প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ হচ্ছে
কুমিল্লার মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান
ছবি: এম সাদেক, কুমিল্লা
‘পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সম্মানীয় নিঃসন্দেহে। তবে এ সম্মান শুধু শিক্ষক হলেই পাওয়া যায় না, কাজ দিয়েই অর্জন করতে হয়। এ পেশায় অর্থের চেয়ে সেবাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। কারণ, শিক্ষকের হাতেই পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।’ কথাগুলো বললেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ।
শিক্ষকতা পেশার শুরু থেকেই পৃথিবীর সব দেশে এবং সমাজে সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছে। অনেক বড় ব্যক্তিও বিলাসী জীবন বা লোভনীয় চাকরি ছেড়ে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকতায়। এখন যাঁরা এই মহান পেশায় যোগ দিতে চান, তাঁদের জন্য খবর হলো, বিভিন্ন পত্রিকায় সম্প্রতি দেশব্যাপী প্রায় এক হাজার ৮০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। চাইলে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিয়ে আপনিও হতে পারেন জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একজন রূপকার।
যাঁদের আসা উচিত: ১৯৮৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পাওয়া সৈয়দ আহমেদ বলেন, ‘অনেকেই শুধু চাকরির জন্য এ পেশায় আসেন, এটা ঠিক নয়। যাঁরা এ পেশায় আসতে চান, তাঁদের মনে রাখতে হবে, এটি শুধু চাকরিই নয়, এর চেয়ে বেশি কিছু। কারণ দেশ, জাতি ও নিজের বিবেকের কাছে আপনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে এই মহান পেশার দায়িত্ব পালনে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে।’
প্রার্থীর যোগ্যতা: প্রধান শিক্ষক পদে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ধরনের প্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে। তবে একজন প্রার্থী একটিতেই আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসহ ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। এ ছাড়া যেসব প্রার্থীর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নেই, তাঁরা স্নাতকোত্তর বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হলেই আবেদন করতে পারবেন। তবে উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে যেকোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ-২ বা দ্বিতীয় বিভাগে পাস হতে হবে। প্রার্থী যে উপজেলা বা থানার স্থায়ী বাসিন্দা, সেই উপজেলার জন্যই আবেদন করতে হবে। তবে বিবাহিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বামী বা বাবার স্থায়ী ঠিকানা দুটি থেকে যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া বর্তমানে যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন—এমন ঠিকানা থেকেও আবেদন করার সুযোগ আছে। আর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
আবেদন করবেন যেভাবে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd থেকে আবেদনপত্র ও প্রবেশপত্রের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। দুই কপি পূরণ করা আবেদনপত্র ও প্রবেশপত্র ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবরে পৌঁছাতে হবে। খামের ওপর উপজেলা বা থানার নাম লিখতে হবে। আবেদনের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নাগরিকত্বের সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপিসহ পরীক্ষার ফি বাবদ ২০০ টাকার ট্রেজারি চালানের মূলকপি, চার কপি ছবি এবং বিশেষ কোটায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দিতে হবে।
নির্বাচনপ্রক্রিয়া: প্রাথামিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) মো. ফসিউল্লাহ জানান, এবারে সারাদেশে প্রায় এক হাজার ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত এবং শূন্যপদ না থাকার ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলার ২৬টি উপজেলা থেকে আবেদনের সুযোগ নেই। লিখিত ও মৌাখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। লিখিত পরীক্ষা নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা প্রতিটি জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক গঠিত কমিটির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসককে প্রধান করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পুলিশ সুপার, সরকারি কলেজের একজন অধ্যক্ষ ও উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষিকার সমন্বয়ে গঠন করা হবে লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা কমিটি।
প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রতিযোগিতা যেহেতু বেশি, তাই প্রস্তুতিও নিতে হবে খুব ভালোভাবে। প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় (৮০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক) অংশ নিতে হবে। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় চারটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকে—বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান। এখান থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় ৫ নম্বর থাকে প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফলের ওপর, বাকি ১৫ নম্বরের পরীক্ষায় প্রার্থীর উপস্থাপনা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বিষয়ে দেখা হয় বলে জানান উপপরিচালক।
বেতন স্কেল: নিয়োগ পাওয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ অনুযায়ী ৫৫০০-৩৪৫–৭-৭৯১৫-ইবি-৩৮০–১১-১২০৯৫ টাকা এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক ৫২০০-৩২০–৭-৭৪৪০-ইবি-৩৪৫–১১-১১২৩৫ টাকা পাবেন।
পেশার দায়-দায়িত্ব: মো. ফসিউল্লাহ জানান, বিদ্যালয়ের ভালোমন্দের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন প্রধান শিক্ষক। তাঁকে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি সহকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, তাঁদের নিয়মিত উপস্থিতি খেয়াল রাখা, আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করে পাঠদান, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, শিক্ষা বিষয়ে অভিভাকদের সচেতন করা, সরকারি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা—এসব কাজ করতে হবে।
আরও জানতে পারেন: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬। ফোন: ৮০৫৭৮৭৭। ওয়েবসাইট: www.dpe.gov.bd
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন