নরসিংদীতে পতিক উল্লাহ হত্যা

মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই, উদ্বিগ্ন পরিবার

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী | তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য ও পলাশ উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি পতিক উল্লাহ খুন হওয়ার পর ২৪ দিন চলে গেলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। এতে করে নিহতের পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, মামলার তদন্ত ‘সন্তোষজনকভাবে’ এগিয়ে যাচ্ছে।
পতিক উল্লাহ তাঁর কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে ১ জানুয়ারি দুপুরে পলাশের ঘোড়াশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১৫-২০ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে রামদা, চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে পতিক উল্লাহকে কুপিয়ে জখম করে। পতিক উল্লাহকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার পরের দিন পতিক উল্লাহর ছেলে মিলন উল্লাহ বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন: তৌফিকুল ইসলাম (তৌফিক), সানোয়ার হোসেন, হিরন মিয়া, ফয়সাল আহমেদ, চান মিয়া, আলামিন মিয়া, জেসি আহমেদ, ওমর আলী, ইমন মিয়া, মন্টু মিয়া, তুহিন মিয়া, সোহেল আহমেদ, মহিউদ্দিন আহমেদ, সাব্বির হোসেন, মামুন মিয়া, রুবেল মিয়া ও দুলাল মিয়া। তাঁরা সবাই ঘোড়াশাল এলাকার মিয়াপাড়া ও চরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। নিহতের পরিবারের দাবি, এঁরাই ‘প্রকাশ্যে’ পতিক উল্লাকে হত্যা করেছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর ৩ জানুয়ারি ভোরে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত ১০ নম্বর আসামি ইমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতের ছোট ভাই মতি উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলা করার পর মাত্র এক দিন পুলিশ এলাকায় এসেছে। এমনকি মামলার তদন্তে পুলিশ ঘোড়াশাল এলাকায়ও গেছে বলে আমার জানা নেই।’
আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মিলন উল্লাহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে সংগঠিত হয়েছে, হত্যাকারীরা সবাই চিহ্নিত। আমরা এটাই পুলিশকে বলে যাচ্ছি। তার পরও তারা কেন আসামিদের ধরছে না, তা বুঝতে পারছি না।’
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পলাশ থানার উপপরিদর্শক সরকার আবুল কালাম আজাদ গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্তও সঠিকভাবে এগিয়ে চলেছে।’
নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, তদন্ত সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আসামিরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় তাঁদের ধরা যাচ্ছে না। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন