‘রাজনৈতিক চাপে’ এসএসসির নতুন ৩০টি পরীক্ষাকেন্দ্র
বর্তমান সরকারের শেষ বছরে ‘রাজনৈতিক চাপে’ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় এবার নতুন ৩০টি কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। যদিও এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কম। একসঙ্গে এতসংখ্যক কেন্দ্র দেওয়ার নজির নেই বলে বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১০টি, কুমিল্লায় ছয়টি, নোয়াখালী জেলায় ছয়টি, ফেনীতে তিনটি, চাঁদপুরে তিনটি এবং লক্ষ্মীপুরে দুটি কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র জেলা প্রশাসকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিত করা হয়। সব মিলিয়ে বোর্ডের অধিভুক্ত ছয় জেলায় ২১২টি কেন্দ্রে এবার এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ওই পরীক্ষা শুরু হবে।
জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কুণ্ডু গোপীদাস সম্প্রতি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক চাপ নয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ৩০টি কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সময় বাঁচানোর জন্যই ওই কেন্দ্রগুলো দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদন কমিটি বসেই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ নতুন কেন্দ্রগুলো হলো: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া, আশুগঞ্জ, বিজয়নগর, কসবা, নবীনগর, সরাইল উপজেলায় একটি করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নাসিরনগরে দুটি করে; কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় দুটি, দেবীদ্বার উপজেলায় দুটি এবং চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলায় একটি করে; নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, সেনবাগ ও সুবর্ণচরে একটি করে; ফেনী সদর উপজেলা, দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে একটি করে; চাঁদপুরের সদর উপজেলা, কচুয়া ও শাহরাস্তিতে একটি করে এবং লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগঞ্জে একটি করে কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গৈয়ারভাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ে এবার পরীক্ষাকেন্দ্র দেওয়া হয়। এর দুই কিলোমিটারের মধ্যে ছোটশরীফপুর উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র। অন্যদিকে দেবীদ্বার মফিজউদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের লাগোয়া একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ এ বি এম গোলাম মোস্তফার বাবার নামে ওই বিদ্যালয় হওয়ায় সেখানে পরীক্ষাকেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে ওই পরীক্ষাকেন্দ্র দেওয়া নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ১৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। এ বছর ৩০টি কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারদলীয় সাংসদ, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদবিরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড রেকর্ডসংখ্যক নতুন পরীক্ষাকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের আবেদনপত্রে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সাংসদদের সুপারিশ রয়েছে।
বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে এবার ৭১৫ জন কম। তার পরও ৩০টি কেন্দ্র বাড়ানো অযৌক্তিক। ২০১২ সালে এসএসসিতে অংশ নিয়েছিল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৯৫ জন। এবার অংশ নিতে যাচ্ছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৮০ জন।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে বোর্ডে আবেদন করা হয়। এরপর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়। আমরা আবেদন ফরমগুলো চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে উপস্থাপন করি। তিনি আমাদের সঙ্গে বসেই কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়ে থাকেন। এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন কেন্দ্র দেওয়া হয়।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন