থানে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন








সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন