চট্টগ্রাম-বরিশাল
বোলারদের কৃতিত্বে কিংসের প্রথম জয়
অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে গেলেন সামির কাদের চৌধুরী। খেলা শেষে মাঠেই তাঁকে ঘিরে ধরা জটলায় এমনকি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গেম অনের দুই বিদেশি কর্মকর্তাকেও দেখা গেল। কী আন্তরিক আলিঙ্গন! কী আনন্দঘন মুহূর্ত! এবারের বিপিএলে চিটাগং কিংসের প্রথম জয়ের সাফল্য যেন তাঁদের সবার!
অথচ প্রথমে ব্যাটিং করে চিটাগং কিংস করেছিল মাত্র ৭ উইকেটে ১২৯। নাঈম-বোপারার ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর মাত্র ৭৭ রানের মধ্যে পড়েছে ৭ উইকেট। ধসটা নামিয়েছেন বরিশাল বার্নার্সের তিন পেসার কবির আলী, আজহার মেহমুদ আর শফিউল ইসলামের বোলিং। তিনজনই পেয়েছেন ২ উইকেট করে। ৭৭ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর রায়ান টেন ডেসকাট ও ওরামের ৩৭ রানের জুটি এক শ পার করায় দলকে।
চিটাগং কিংসের টানা তৃতীয় পরাজয়ই তখন ম্যাচের সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি। কিন্তু প্রায় দর্শকশূন্য নিষ্প্রাণ গ্যালারির সঙ্গে তাল মিলিয়েই ছন্নছাড়া ব্যাটিং করল বরিশাল বার্নার্স। উইকেটে একটু টার্ন পেয়ে এনামুল ও আরাফাত সানি হয়ে উঠলেন দুর্দান্ত। অধিনায়ক ব্র্যাড হজ ২৫ বলে ৩৪ করলেন। বাকিদের মধ্যে সর্বোচ্চ অলক কাপালির ১২, সেটাও ২০ বলে! বড় জুটি বলতে ওপেনিংয়ে মাস্টার্ড-হজের ২৪। চার ম্যাচে বরিশাল বার্নার্সের এটা তৃতীয় হার।
জেতার পরও ব্যাটিং নিয়ে হতাশার কথা জানালেন চিটাগং কিংসের কোচ খালেদ মাহমুদ। বরিশাল বার্নার্সের অধিনায়ক হজ হতাশ ভালো শুরুর পরও হেরে যাওয়ায়, ‘১৩০ রান তাড়া করে জেতা উচিত ছিল আমাদের। কালকের (পরশু) ম্যাচে বোলিং ভালো না হলেও আজ (গতকাল) বোলিং ভালো হয়েছিল। কিন্তু ব্যাটিংটা হয়ে গেল একদম সাদামাটা।’
গতবার প্রথম বিপিএল বেশ জমজমাট হলেও এবার সবকিছুই কেমন বিবর্ণ। হজ সেটা স্বীকার করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম হচ্ছে মানতে রাজি নন, ‘আমি বলব না প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম হচ্ছে। সবাই তো জিততেই চায়। গতবার অনেক ভালো ভালো পাকিস্তানি খেলোয়াড় ছিল। তাদের পরিবর্তে এবার যারা এসেছে তারাও ভালো। আসলে কারা খেলছে সেটা ব্যাপার নয়, বরং কন্ডিশনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গতবার অনেক জমজমাট ছিল টুর্নামেন্টটা। এবার অনেক সাদামাটা।’
সাদামাটা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ খাঁ খাঁ গ্যালারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে খুলনায় কাল এমনিতেই ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পড়েই কি না বিপিএল কাল আরও দর্শক হারাল। প্রথম দুই দিন গ্যালারিতে তবু এক-দেড় হাজার দর্শক ছিল, কাল সকালের ম্যাচে শ খানেক হলো কি না সন্দেহ। অথচ গ্যালারির দর্শক-খরা ঘোচাতে কী চেষ্টাটাই না করছে টিকিট বিক্রির স্বত্ব পাওয়া একটিভ সার্ভিসেস! গত দুই দিন খুলনা নগরে দেখা গেছে ‘টিকিটের ফেরিওয়ালা’। গাড়িতে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির চেষ্টা হয়েছে বিপিএলের টিকিট। দর্শকেরা তবু বিপিএল থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার সিদ্ধান্তেই অটল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগং কিংস: ২০ ওভারে ১২৯/৭ (নাঈম ১৯, বোপারা ৩৮, টেলর ১৪, মাহমুদউল্লাহ ৩, ডেসকাট ২৩, ওরাম ১৮, কুপার ৬*, হাসান ০, মেহরাব জুনিয়র ৪*; নাজমুল অপু ০/২২, কবির ২/২৭, সানি ১/১৮, আজহার ২/২২, অলক ০/৭, শফিউল ২/২৪, হজ ০/৬)। বরিশাল বার্নার্স: ২০ ওভারে ১০৮/৯ (মাস্টার্ড ৭, হজ ৩৪, ডেনলি ৪, আজহার ৫, অলক ১২, সাব্বির ৫, কবির ৮, শুভাগত ৬, সানি ০, শফিউল ১০*, নাজমুল ৪*; ওরাম ১/১৮, মাহমুদউল্লাহ ০/১৫, কুপার ২/১৮, এনামুল জুনিয়র ২/১২, ডেসকাট ০/১১, আরাফাত ২/২৩, বোপারা ১/৮)। ফল: চিটাগং কিংস ২১ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রবি বোপারা।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন








সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন