শিরোনাম:

ধরমপাশা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র

লোকবল ওষুধ সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

সালেহ আহমদ, ধরমপাশা (সুনামগঞ্জ) | তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত ধরমপাশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে ১১টি কর্মকর্তা-কর্মচারী পদের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছেন মাত্র তিনজন। রয়েছে ওষুধের সংকট। এতে করে এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যালয়ে একজন ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস), একজন লাইভস্টক অ্যাসিস্ট্যান্ট (ইউএলএ), একজন কম্পাউন্ডার, একজন ড্রেসার, তিনজন ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (মাঠকর্মী) ও একজন এমএলএসএসের পদ শূন্য। মাঠকর্মী হুমায়ুন কবীর ২০০০ সালের ২৬ অক্টোবর এখানে যোগ দেন। তিনি ২০০২ সালের ২ এপ্রিল প্রেষণে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চলে যান। ৬ জানুয়ারি সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বদলি হলে মাঠকর্মী শূন্য হয়ে পড়ে এ কেন্দ্রটি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলে গবাদিপশুর পাতলা পায়খানা ও পেটফোলা রোগের গুঁড়ো ছাড়া বিনা মূল্যে আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। টিকা প্রদানেও অতিরিক্ত টাকা রাখা হয়। এ ছাড়া, গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন ফি প্রথমবার ৩০ টাকা ও দ্বিতীয়বার বিনা মূল্যে করে দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এ কাজে প্রতিবার ৮০ থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের হাওর এলাকার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক মো. সোলায়মান মিয়া (৪৫) বলেন, ‘টেহা ছাড়া এহানে কুনু (কোনো) কাম অয় না। টেহা না দিলে ওষুধ (ভ্যাকসিন) শেষ অইয়া গেছে কইয়া কইয়া সময় পার করা অয়।’ চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো মাঠকর্মীকে এলাকায় আসতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে গবাদিপশুর চিকিৎসা নিতে হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
কৃত্রিম প্রজননকর্মী স্বদেশ চন্দ্র সাহা দাবি করেন, কৃত্রিম প্রজননে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ওষুধস্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। টাকা ছাড়া চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না—এ কথাটি ঠিক নয়। অনিয়মে এ কার্যালয়ের কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানকার যাবতীয় সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ কেন্দ্রটির যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন