নোয়াখালীতে জাল দলিল করে অন্যের জমি বিক্রির অভিযোগ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভুয়া ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে জাল দলিল তৈরি করে অন্যের জমির মালিক হয়ে তা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জালিয়াতির শিকার নুর মোহামঞ্চদ ভুট্টো বাদী হয়ে নোয়াখালীর বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, উপজেলার চরবাটা গ্রামের খলিলের রহমানের ছেলে নুর মোহাম্মদ ভুট্টো একই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মাঈন উদ্দিনের কাছ থেকে গত ১০ ডিসেম্বর সাব কবলা দলিলমূলে পশ্চিম চরবাটা মৌজার ১০৯১ ও ১০৪৯ দাগে এক একর ২০ শতাংশ জমি কেনেন এবং তা চরবাটা ভূমি অফিসের মাধ্যমে নিজ নামে পৃথক জমাখারিজ করেন।
নুর মোহাম্মদ ওই জমির দখল বুঝে নিতে গেলে পশ্চিম চরবাটার গোরাঙ্গ চন্দ্র দাসের ছেলে বাবলু চন্দ্র দাস ওই জমি তাঁদের বলে দাবি করেন। এ সময় বাবলু ওই জমি চরবাটার বেচারাম চন্দ্র নাথের ছেলে বিপ্লব চন্দ্র নাথের কাছ থেকে গত ৫ মার্চ (১৯৯৪ সালের ৯ মে তারিখের ৮৩৯৪ নম্বর দলিলমূলে) ১১ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন জানিয়ে তাঁকে একটি দলিলের নকল দেখান।
নুর মোহাম্মদ জানান, ওই নকলে দেখা যায়, ৮৩৯৪ নং দলিলের দাতা শামছুল আলম এবং গ্রহীতা সুখলাল চন্দ্র নাথ। পরবর্তী সময়ে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড বিভাগে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ১৯৯৪ সালে শামছুল আলম দাতা হয়ে কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করেননি। অথচ শামছুল আলমকে দাতা সাজিয়ে প্রথম সুখলাল চন্দ্র নাথ, তারপর যথাক্রমে বিপ্লব চন্দ্র নাথ ও বাবলু চন্দ্র দাস ওই জমির মালিক বনে যান এবং তিনজনই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে পৃথক জমাখারিজ খতিয়ান খোলেন।
জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাবলু চন্দ্র দাসও বিপ্লব চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে গত ৫ ডিসেম্বর চরজব্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটির এখনো তদন্ত চলছে বলে থানার উপপরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান।
তবে বিপ্লব চন্দ্র নাথ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি বৈধভাবেই জমির মালিক হয়েছেন এবং পরে বিক্রি করেছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে জাল দলিল সৃজন, প্রতারণা ও জালিয়াতির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জামসেদ আলম বলেন, সুখলাল যে দলিলমূলে জমির মালিক হয়েছিলেন, তা এরই মধ্যে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তাই সুখলাল চন্দ্র নাথ, বিপ্লব চন্দ্র নাথ ও বাবলু চন্দ্র দাসের নামে তৈরি জমাখারিজ খতিয়ান বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন