সাগর দস্যুদের বিচরণ ভূমি
‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচি’
বঙ্গোপসাগরে গত এক বছরে দস্যুদের হাতে প্রায় ৫০ জন জেলে নিহত হয়েছেন। অবিলম্বে সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এক মাস পরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এসব তথ্য জানান। সমিতির নেতারা বলেন, সাগর অনিরাপদ হওয়ায় চলতি মাসে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ ছিল। গত মঙ্গলবার থেকে আবার মাছ ধরা শুরু হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দস্যুদের নির্মম অত্যাচারে এখন পর্যন্ত বহু জেলে প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাগরে অভিযান চালায়। এতে দস্যুদের উৎপাত কিছুটা কমে। পরে আবার দস্যুতা বেড়ে গেছে।
সমিতির মহাসচিব আমিনুল হক জানান, বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া, মহেশখালী, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, হাতিয়াসহ পুরো উপকূলীয় এলাকা দস্যুদের বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে দস্যুদের অত্যাচারে প্রায় ৫০ জন মাঝিমাল্লা নিহত এবং আরও ২০০ আহত হন। কিছুদিন আগে সোনাদিয়ায় রোহিঙ্গা দস্যুদের হাতে ১১ জন বাংলাদেশি জেলে নিহত হয়েছেন।
আমিনুল হক আরও জানান, শীতকালে কোরাল ও লাক্ষ্যা মাছ ধরার মৌসুম। কিন্তু দস্যুদের ভয়ে চলতি মাসে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ ছিল। দুয়েক দিন ধরে আবার সাগরে বোট যাওয়া শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সাগরে দস্যুতা বন্ধ না হলে মাছ ধরা বন্ধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় ৩০ হাজার বোট সাগরে মাছ ধরে। এর মধ্যে নিবন্ধিত মাছ ধরার নৌকার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সাগরের সোনাদিয়ায় জাম্বু ও নাগু বাহিনী, মহেশখালীতে সরোয়ার বাহিনী, বাঁশখালীতে লোকমান বাহিনী ও কুতুবদিয়ায় রমিজ বাহিনী দস্যুতা করে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সহসভাপতি আবুল হাশেম, অর্থসচিব জসিম উদ্দিন এবং মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আবদুচ ছাত্তার সওদাগর।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন