সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসুন

শিক্ষকদের আন্দোলন

| তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ৪ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

নতুন শিক্ষাবছরের প্রথম দিনেই সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, শিক্ষকদের আন্দোলনের ব্যাপকতায় বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষকেরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট, জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ—এই তিনটি সংগঠনের ব্যানারে আলাদাভাবে তাঁরা রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি ও জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন গত বুধবার। সরকার তাঁদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছে, এসব সংগঠনের নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি জাতীয়করণ করা সম্ভব হলে তা নিশ্চয়ই অত্যন্ত সুখকর বিষয় হতো। কিন্তু আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনায় নিলে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি একযোগে জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়। সরকার কিছুদিন আগেই ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে। অনেক নিবন্ধিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। আর ইতিমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি চাকরি জাতীয়করণের। তাঁরা এ জন্য বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাস্তববাদী হয়ে ভেবে দেখা উচিত, তাঁদের এই দাবি পূরণ করা সরকারের পক্ষে এ মুহূর্তে আদৌ সম্ভব কি না।
ইতিমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পুরোটাই দিচ্ছে সরকার, উপরন্তু তাঁদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রাম কতটা বাস্তবসম্মত, সরকারের পক্ষে তা মেনে নেওয়া বাস্তবেই কতটা সম্ভব, তা তাঁদের ভেবে দেখার বিষয়। আর শিক্ষামন্ত্রী যেমনটি অভিযোগ করেছেন, এই আন্দোলনের পেছনে যদি দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে থাকে, তবে সেটা হবে নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক।
যা হোক, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেই সমস্যাটির সমাধান করা ভালো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়, এমন পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটানো দরকার।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 

খালেদ রাজ্জাক

খালেদ রাজ্জাক

২০১৩.০১.২৫ ১০:৫৭
সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়িয়েছে পাঁচগুণ, চিকিৎসাভাতা দ্বিগুণ; শুনতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু পাঁচগুণ মানে কত আর দ্বিগুণের তাৎপর্য কী? শিক্ষকদের ভিক্ষা দিয়ে তাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে সরকার! এগুলো সমস্যার কোন সমাধান নয় বরং সমস্যাকে তীব্র করে তোলার আত্মঘাতী কৌশলমাত্র। সরকার শিক্ষকদের সন্তোষজনক কিছু একটা দিয়ে দিলেই তো হয়। লুটপাটের জন্য অর্থ থাকে, শিক্ষকদের দেবার জন্য অর্থ কখনোই এদেশে থাকে না! শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলার লোকও পাওয়া যায় না!

sujanmotaleb

sujanmotaleb

২০১৩.০১.২৬ ০৮:৫১
এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী সরকারী করা হলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেশনচার্জ ও ছাত্রবেতন বাবদ যে টাকা সরকার পাবে তা দিয়ে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করার পরও ১০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে ।প্রথম- আলোকে বলব শিক্ষক নেতৃবৃন্দের কথাগুলো শোনার জন্য এবং বিবেচনা প্রসূত সম্পাদকীয় লিখার জন্য ।সরকারের পক্ষে কথা বলে বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা না করাই ভালো ।

Tuhin

Tuhin

২০১৩.০১.২৬ ১২:২৪
বেতন-ভাতা বাড়েনা, জাতীয়করন ও হয়না আবার প্রাইভেট-টিউশনী-কোচিং ও করানো যাবেনা !!! আজব !!! !!!

Muhammad Kaykobad Azad

Muhammad Kaykobad Azad

২০১৩.০১.২৬ ১৮:৫১
এমপিওভুক্ত শিকক্কেরা জাতিয়করনের দাবি করতেসে ।আবার নন এম পি ও ভুক্ত শিকক্কেরা এম পি ও ভুক্তির দাবি করতেচে। পোরথমে নন এম পি ও দের দাবি মানা উচিত ।তাচারা দেশে ২৬ হাজার পানেল ভুক্ত পেরাথমিক বিদালয়ের শিকক্কেরা অপেক্কায় আচে ।তাদের কে ও নিয়োগ দিয়ে দেয়া হোক . জারা এম পি ও ভুক্ত আচে তাদের চেয়ে দেশের বেকার দের কথা আগে ভাবা উচিত ।সরকারকে এজনন উপযুক্ত বাবসতা নিতে হবে। জাতে দেশ শিক্কায় উঁননোতো হয় । প্রথম- আলোকে আমাদের থেকে অনুরোধ থাকবে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের কথাগুলো শোনার জন্য এবং বিবেচনা প্রসূত সম্পাদকীয় লিখার জন্য।