সাপের কামড়ে সাপুড়ের মৃত্যু
৩০ বছর ধরে সাপ ধরে ও খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের চরকইজুড়ি গ্রামের সাপুড়ে আবদুল খালেক (৫৫)। গত বুধবার বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মামুদপুর গ্রামে সাপ ধরতে এসে সাপের কামড়েই মারা গেলেন তিনি।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুদপুর গ্রামের একটি বাড়িতে তিনটি গোখরা সাপের উৎপাতে বাড়ির মালিক রবিউল অন্যত্র বসবাস করা শুরু করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বিষধর ওই সাপের নিঃশ্বাস থেকে তাঁদের বাড়ির লোকজনের মৃত্যু হবে। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন তরুণ রবিউলের এ বিশ্বাসকে পাত্তা দিতেন না। ওই তরুণেরা বুধবার সকাল থেকে রবিউলের বসতবাড়ির সব গর্ত খুঁড়তে থাকেন। একপর্যায়ে তিনটি গোখরার দেখা মেলে। তরুণেরা সাপ তিনটিকে একটি মাটির পাত্রে আটকে ফেলেন। এরপর সাপুড়ে আবদুল খালেককে খবর দেওয়া হয়। বেলা দুইটার দিকে এসে তিনি মাটির পাত্রটি খোলেন। এ সময় একটি সাপ তাঁর আঙুলে কামড় দেয়। এরপর কষ্ট সহ্য করেও তিনি ঝাড়ফুঁক চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে খালেক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন আরেকজন ওঝা। তিনিও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটার দিকে খালেককে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খালেকের চাচা খয়বর জানান, ৩০ বছর ধরে খালেক গ্রামগঞ্জে সাপ ধরাসহ হাটে-বাজারে সাপের খেলা দেখাতেন। সাপ ধরায় দক্ষতার জন্য তিনি লালপাগল ওঝা নামে পরিচিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন