ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কূটনীতিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং
মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রত্যাশা
ন্যায়বিচারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শ্রদ্ধাশীল থাকবে বলে আশা করে সরকার। তাই ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ দেশের মানুষের অনুভূতির প্রতি তাদের সমর্থন ও সহানুভূতি থাকবে বলেও মনে করছে সরকার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম রায় সম্পর্কে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি গতকাল বৃহস্পতিবার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতদের ওই ব্রিফিংয়ে দীপু মনি এও বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার-প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গঠনমূলক পরামর্শ পেলে সরকার তাকে বরাবরের মতো স্বাগত জানাবে।
গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ ব্রিফিংয়ের শুরুতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় দোসরদের নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। এরপর বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে গত সোমবারের প্রথম রায়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বিফ্রিং সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নিক ল সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কনিষ্ঠ মন্ত্রী ব্যারনেস ভার্সি এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমি তা পুনর্ব্যক্ত করছি।’
গত মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে ব্যারনেস ভার্সি বিচার-প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সততা, স্বাধীনতা ও সুনাম বজায় রাখতে ট্রাইব্যুনালকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
যুদ্ধাপরাধের প্রথম রায়ের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের একাংশের নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকালের ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন, যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নিক ল, কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা।
ভারতের প্রতিক্রিয়া: ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে ক্ষতিগ্রস্তরা কিছুটা হলেও বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি গতকাল রাজধানীর একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে এ মন্তব্য করেছেন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন