রাজস্বের দ্বিগুণ ঘুষ লেনদেন হয় আফগানিস্তানে!

| তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

আফগানিস্তানে ঘুষ লেনদেন বেড়েছে। জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটিতে নানা ক্ষেত্রে ৩৯০ কোটি ডলার ঘুষ লেনদেন হয়। এই অর্থ দেশটির মোট রাজস্বের দ্বিগুণ।
গত বৃহস্পতিবার ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘আফগানিস্তানে দুর্নীতি: সাম্প্রতিক পন্থা ও প্রবণতা’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সাল থেকে সে দেশে দুর্নীতি ৯ শতাংশ কমেছে। কিন্তু গত বছর ঘুষ দেওয়ার পরিমাণ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রতিনিধি জাঁ-লাক লেমাহিইউ বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত, বেশির ভাগ আফগান নাগরিক প্রথমত ও প্রধানত নিরুপায় হয়ে ঘুষ দিয়ে থাকেন।
সাত হাজার নাগরিকের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, দেশটির অর্ধেক মানুষকে গত বছর সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো না কোনো কারণে ঘুষ দিতে হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের ৬৮ শতাংশ মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তারা কম বেতন পান বলে নানা ক্ষেত্রে ঘুষ নিয়ে থাকেন।
আফগানিস্তানে বিচারক ও সরকারি কৌঁসুলিরা সবচেয়ে বেশি বেতন পান। তা-ও মাত্র ৩০০ ডলার। দেশটির বিচার বিভাগের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ‘সবার জন্য বিচার’ নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আফগান বিচার-প্রক্রিয়ার অগ্রগতির অভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০০৯ সালে আড়াই কোটি ডলার অনুদান বাতিল করে।
নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর চিকিৎসক ও সেবিকারা সবচেয়ে কম ঘুষ গ্রহণ করেছেন। যদিও ২০০৯ থেকে এ ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের প্রবণতা বেড়েছে।
লেমাহিইউ বলেছেন, আফগান সমাজ একটি বৈষম্যমূলক সমাজ। সেখানে ঘুষ না দিলে সাধারণ নাগরিকেরা সহজে সরকারি সেবা পায় না। পেলেও এতে বিলম্ব হয়। যথাসময়ে মেলে না। আফগানিস্তানের প্রতি পাঁচজনের একজন অন্তত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান। তা করেন নীতিগত কারণে নয়, বরং বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের কারণে তাঁরা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান। আল-জাজিরা অনলাইন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন