তিউনিসিয়ার বিরোধী নেতাকে দাফন, জনতার বিক্ষোভ
আততায়ীর গুলিতে নিহত তিউনিসিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা শুকরি বেলায়েতের দাফন গতকাল শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। তাঁকে দাফনের আগে রাজধানী তিউনিসে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার শোকাহত মানুষ। এদিকে বেলায়েতকে হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে গতকাল সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে।
বিরোধী পপুলার ফ্রন্ট পার্টির নেতা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিক বেলায়েত (৪৮) গত বুধবার তিউনিসে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। হত্যাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল ইসলামপন্থী এন্নাহদার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যদিও দলটি তা অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী হামাদি জাবালি একটি নির্দলীয় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে তাঁর দল এই পদক্ষেপ মানতে অস্বীকার করেছে।
বেলায়েতের মরদেহ গতকাল তিউনিসের জাবেল জেলাউদ এলাকার একটি বাড়িতে রাখা হয়। ওই বাড়ির সামনে জড়ো হয় তিন হাজারের মতো মানুষ। তারা বেলায়েতকে এন্নাহদা সরকার হত্যা করেছে বলে স্লোগান দেয়। তাঁরা বলতে থাকে, ‘এই শহীদের জন্য আমরা আমাদের রক্ত ও আত্মা উৎসর্গ করে দেব।’ এরপর বেলায়েতের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় পার্শ্ববর্তী আল-জালাজ কবরস্থানে। পরে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাঁকে দাফন করা হয়।
এদিকে ধর্মঘট চলাকালে গতকাল সারা দিন ধরেই রাজধানী তিউনিসসহ বিভিন্ন এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। বিশেষ করে তিউনিসের হাবিব বারগাইবা এলাকায় শত শত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই এলাকায় আগে সহিংস ঘটনা ঘটেছিল। তিউনিসের সব এলাকাতেই দোকানপাট বন্ধ ছিল। অধিকাংশ গণপরিবহনই গতকাল চলেনি। এ ছাড়া তিউনিস-কার্থেজ বিমানবন্দরে বেশ কিছু নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
তিউনিসিয়ার গত ৩৫ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম সাধারণ ধর্মঘট। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, শনিবার ও রোববার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা তিউনিসে তাদের বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিতে পারে। বিবিসি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন