একাল সেকাল
মধুর ক্যানটিন
-
মধুর ক্যানটিন এখন।
ছবি: জিয়া ইসলাম
-
তৎকালীন নবাবদের বাগানবাড়িই হলো আজকের মধুর ক্যানটিন। ১৯০৪ সালে তোলা ছবি।
ছবি: ফ্রিট্জ ক্যাপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবেই পরিচিত। ’৪৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলন, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—মধুর ক্যানটিন ছিল এ রকম সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অলিখিত হেডকোয়ার্টার্স।
জনশ্রুতি আছে, মধুর ক্যানটিন ছিল বাগানবাড়ির নাচঘর। তবে হাকিম হাবিবুর রহমানের মতে, এটি বাগানবাড়ির দরবারকক্ষ ছিল। এখানেই ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে নকরী চন্দ্রের ছেলে আদিত্য চন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন। আদিত্য চন্দ্র ব্রিটিশ পুলিশের কাছ থেকে ৩০ টাকার বিনিময়ে দুটি শণের ঘর কেনেন। তার একটিতে দোকান পরিচালনা করেন। আদিত্য চন্দ্রের ছেলে মধুসূদন দে ’৩৪-৩৫ সাল থেকে বাবার সঙ্গে ব্যবসার হাল ধরেন। প্রথমে এই ক্যানটিন ছিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। এর একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহূত হতো। তার উত্তর পাশে রাস্তা ঘেঁষে ছিল মধুর ক্যানটিন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরিত হলো নীলক্ষেতের কলাভবনে। আর সেই সঙ্গে মধুর ক্যানটিনও চলে এল তার পাশেই ঢাকার নবাবদের দরবার হলে।
আগে এটি মধুর স্টল, মধুর টি-স্টল, মধুর রেস্তোরাঁ—বিভিন্ন নামে ছিল। কিন্তু অচিরেই এটি মধুর ক্যানটিন নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনের বীজ রোপণের কেন্দ্রভূমি ছিল মধুর ক্যানটিন।
সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থী, ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক কর্মী—সবারই ঠিকানা ছিল মধুর ক্যানটিন। মধুসূদন দে সব প্রতিরোধ আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের সহযোগী ছিলেন। তাঁর মধুর ক্যানটিন বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলনে কখনো সরাসরি, কখনো নেপথ্যে, কখনো সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রোষানলে পড়েন মধুসূদন দে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মধুদা, তাঁর স্ত্রী, বড় ছেলে ও তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
সেই ইতিহাসসমৃদ্ধ মধুর ক্যানটিন আজও গতিময়।
সুচিত্রা সরকার
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন