নয় দিনব্যাপী বাংলা গানের উৎসব

বাংলা গানে মুগ্ধ কলকাতার শ্রোতারা

আশীষ-উর-রহমান, কলকাতা থেকে | তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

  • ২ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
কলকাতার টালিগঞ্জে আইটিসি এসআরএ মিলনায়তনে ‘বাংলা গানের উৎসব, কলকাতা-২০১৩’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের

কলকাতার টালিগঞ্জে আইটিসি এসআরএ মিলনায়তনে ‘বাংলা গানের উৎসব, কলকাতা-২০১৩’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ অতিথিরা

ছবি: ভাষ্কর মুখার্জি

ক্রমেই উষ্ণ হয়ে ওঠা রোদের গা ছুঁয়ে আছে বিদায়ী শীতের রেশ। বেশ কবোষ্ণ কলকাতার আবহাওয়া। ঢাকার মতোই। প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনী ছড়িয়ে দিয়েছে প্রাণের স্পন্দন। থেকে থেকে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় কী যেন কী এক আনন্দের উচ্ছ্বাস। এমন দিনে কলকাতাবাসীকে গান শোনাতে এসেছেন বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত নবীন-প্রবীণ গাইয়েরা।
গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হলো টানা নয় দিনের ‘বাংলা গানের উৎসব, কলকাতা-২০১৩’। উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সন্ধ্যায় টালিগঞ্জে আইটিসি এসআরএ মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করেন। এই উৎসব আয়োজন করেছে বাংলাদেশের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও আইটিসি এসআরএ। এতে সার্বিক সহায়তা দিয়েছে প্রথম আলো। সহযোগী হিসেবে আছে দ্য ডেইলি স্টার, সম্প্রচার সহযোগিতায় মাছরাঙা টেলিভিশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও বাংলাদেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সংগীত মানুষে মানুষে সম্পর্ক গভীর করে। এই উৎসব দুই দেশের মানুষের বন্ধুত্বকে আরও নিবিড় করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধ আপনারাও করছেন। গণতন্ত্র ও জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে কাজী অনিরুদ্ধের স্ত্রী কল্যাণী কাজী। তিনি কবিকে এই উৎসব উৎসর্গ করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং কবির স্মৃতিচারণ করেন।
আইটিসি এসআরএর নির্বাহী পরিচালক রবি মাথুর বলেন, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আইটিসি এসআরএ চত্বরে দুই দেশের শিল্পীদের নিয়ে একটি বড় উৎসবের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন। আলোচনায় তিনি কলকাতার শ্রোতাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বাংলা আমাদের মাভৃভাষা। আইটিসি এসআরএ মূলত উচ্চাঙ্গসংগীতের চর্চা করে।’ তবে বাংলা গানের আয়োজন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদুষী গিরজা দেবী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। প্রথম দিনের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে সম্প্রতি প্রয়াত সংগীতজ্ঞ সোহরাব হোসেনকে। শ্রোতাদের মধ্যে পণ্ডিত উরহাস কসলকার, ওস্তাদ রশীদ খানসহ এসআরএর সংগীতগুরু ও কলকাতার সংগীতানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও আইটিসি এসআরএর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় আয়োজিত চার দিনের উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে সারা রাত ধরে কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীত শুনিয়েছিলেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পীরা। এবার বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক শিল্পী এসেছেন ভারতবাসীকে নানা আঙ্গিকের বাংলা গান শোনাতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত চারটি নজরুলসংগীতের অ্যালবামেরও মোড়ক উন্মোচজন করা হয়। উৎসবে পর্যায়ক্রমে ৩১টি অ্যালবাম প্রাকাশ করা হবে। এ ছাড়া রয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। এই উৎসবে বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক শিল্পীর সঙ্গে ভারতে ১৫ জন বিশিষ্ট শিল্পী অংশ নিচ্ছেন।
উৎসবের অনুষ্ঠানসূচি: আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনে সারা রাত হবে বৈঠকি গান। পরিবেশন করবেন দুই দেশের শিল্পীরা। এদিন সন্ধ্যায় উৎসর্গ করা হবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী নীলুফার ইয়াসমিনের স্মৃতির প্রতি। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে আছেন সুবীর নন্দী, ইফফাত আরা দেওয়ান ও ফারহানা রহমান। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, পণ্ডিত অরুণ ভাদুড়ি, বিদুষী কৌশিকি দেশিকান, সুচিশ্রী রায়, ব্রজেশ্বর মুখোপাধ্যায়, সুচেতা গঙ্গোপাধ্যায় ও সন্দীপ ভট্টাচার্য।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 

Prabir Paul

Prabir Paul

২০১৩.০২.০৯ ২০:২৯
পশচিম বংগের লোকরা বাংলা শোনে? কই, রেডিও টেলিভিশনের প্রোগ্রাম গুলোতে তো বাংলাকে পাশকাটিয়েই যেতে চায় শিল্পি ও উপস্থাপকরা। একটা ১০ শব্দের বাংলা বাক্যে ৫টা ইংরেজী আর ৩টি হিন্দি শব্দ লাগাতেই যাদের সাচ্ছন্দ তাদের আর বাংলার প্রেমিক বলি কি ভাবে?

Mohammed Khan

Mohammed Khan

২০১৩.০২.০৯ ২১:০৬
বাংলাদেশের বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পীরা কোথায়?!!!!