জয়পুর সাহিত্য উৎসবেও রবীন্দ্রনাথ
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির—মহাশ্বেতা দেবী কী রকম পৃথিবী চান, কী রকম দেশ চান, তা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা উদ্ধৃত করেন। আর জয়পুর সাহিত্য উত্সবের উদ্দেশ্য কী, তা বলতে গিয়েও এই কবিতাটাই পড়লেন উদ্যোক্তারা। ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে গতকাল বৃহস্পতিবার এই উত্সবের উদ্বোধন করেন বাঙালি লেখক মহাশ্বেতা দেবী। বক্তাদের কথায় ধ্বনিত হলো বিভেদহীন, বৈষম্যহীন এক পৃথিবী স্বপ্নের কথা।
রাজস্থানের জয়পুরে গত বুধবার সন্ধ্যায় পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে দেখা গেল আলোর মিছিল। এটা আক্ষরিক অর্থেই আলোর মিছিল। বরযাত্রীরা যাচ্ছে বিয়েবাড়িতে, গাড়ির ব্যাটারি থেকে তার টেনে আলোর সৌধ হাতে নিয়ে চলেছে তারা। এত আলোশোভিত মিছিল আমি কখনো দেখিনি। বড় বড় ঘোড়া, উট—সবই রঙে, জরিতে, কাচে সাজানো।
রঙের রাজ্য রাজস্থান। আর সেখানে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত সাহিত্য উৎসবটিতে কী রকম রঙের ফোয়ারা ছুটছে, তা না দেখলে কল্পনাও করতে পারতাম না। এটিকে বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাহিত্য ‘শো’।
আগের দিন নৈশভোজ ছিল রামবাগ প্রাসাদে, যেটা এখন হোটেল, সেখানে আলো আর আলো, আতশবাজিও হলো, আমাদের যেতে হলো প্রাচীন হুডখোলা গাড়িতে চড়ে। দুই পাশে ঘোড়ায় চড়ে আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে পাগড়িপরা রক্ষীরা।
দিঘি প্রাসাদে আয়োজিত উত্সবের উদ্বোধনী দিনে দ্বিতীয় অধিবেশনে দালাই লামা এসেছিলেন। তাঁর ভাষণ শুনতে মাঠে আর তিলধারণের জায়গা নেই। গত বছর এই উৎসবে লক্ষাধিক দর্শনার্থীর সমাবেশ হয়েছিল, ব্যাপারটা আমাদের বাংলা একাডেমীর বইমেলার মতো—এত ভিড়। কিন্তু প্রত্যেক দর্শনার্থীকে নিবন্ধন করে ইলেকট্রনিক ব্যাজ বুকে ঝুলিয়ে ঢুকতে হয়েছে।
দুপুরে একটা অধিবেশন ছিল সুনীলদা স্মরণে, মানে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণা। সুনীলের লেখা থেকে বাংলা আর ইংরেজিতে পড়ে শোনালেন শর্মিলা ঠাকুর।
সেই অধিবেশনেও খুব ভিড়। জাভেদ আকতার আর শাবানা আজমি এসেছেন। সারা পৃথিবী থেকে লেখক এসেছেন শ দুয়েক। এই উৎসব চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। স্কুল-কলেজ থেকে ছেলেমেয়েরা আসছে ইউনিফরম পরে। তারা অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন অধিবেশনে। প্রশ্ন করছে আলোচকদের।
ভারতের গণিতজ্ঞ রামানুজনকে নিয়ে আলোচনা শেষে একটা বছর দশেকের শিশু প্রশ্ন করল, অঙ্ক করতে গেলে মাথা ধরে কেন? অঙ্কের সঙ্গে মাথাব্যথার কোনো সম্পর্ক আছে কি? গণিত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক দীনেশ সিং বললেন, ‘আমি ক্লাস সেভেনে অঙ্কে একশয় এক পেয়েছিলাম। তারপর ক্লাস এইটে পেয়ে গেলাম একজন শিক্ষককে, যিনি আমার অঙ্কের দুনিয়া খুলে দিলেন।’
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন







SB Saikat Barua
২০১৩.০১.২৫ ১৫:০৭বাপি দে (কলকাতা)
২০১৩.০১.২৫ ১৮:১২