শিরোনাম:

শাহবাগে বিশিষ্টজনেরা

তরুণেরা জেগেছে বিজয় হবেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ চত্বরের আয়োজিত মহাসমাবেশে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, তরুণেরা জেগেছে। এই জাতিকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তাঁরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবেই।
গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় শুরু হওয়া মহাসমাবেশে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একে একে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বক্তব্য দেন।
লেখক, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা আজ জেগে উঠেছ, বিজয় হবেই, হবে।...কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।’
মুহম্মদ জাফর ইকবাল আরও বলেন, ‘তরুণ সমাজকে নিয়ে আমার এত দিন ভুল ধারণা ছিল। আমি ভাবতাম, তরুণেরা শুধু ব্লগে লেখালেখি করে, ফেসবুকে কমেন্টস (মন্তব্য) লেখে আর লাইক দেয়। আমার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও।’
জনপ্রিয় এ লেখক তরুণদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা কাজের সময় কাজ করবে, পড়ার সময় পড়বে, গান গাইবার সময় গান করবে, প্রেম করার সময় প্রেম করবে। আর যখন দেশের প্রয়োজনে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তখন কঠোর আন্দোলনে পথে নামবে, প্রতিবাদে জ্বলে উঠবে।’
আবেগাপ্লুত এ শিক্ষাবিদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা শহীদ জননী প্রয়াত জাহানারা ইমামের কথাও এ সময় স্মরণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনের রায় মানি না। এ রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন বলেন, জামায়াত-শিবির রাস্তায় পুলিশকে পেটাচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের সময় যেসব পুলিশ নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা নেয় তাদের প্রত্যাহার করুন।
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ুক সব জায়গায়।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে।...তোমরা রাজাকারমুক্ত দেশ গঠন করবে। শিবিরমুক্ত স্বাধীন দেশ গড়বে।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, আজ জনতার সমুদ্র জেগে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হবেই।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম বলেন, ‘জাহানারা ইমামের হাত ধরে ২০ বছর আগে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছি। এখন সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই ছেড়ে দিলাম।’
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ কাদের মোল্লার মামলার রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটা লোক এত মানুষকে হত্যা করল। অথচ তাঁর ফাঁসি হলো না। এটা কেমন কথা!
লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে তরুণেরা মাঠে না নামলে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আজ সারা দেশ জেগে উঠত না।...তোমরা মাঠ ছাড়বে না। লড়াই চালিয়ে যাবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম তোমাদের সঙ্গে আছি।’
সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘সাংবাদিকেরা নিরপেক্ষ। কিন্তু যখন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আসে তখন সাংবাদিকেরা রাষ্ট্রের পক্ষেই থাকেন।...সাংবাদিকেরা এই আন্দোলনের সঙ্গে আছেন।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘তরুণেরা এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছে। রাজাকারদের ফাঁসি হতেই হবে।’
সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এ রায় মানি না।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন