শিরোনাম:

ফুটপাতের খবর নেই, কেটে ফেলা হলো ৫৩টি গাছ

আনোয়ার পারভেজ, বগুড়া | তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ফুটপাত সম্প্রসারণের অজুহাতে কেটে ফেলা হলো বগুড়া-জয়পুরহাট সড়কের ৫৩টি মূল্যবান গাছ। ২৫-৩০ বছর বয়সী গাছগুলোর বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু গোপন নিলামের মাধ্যমে গাছগুলো মাত্র ৭১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী বৃক্ষপালন কর্মকর্তার কার্যালয়।
ইতিমধ্যে সিংহভাগ গাছ কেটে নিয়েছেন নিলামকারী শহীদুল ইসলাম। গাছ কাটতে আসা শ্রমিকদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন কালাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কিন্তু কাগজপত্র দেখানোর পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে সওজের রাজশাহী কার্যালয়ের উপবিভাগীয় বৃক্ষপালন কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, ফুটপাত সম্প্রসারণের জন্য ওই সড়কের দুই পাশের গাছগুলো অপসারণ চেয়ে কালাই পৌরসভার মেয়র আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেই নিলামের মাধ্যমে উপযুক্ত দামে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।
কালাই সদরের পৌর কাউন্সিলর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ফুটপাত নির্মাণের সঙ্গে গাছ কাটার কোনো সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া পৌরসভার ফুটপাত নির্মাণের কাজ আপাতত শেষ। নতুন করে কোনো পরিকল্পনাও নেই।
কালাইয়ের ইউএনও হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, গাছগুলোর দাম কম করে হলেও ১৬ লাখ টাকা হবে। কয়েকটি গাছ ৪০ হাজার টাকা করে বিক্রির খবরও পেয়েছি।’
কালাই পৌরসভার মেয়র তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই মুহূর্তে পৌরসভায় কোনো টাকা নেই। ভবিষ্যতে অর্থ জোগান সাপেক্ষে তা নির্মাণ সম্ভব হবে। গাছ কাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়া-জয়পুরহাট সড়কের দুই পাশে ফুটপাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা চেয়ে সওজ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন বিভাগকে পৌরসভা থেকে চিঠি দেওয়া হয়। তারা ফুটপাত নির্মাণের অনুমতি দেয়।
সওজ সূত্রে জানা যায়, সড়কের দুই পাশে ৫৩টি গাছের মধ্যে ১৫টি রেইনট্রি, একটি বট, দুটি পাকুড়, দুটি কদম, দুটি নিম, দুটি শিমুল, একটি কৃষ্ণচূড়া এবং অবশিষ্ট শিশু ও অন্য গাছ।
নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের অফিস সহকারী আবু সাঈদ দাবি করেন, ৫৩টি গাছ বিক্রির জন্য গত বছরের ২৮ আগস্ট প্রকাশ্যে নিলাম ডাকা হয়। এতে ৭১ হাজার ৩০০ টাকা সর্বোচ্চ ডাক দিয়ে নিলাম জিতেন শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।
কালাইয়ের ইউএনও হাফিজুর রহমান বলেন, নিলামের নোটিশ এ উপজেলায় প্রচার করা হয়নি। না জানিয়ে গাছ কাটার কারণে শ্রমিকদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে কাগজপত্র দেখানোর পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান বলেন, গাছগুলোর বেশির ভাগই ছিল ঔষধি ও বনজ। গাছগুলো ছায়াদানের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছিল। গাছগুলো কেটে শুধু পরিবেশের ক্ষতিই ডেকে আনা হয়নি, কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার এসব গাছ পানির দরে বেচে পুকুরচুরি করা হয়েছে।
এদিকে সড়কের গাছ বিক্রির বিষয়টি নিয়ে হতবাক স্থানীয় বন বিভাগ। তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ৫৩টি গাছের মধ্যে ২০টির মালিকানা তাদের। সামাজিক বন বিভাগের কালাই রেঞ্জের কর্মকর্তা ফিরোজ বিন ইসলাম বলেন, বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি করে দেওয়া ওসব গাছের বাজারমূল্য অনেক।
সওজ বিভাগ জয়পুরহাট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান দাবি করেন, ওই সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে কালাই পৌরসভার মেয়রের ফুটপাত নির্মাণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটার জন্য বলা হয়েছিল।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন