আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘হয়রানির’ অভিযোগ
নদীর পোনায় ঘের করতে চান ফকিরহাটের চিংড়িচাষিরা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত নদী থেকে ধরা চিংড়ির পোনাভর্তি পাতিল উপুড় করে ফেলে দেন। কারণ, নদী থেকে পোনা ধরা নিষিদ্ধ। তবে পাতিলপ্রতি বখরা দিলেই রেহাই মেলে।
সরেজমিনে বাগেরহাটের ‘মিনি কুয়েত’ খ্যাত ফকিরহাট উপজেলার চিংড়ি চাষ এলাকায় গেলে স্থানীয় বেশ কয়েকজন এ প্রতিবেদকের কাছে এই অভিযোগ করেন। ফলতিতা এলাকার ওই চিংড়িচাষিরা দাবি করেন, প্রাকৃতিক পোনা সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা চিংড়ি চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ওই চাষিরা বলেন, একে তো প্র্রাকৃতিক পোনার দাম অনেক বেশি, তার ওপর প্রাকৃতিক পোনা সংগ্রহে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ঘুষ দিতে হয়।
চিংড়ি চাষের জন্য প্রাকৃতিক উৎস থেকে পোনা ধরা নিষিদ্ধ। ২০০১ সালে সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অন্য প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী নষ্ট হয় বলে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১ মে ফকিরহাট বাজারে কথা হয় কয়েকজন চিংড়িচাষির সঙ্গে। স্থানীয় চাষি খান ফারুক হাসান, খান লিয়াকত প্রমুখ দাবি করেন, হ্যাচারির পোনা থেকে তাঁরা সুফল পাচ্ছেন না। এ পোনার মৃত্যুর হার বেশি এবং এটা বাড়েও কম। এ জন্য অনেক বেশি দাম দিয়েও চাষিরা প্রাকৃতিক পোনা কেনার জন্য ছুটছেন।
এদিকে চাষিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ফকিরহাট গলদা-বাগদা ন্যাচারাল সমিতির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কিছুসংখ্যক মৎস্য কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রাকৃতিক পোনা ধরার বিষয়টিকে আয়-উপার্জনের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেছেন।’ তিনি বলেন, এলাকাবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাগেরহাটের ব্যবসায়ী হাওলাদার আলী আজম বলেন, ঘেরে হ্যাচারির পোনা ছেড়ে কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি চিংড়ি চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাচারির পোনার চিংড়ি ততটা বাড়ে না। আবার মৃত্যুহার ও রোগবালাই বেশি।’ আলী আজম বলেন, পোনার কারণে উৎপাদন হ্রাস পেলে তা দেশের রপ্তানি আয়েও প্রভাব ফেলবে।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, তারা আইন অনুযায়ী নদী থেকে পোনা ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দক্ষিণাঞ্চলের একজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং আইনের সংশোধন ছাড়া চিংড়িচাষিদের এ সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘হ্যাচারির পোনা ঠিকমতো বড় হয় না, এটি বিজ্ঞানসম্মত কথা নয়। এ বক্তব্য যুক্তিযুক্ত নয়।’
দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি চাষ বিষয়ে অভিজ্ঞ মৎস্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালক নিত্যানন্দ দাস বলেন, ‘হ্যাচারির বাগদা পোনার বৃদ্ধি নদীর পোনার মতোই। তবে নদীর গলদা পুরুষ পোনার বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ভালো।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগই হ্যাচারির পোনা ব্যবহূত হয়। নতুন করে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। আইন বদল করা উচিত হবে না। তবে হ্যাচারির পোনার মান আরও ভালো করার চেষ্টা করা যেতে পারে।’
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন







mizan
২০১২.০৫.১২ ১৭:১৪